দেশীয় অপারেটরদের বিলুপ্ত করা যাবে না

ফজলে একরাম চৌধুরী

চেয়ারম্যান, বন্দর বার্থ অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন

চার দশকের বেশি সময় ধরে চট্টগ্রাম বন্দরের পণ্য ওঠা-নামার কাজ করছি। ২০০৭ সালে স্টিভিডোরিং প্রথা বিলুপ্তির পর বার্থ অপারেটর সিস্টেম চালু হয়েছে। সেই থেকে এখনো কাজ চলছে। কিন্তু যেভাবে চট্টগ্রাম বন্দরের টার্মিনালগুলো বিদেশি অপারেটরের কাছে চলে যাচ্ছে, সেখানে আমাদের দেশীয় অপারেটররা কোথায় যাবে?

বিদেশি অপারেটরকে বরাদ্দ দেওয়া হয়তো রাষ্ট্রীয় পলিসি। কিন্তু চট্টগ্রাম বন্দরের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় দেশীয় অপারেটরদের নিরুৎসাহিত না করলেই মনে হয় ভালো। আগামীতে বে-টার্মিনালের তিনটি টার্মিনালেই বিদেশি অপারেটর আসবে, পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল রেড সি গেটওয়েকে দেওয়া হয়েছে। পতেঙ্গার লালদিয়ায় এপি মুলার কোম্পানির মায়ের্স্ককে কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এখন এনসিটি ও সিসিটিও বরাদ্দ দেওয়ার কথা উঠেছে। এভাবে বিদেশি কোম্পানিকে বরাদ্দ দিলে তারা সফল হবে কিনা, সেটাও কিন্তু প্রশ্ন। আমরা জেনারেল কার্গো বার্থ (জিসিবি) অপারেট করছি সম্পূর্ণ ম্যানুয়েল পদ্ধতিতে। এই বার্থটি আধুনিকায়নের মাধ্যমে আমরা অপারেট করতে চাই। এজন্য দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীর মাধ্যমে একটি কনসোর্টিয়ামের আওতায় প্রায় সাড়ে ৬ হাজার কোটি টাকার একটি প্রকল্পও তৈরি করা হয়েছে। সরকারের অনুমোদন পেলে আমরা একটি আধুনিক টার্মিনাল তৈরি করতে পারব। এতে দেশের টাকা দেশেই থাকবে। অন্যদিকে গণহারে বিদেশি অপারেটরের কাছে বন্দর পরিচালনার ইয়ার্ডগুলো দেওয়া হলে একসময় দেশীয় অপারেটররা বিলুপ্ত হয়ে যাবে।