১৭০৫ সালে আইজ্যাক নিউটনের মহাকর্ষতত্ত্ব ও গ্রহগতির সূত্র ব্যবহার করে এডমন্ড হ্যালি হিসাব করে দেখান, ১৫৩১, ১৬০৭ ও ১৬৮২ সালে দেখা ধূমকেতুগুলো আসলে একই ধূমকেতু। তিনি পূর্বাভাস দেন, ধূমকেতুটি আবার ১৭৫৮ সালের দিকে ফিরে আসবে। ১৭৪২ সালে হ্যালির মৃত্যু হওয়ায় নিজের ভবিষ্যদ্বাণী সত্যি হতে দেখে যেতে পারেননি তিনি। ১৭৫৮ সালের ২৫ ডিসেম্বর ধূমকেতুটি আবার দেখা যায়। পরে তার সম্মানে এর নাম দেওয়া হয় ‘হ্যালির ধূমকেতু’।
হ্যালির ধূমকেতু প্রায় ৭৫ থেকে ৭৬ বছর পরপর সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে আবার ফিরে আসে। ১৮৩৫ সালে ধূমকেতুটির আরেকবার আবির্ভাবের বছরেই, ৩০ নভেম্বর জন্ম নেন মার্ক টোয়েইন। ধূমকেতুটি ওই বছরের ১৬ নভেম্বর সূর্যের সবচেয়ে কাছাকাছি অবস্থানে পৌঁছেছিল।
বহু বছর পর, ১৯০৯ সালে, নিজের জীবনের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে টোয়েইন কৌতুক করে বলেছিলেন, ‘১৮৩৫ সালে হ্যালির ধূমকেতুর সঙ্গে আমার আগমন ঘটেছিল। আগামী বছর এটি আবার আসছে। আমি আশা করি, এর সঙ্গেই আমি চলে যাব।’ তিনি আরও বলেছিলেন, ধূমকেতুটির সঙ্গে তার জীবনের সমাপ্তি না ঘটলে সেটি হবে তার জন্য বড় হতাশার বিষয়।
টোয়েইনের এই মন্তব্য শেষ পর্যন্ত আশ্চর্যজনকভাবে সত্যি হয়ে যায়। ১৯১০ সালের ২০ এপ্রিল হ্যালির ধূমকেতু সূর্যের সবচেয়ে কাছাকাছি অবস্থানে পৌঁছায়। তার পরদিন, ২১ এপ্রিল, হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন মার্ক টোয়েইন। জন্মের বছর হ্যালির ধূমকেতুর আবির্ভাব এবং মৃত্যুর বছর তার প্রত্যাবর্তন—টোয়েইনের জীবনের সঙ্গে ধূমকেতুটির এই অদ্ভুত সমাপতন সাহিত্য ও জ্যোতির্বিজ্ঞানের ইতিহাসে আজও এক চমকপ্রদ কাহিনি হয়ে আছে।
সাহিত্যবিশ্ব
হ্যালির ধূমকেতু ও মার্ক টোয়েইনের ভবিষ্যদ্বাণী
বোদরুল হেকীম
প্রকাশ : ১৬ আগস্ট ২০২৬, ০৫:২৩ পিএম
আপডেট : ১৬ আগস্ট ২০২৬, ০৫:২৩ পিএম
গ্রাফিক্স : দেশ রূপান্তর
এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন
×
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
- ১
- ২
- ৩
- ৪
- ৫
- ৬
- ৭
- ৮
- ৯
- ১০
- ১
- ২
- ৩
- ৪
- ৫
- ৬
- ৭
- ৮
- ৯
- ১০