গাজীপরের শ্রীপুরে কালবৈশাখী ঝড়ের তাণ্ডবে তিনটি গ্রামে অন্তত ৪৫ ঘণ্টা ধরে বিদ্যুৎ না থকায় চরম সুপেয় পানি সংকট দেখা দিয়েছে। অপর দিকে আরও কিছু গ্রামে দীর্ঘ সময় ধরে বিদ্যুৎ না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। ফ্রিজে খাবার নষ্ট হচ্ছে। ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চার্জ ব্যাহত হওয়ায় চালকরা রাস্তায় বের হতে পারেছেন না। ফলে সংসারে অর্থ সংকট দেখা দিয়েছে।
দোকানেও মিনারেল পানির সংকট পড়ে গেছ। কোথাও পানি আছে জানলে মানুষ হুঁমড়ি খেয়ে পড়ছেন জগ বালতি কলসি নিয়ে। তীব্র ঝড়ে বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে পড়ে আছে। লাইনের তার ছিঁড়ে পড়ে আছে মাটিতে। গাছপালা ভেঙে বিদ্যুতের লাইনের ওপর আটকে পড়েছে। ফলে লম্বা সময় ধরে চেষ্টা করেও বিদ্যুৎ স্বাভাবিক করা যাচ্ছে না বলে বিদ্যুৎ অফিস জানিয়েছে।
এদিকে আরও বেশ কটি গ্রামে দেখা গেছে, বিভিন্ন কারখানা থেকে জেনারেটরের মাধ্যমে উত্তোলন করা পানির জন্য দীর্ঘ লাইন। নারী-পুরুষ শিশুরা দাঁড়িয়ে পানি সংগ্রহ করছেন।
জানা গেছে, গত বুধবার (২২ এপ্রিল) বিকালের দিকে আচমকা তীব্র আকারে কালবৈশাখী ঝড় শুরু হলে কাওরাইদ ইউনিয়নের জাহাঙ্গীরপুর,বলদিঘাট হয়দেবপুর এ তিন গ্রামে বিদ্যুৎ সরবরাহ লাইন ছিঁড়ে একাকার হয়ে পড়ে। ফলে আজ শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) দুপুরেও সেখানে বিদ্যুৎ স্বাভাবিক হয়নি। ঝড়ের আঘাতে গাছপালা ভেঙে পড়ে আছে বৈদ্যুতিক লাইনের ওপর।
এদিকে গাজীপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ ধনুয়া নতুন বাজার ও ডিবিএল গার্মেন্টস এলাকার সামনে দেখা যায়, পানির জন্য দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে আছে লোকজন। গভীর রাতেও মানুষ লাইনে দাঁড়িয়ে খাবার পানি সংগ্রহ করছেন। শিশু ও নারীদের উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো।
হয়দেবপুর গ্রামের বাসিন্দা আলম ফরাজি জানান, বিদ্যুৎ না থাকায় মোটরচালিত পানির পাম্প বন্ধ সবারই। এতে হঠাৎ করেই পানির তীব্র সংকটে পড়েছে লোকজন। খাবার পানি টয়লেন গোসল সব বন্ধ থাকছে। তিনি বলেন, এখন আগের মতো গ্রামের ঘরে ঘরে টিওবয়েল নেই। সবার বাড়িতে পানির পাম্প। ফলে বিদ্যুৎ না থকলে সবাই অচল হয়ে পড়েন। তিনি আমাদের গ্রামহ আরও দুটি গ্রামে অন্তত ৪৫ ঘণ্টা ধরে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ আছে। মানুষ প্রয়োজন মিটাতে পুকুরের পানি ব্যবহার করছে।
বাসিন্দারা জানান, পরিস্থিতি সামাল দিতে কিছু শিল্পপ্রতিষ্ঠান জেনারেটরের মাধ্যমে পানি সরবরাহের উদ্যোগ নিয়েছে। তবে জ্বালানি সংকটের কারণে অনেক জায়গায় তা নিয়মিত চালানো যাচ্ছে না। নয়নপুর এলাকার ডিবিএল সিরামিক কারখানার সামনেও একই চিত্র দেখা গেছে পানির জন্য মানুষের দীর্ঘ লাইন।
পানি নিতে আসা কয়েকজন নারী বলেন, সারাদিন পানি পাইনি। রাতে এসে লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে। পরিবারের জন্য পানি জোগাড় করা এখন বড় কষ্টের হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিদ্যুৎ না থাকায় বাড়ির পানির পাম্প বন্ধ আছে। তাই নিরুপায় হয়ে পাশের কারখানা থেকে পানি নিতে হচ্ছে।
ময়মনসিংহ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ (মাওনা জোনাল অফিসের) ডিজিএম শান্তনু রায় বলেন, ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে কাজ চলছে। সীমিত জনবল নিয়ে দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করা হচ্ছে। তীব্র ঝড়ের ফলে বহু লাইন বিনষ্ট হয়েছে। ফলে একটু দেরি হচ্ছে বিদ্যুৎ লাইন স্বাভাবিক করতে।