প্রচ্ছদ রচনা

সাহিত্য পুরস্কারের বিচারকার্য

সাহিত্য পুরস্কারের বিচারক হওয়ার দায়িত্বটি বলা যায় বিড়ম্বনাসিদ্ধ। এর প্রাপ্তিযোগ অসামান্য। বাংলা একাডেমি পুরস্কার বা একুশে পদকের কথা বাদ দিলে বলা যায়, বছরের শ্রেষ্ঠ বইটি নির্বাচনের জন্য একজন বিচারককে অল্প সময়ের ব্যবধানে বাধ্যতামূলকভাবে ত্রিশ থেকে পঞ্চাশটি বই পড়ে ফেলতে হয়। ফলে সমসাময়িক কবি-লেখকদের রচনার গতিপ্রকৃতি সম্বন্ধে ধারণা অর্জিত হয়ে যায়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে 'তরুণ সাহিত্য পুরস্কার' দেওয়া হয়ে থাকে, যদ্দরূণ তুলনামূলকভাবে কমবয়স্ক কবি-লেখকদের সম্পর্কেও সম্যক ধারণা লাভ করা যায়।

আরেকটি অর্জন হলো—এ বইগুলো প্রত্যর্পণ করতে হয় না। ফলে ব্যক্তিগত লাইব্রেরি মুফতে ভারবান হয়ে ওঠে।

বিড়ম্বনার প্রথম সূত্র হচ্ছে বিচারক হিসেবে আমার নাম ফাঁস হয়ে যাওয়া। যার ফলস্বরূপ কখনো কখনো বইয়ের প্রকাশক, এমনকি লেখক স্বয়ং ফোন করে বলেন, ‘একটু দেখবেন’। কেউ বলেন, ‘একটু খেয়াল রাখবেন’। দেখতে বা খেয়াল রাখতে সমস্যা নেই। সমস্যা হচ্ছে বইয়ের প্রতিযোগিতামূলক মূল্যায়নের ক্ষেত্রে উদার্য দেখানোর সুযোগ নেই কারণ একটি বইকে শ্রেষ্ঠতম গণ্য করার অর্থ হচ্ছে অন্যান্য বইগুলোকে শ্রেষ্ঠতম গণ্য না-করা।

বিড়ম্বনা বোধ করি যখন খুব ঘনিষ্ঠ কোনো বন্ধুর বই হ্রস্ব তালিকায় স্থান পেয়ে যায়, অথচ তুলনামূলক বিচারের মানদণ্ডে সেটি ওই বছরের জন্য শ্রেষ্ঠতম বই হিসেবে মূল্যায়ন করা যায় না।

বিড়ম্বনা বোধ করি যখন ভালো বই না থাকা সত্ত্বেও কোনো কোনো জ্যেষ্ঠ বিচারক একজন নারী লেখককে পুরস্কারের জন্য চাপাচাপি করেন।

বিড়ম্বনার চূড়ান্ত ঘটে যখন কোনো নির্দিষ্ট বইয়ের ক্ষেত্রে বিচারক হিসেবে আমার বক্তব্য কারও মাধ্যমে ফাঁস হয়ে যায়। এ রকমটি ঘটেছিল ২০১৩ বা ২০১৭ সালে। বছরের শ্রেষ্ঠ বই নির্বাচনের জন্য বিচারকমণ্ডলীর সভা অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু সেখানে আমি খালি হাতে যাইনি। আমি একটি এক্সেল শিটে প্রতিটি বইয়ের বিপরীতে বিভিন্ন সূচকে নম্বর বসিয়ে, মোট মূল্যমান নির্ণয় করে, স্বাক্ষর বসিয়ে নিয়ে গিয়েছিলাম। অন্যেরা যখন বলেন, ‘ভালো বই, ভালো লেখে, একে এক নম্বরে রাখা যায়’—তখন আমি নম্বরপত্র বের করে আলোচনা শুরু করি। এর ফলে একজন উদীয়মান প্রতিশ্রুতিময় কথাসাহিত্যিকের গ্রন্থটি সে বছর শ্রেষ্ঠ বই হিসেবে নির্বাচিত হয়নি। আমার বিরোধিতার কথা কীভাবে ফাঁস হয়েছিল তা নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব হচ্ছে না; তবে মনে আছে সভা শেষে চলে যাওয়ার সময় শামসুজ্জামান খান ভাই বললেন, ‘আপনার নম্বরপত্রটির কপি আছে? থাকলে আমাকে দিন তো।’ আমি অনুরোধটি রক্ষা করেছিলাম। তিনি দ্রুত সেটি ভাঁজ করে পকেটস্থ করেন ও চলে যান।

আমার অনুসৃত মূল্যায়ন প্রক্রিয়া সম্পর্কে পাঠক যাতে সম্যক ধারণা পেতে পারেন সেজন্য একটি কাল্পনিক নম্বরপত্রের একটি ছবি সংযোজন করছি। বলা বাহুল্য এটি কৌতুকচ্ছলে প্রণীত।

প্রধানত দুই ক্যাটাগরিতে পুরস্কার প্রদান করা হয়, যথা (ক) কবিতা ও কথাসাহিত্য এবং (খ) অন্যান্য সাহিত্যকর্ম যার মধ্যে প্রবন্ধ, গবেষণা, ইতিহাস ও মুক্তিযুদ্ধ, অনুবাদ, ভ্রমণসাহিত্য, স্মৃতিকথা ইত্যাদি হরেক শ্রেণি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বলা হয়, কবিতা ও কথাসাহিত্য হচ্ছে সৃজনশীল কর্ম এবং অন্যান্য সাহিত্যকর্ম হচ্ছে মননশীল। আপাতদৃষ্টিতে এহেন বিভাজনে কোনো সমস্যা আছে বলে প্রতীয়মান হয় না। তবে তুলনামূলক পর্যালোচনার ক্ষেত্রে এহেন দলভুক্তকরণ প্রায়শ সমস্যাসঙ্কুল হয়ে পড়ে।

কথাসাহিত্য আর কবিতা উভয়ই সৃজনশীল মাধ্যম কিন্তু অভিন্নরূপ নয়। এ কারণে একই মাপকাঠিতে দুটিকে মূল্যায়ন ন্যায় হয় না। একইভাবে প্রবন্ধের ক্ষেত্রে যেসব সূচক প্রয়োগ করা যায় সেগুলো অনুবাদের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা সমীচীন মনে হয় না। অন্যদিকে একটি ভালো প্রবন্ধ যে ধরনের মৌলিকত্ব দাবি করতে পারে শ্রেষ্ঠ অনুবাদ কর্মটি সে ধরনের মৌলিকত্ব দাবি করতে পারে না। একই রূপে, প্রবন্ধ আর গবেষণা অভিন্ন মানদণ্ডে বিচার্য নয়।

কথাসাহিত্য, কবিতা, প্রবন্ধ, গবেষণা ও অনুবাদ—এই পাঁচ শ্রেণির সাহিত্যকর্মের জন্য যে পৃথক পাঁচপ্রস্থ মাপকাঠি সুপ্রযোজ্য বলে মনে হয় তা নিম্নরূপ :

কথাসাহিত্য (গল্প ও উপন্যাস) : কাহিনী (২০%), কাঠামো (১০%), সৃজনশীলতা ও মৌলিকত্ব (২০%), চরিত্রগঠন (১০%), সংলাপ (১০%), সংহতি (১০%), গদ্যশৈলী (১০%) এবং সার্বিক আবেদন (১০%)।

কবিতা : ভাববস্তু (১০%), শব্দচয়ন (১০%), উপমা, চিত্রকল্প, প্রতীকতা ইত্যাদি (২০%), ছন্দ (১০%), সৃজনশীলতা ও মৌলিকত্ব (২০%), শিল্পরস (২০%) এবং সার্বিক আবেদন (১০%)। প্রণিধানযোগ্য যে ছড়াসাহিত্য পৃথকভাবে গণ্য করা দরকার।

প্রবন্ধ : ভাববস্তু (২০%), তাত্ত্বিক মূল্য (১০%), মৌলিকত্ব ও বিকল্পহীনতা (২০%), বিশ্লেষণ (১৫%), সংহতি (১০%), গদ্যশৈলী (১৫%) এবং সার্বিক আবেদন (১০%)।

গবেষণা : ভাববস্তু (১০%), কাঠামো (১০%), তাত্ত্বিক মূল্য (১০%), লিটারেচার রিভিউ (২০%), বিশ্লেষণ (২০%), গদ্যশৈলী (১০%) এবং মৌলিকত্ব ও বিকল্পহীনতা (২০%)।

অনুবাদ : শব্দগত মূলানুগত্য (২০%), সুরানুগত্য (১৫%), পটভূমি সচেতনতা (১৫%), শব্দচয়ন (২০%), গদ্যশৈলী (২০%), এবং সার্বিক আবেদন (১০%)।

ভ্রমণ সাহিত্য ও স্মৃতিকথা জাতীয় বই প্রবন্ধের সঙ্গে এক কাতারে মূল্যায়ন করা দুরূহ যদিও এ দুটোকেই সাধারণত মননশীল শ্রেণিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

নাটকের বই আমি কখনো মূল্যায়ন করিনি। ফলে কী ধরনের মূল্যায়নসূচক ব্যবহার করা উচিত সে সম্বন্ধে চিন্তা-ভাবনা করার সুযোগ হয়নি। এ প্রসঙ্গে দুঃখের সঙ্গে উল্লেখ করা যেতে পারে যে, এদেশে নাট্যসাহিত্যের প্রবাহটি ধীরে ধীরে ক্ষীণ হয়ে যাচ্ছে। স্মরণীয় যে, ২০২৩ সালে নাটক শাখায় বাংলা একাডেমি কাউকে পুরস্কার প্রদান করেনি। নাটক মানে নাটক; নাটক মানে নাটকবিষয়ক গবেষণা আদৌ নয়।

আরও উল্লেখ্য যে, বাংলা একাডেমি ছাড়া অন্য কোনো সংস্থা শিশুসাহিত্যের জন্য পৃথকভাবে পুরস্কার প্রদান করে না। শিশুসাহিত্য ভিন্ন এক প্রস্থ মূল্যায়নসূচক দাবি করে।

অনেক গবেষণা ও প্রবন্ধের ক্ষেত্রে আমরা দেখি সেগুলো কার্যত রিসাইক্লিং। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক অনেক বই বহুলাংশে রিসাইক্লিং বই কিছু নয়। পূর্বে প্রকাশিত বিভিন্ন বইয়ের তথ্য ও বিশ্লেষণ পুনর্বিন্যাস করে সেগুলো প্রণয়ন করা হয়ে থাকে। যেকোনো গবেষণাধর্মী বইয়ের ক্ষেত্রে বিচার করা দরকার বিদ্যমান রচনাবলির নিরিখে তার মূল্য সংযোজন কী রকম। রিসাইক্লিং এবং নতুন মূল্যবিহীন বই-পুস্তক পুরস্কার পাওয়ার দাবি রাখে না। বিচারকের যদি এসব বিষয়ে পঠন-পাঠন যথেষ্ট না থাকে তবে এসব বইয়ের তুচ্ছতা নিরূপণ করা কঠিন হয়ে দাঁড়াতে পারে।

আমাদের দেশে অনেক বই প্রকাশিত হয় যেগুলো মূলত সংকলন তথা সম্পাদিত। কিন্তু এ ধরনের বইয়ের জন্য কোনো পুরস্কার নেই। এ প্রসঙ্গে একটি ব্যক্তিগত উদাহরণ উল্লেখ করা যেতে পারে—২০০০ সালে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের বাংলা বিভাগ আমাকে পুরস্কার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। কেন? তারা আমার বেশ কিছু বইয়ের সম্পাদনাকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করেছিল। তাদের এই উদ্যম আমাকে বিস্মিত করেছিল।

এ ছাড়া ‘বিশেষ প্রকাশনা’ নামে একটি পৃথক শ্রেণির কথা ভাবা দরকার। জীবনী, পাঠ্যপুস্তক, পাণ্ডুলিপির পাঠোদ্ধার, অভিধান প্রণয়ন, কোষগ্রন্থ রচনা ইত্যাদি গ্রন্থগুলোকে বিশেষ প্রকাশনা হিসেবে পুরস্কৃত করার সুযোগ রয়েছে। এ প্রসঙ্গে মাহবুব সিদ্দিকীর হারিয়ে যাওয়া সোনার ধান এবং আবু দায়েম প্রণীত বাংলাদেশের নদী-অভিধান গ্রন্থদ্বয়ের কথা উল্লেখ করা যায়। দুটি পুরস্কারের ক্ষেত্রে বই দুটিকে বিবেচনা করা যায়নি দলছুট হওয়ার কারণে।

পুরস্কারের বিচার কার্যক্রম কখনো কখনো আকস্মিক বিপর্যয়ের মুখে পড়ে। একবার কোনো একটি বর্ষসেরা পুরস্কারের জন্য বিচারকমণ্ডলী শিক্ষাবিদ ও অর্থনীতিবিদ ড. মাহবুব উল্লাহর একটি বই শ্রেষ্ঠ বই হিসেবে মনোনীত করেন। তারপর দেখা গেল, প্রকৃত প্রকাশনা তারিখের সঙ্গে পুরস্কার-বৎসরের সামান্য হেরফের রয়েছে। ফলে শেষ পর্যন্ত বইটিকে হ্রস্ব তালিকা থেকেই বাদ দিতে হয়। অনেক সময় বই প্রকাশের তারিখ বঙ্গাব্দে লেখা হয় অথচ পুরস্কার দেওয়া হয় খ্রিস্টীয় বৎসরান্তে। তখন এহেন বিভ্রমের সৃষ্টি হতে পারে।

বর্ষসেরা পুরস্কারের জন্য সবসময় যথেষ্ট সংখ্যক ভালো বই সব সময় পাওয়া যায় না। এর একটি কারণ ভালো বইয়ের অভাব। কিন্তু আরও বড় কারণ হচ্ছে, অনেক প্রকাশক ৫-৬ কপি বই পুরস্কারের জন্য দাখিল করাকে অপচয় বলে মনে করেন। পুরস্কার প্রদানকারী সংস্থার দায়িত্ব হলো কোনো ভালো বই যদি প্রকাশক দাখিল না-ও করে, তবে সেটির প্রয়োজনীয় কপি বাজার থেকে কিনে বিচারকদের নিকট উপস্থাপন করা। এর জন্য পাঁচ-দশ হাজার টাকার পৃথক বরাদ্দ রাখা এমন দুরূহ বিষয় নয়।

সাহিত্য পুরস্কারের বিচারক হিসেবে আমার দায়িত্ব আমি যাদের শ্রেষ্ঠ মনে করেছি তাদের পক্ষে কথা বলা। এই দায়িত্ব আমি দৃঢ় কণ্ঠে পালন করে থাকি। তবে উচ্চস্বর মানেই সর্বদা গ্রহণযোগ্য তা নয়। একবার কোনো একটি বর্ষসেরা পুরস্কারের আমি জোর গলায় যুক্তি-প্রমাণসহ মাহমুদুল হকের ছোটগল্প সংগ্রহ মানুষ মানুষ খেলাকে ওই বছরের জন্য প্রাপ্ত গ্রন্থসমূহের মধ্যে শ্রেষ্ঠতম প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করেছিলাম। আমি ছাড়া অন্যসব বিচারক শহীদুল জহিরের আবু ইব্রাহিমের মৃত্যু উপন্যাসটির পক্ষে একাট্টা ছিলেন।

১৯৮০-র দশকে আত্মপ্রকাশের দ্বিধান্বিত ক্ষণেই শহীদুল জহির নিজেকে একজন প্রতিভাবান কথাসাহিত্যিক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। তার প্রিয় বিষয়বস্তু আধুনিক পৃথিবীতে মানুষের বিপন্ন অস্তিত্ব, যা থেকে তার পরিত্রাণ নেই। কিন্তু তার সম্পর্কে সর্বাগ্রগণ্য বিষয় হলো তার উদ্ভাবিত ভাষাভঙ্গি, যা একই সঙ্গে জটিল এবং প্রকাশশক্তিতে তুলনারহিত। দীর্ঘ বাক্যবন্ধে লঘু-গুরু শব্দের নিপুণ মিশ্রণ ধীরলয়ে তীক্ষ্ণ অভিঘাত সৃষ্টি করে। রচনাশৈলীতেও তিনি বিশিষ্ট : তার বর্ণনাভঙ্গি সর্বদর্শী নিরাসক্ত কথকের। তিনি গল্প-উপন্যাসে এমন এক আবহাওয়া সৃষ্টি করেন যা সম্পূর্ণ অভিনব, কিছুটা কৌতুকাবহ ও অধিবাস্তব। তার লেখা আবু ইব্রাহিমের মৃত্যু একটি নাতিদীর্ঘ উপন্যাস। সংক্ষিপ্ত পরিসরে অথচ গভীর পূর্ণতায় একজন মানুষের জীবনচিত্র অবধারণের এরূপ উদাহরণ খুব বেশি দৃষ্টিগোচর হয় না। তাই সহবিচারকদের সিদ্ধান্ত আমি প্রসন্নচিত্তে গ্রহণ করেছিলাম।

এ রকম অনেক ঘটনা-দুর্ঘটনা আছে। একটি পুরস্কারের ক্ষেত্রে বিচারকমণ্ডলী নিউ এইজ পত্রিকার সম্পাদক নুরুল কবিরের লেখা দ্বিরালাপ বইটিকে পুরস্কার প্রদানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। নুরুল কবির অনেক মূল্যবান বই লিখেছেন এবং পুরস্কার প্রদানের জন্য তাকে প্রস্তাব দেওয়া হলে একাধিকবার তিনি প্রত্যাখ্যান করেছেন।

কর্তৃপক্ষের সন্দেহ ছিল পুরস্কার ঘোষণা করলে শেষ পর্যন্ত তিনি পুরস্কার গ্রহণ করবেন কি-না। আমাকে বলা হলো, বিচারকমণ্ডলীর সদস্য হিসেবে আমি তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারি কি-না। অগ্র-পশ্চাৎ বিবেচনা করার অভ্যাস আমার কম। সুতরাং আমি অবিলম্বে ফোন করি এবং নুরুল কবির ভাইকে বলি যে আমরা আপনাকে দ্বিরালাপ বইটির জন্য পুরস্কার দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি; আপনি যদি দয়া করে আমাদের সিদ্ধান্ত মেনে নেন এবং পুরস্কারটি গ্রহণ করেন তবে আমরা সম্মানিত বোধ করব। পুরস্কার গ্রহণ করতে এসে নুরুল কবির ভাই বলেছিলেন, একজন বিচারক নিজে ফোন না করে কর্তৃপক্ষ ফোন করলে হয়তো তিনি পুরস্কারটি গ্রহণ করতেন না।

সাহিত্য পুরস্কারের বিচারকের দায়িত্বটি একই সঙ্গে গুরুভার ও আনন্দময়। নৈর্ব্যক্তিকতার সঙ্গে এই দায়িত্ব পালন করা শ্রমসাধ্য। তবে নির্দিষ্ট মূল্যায়নসূচক অনুযায়ী তুলনামূলক পর্যালোচনা করা হলে শ্রেষ্ঠ বইটি ন্যায্যত বেছে নেওয়া কঠিন হবে না।