চট্টগ্রাম বন্দরের বর্ধিত ট্যারিফ পর্যালোচনা হওয়া দরকার

মোহাম্মদ আমিরুল হক

সাবেক পরিচালক, চিটাগাং চেম্বার

চট্টগ্রাম বন্দরের পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল ও লালদিয়ার চর টার্মিনাল প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানের আওতায় দেওয়া হয়েছে। এতে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। এখন আবার নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশি কোম্পানিকে দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে। এতেও আমাদের কোনো আপত্তি নেই। তবে যাই করা হউক সেগুলো যাতে উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে সকলের অংশগ্রহণের মাধ্যমে দেওয়া হয়। কিন্তু এসব প্রাইভেট কোম্পানিকে দিতে গিয়ে আমাদের ট্যারিফ বাড়িয়ে দিবেন তা কিন্তু হবে না। ট্যারিফ হতে হবে কষ্ট অব ডুয়িং বিজনেসের আলোকে। তাই ইতিমধ্যে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের যে ট্যারিফ বাড়ানো হয়েছে আমি মনে করি এই ট্যারিফ পর্যালোচনা হওয়া দরকার। একইসাথে চারগুণ স্টোররেন্ট কার্যকর তো ব্যবসার গতিকে পেছনে থেকে টেনে ধরবে। তাই এই বিষয়গুলো অবশ্যই পর্যালোচনা করে যুগোপযোগী করা প্রয়োজন।

চট্টগ্রাম বন্দরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ টার্মিনাল হলো বে টার্মিনাল। হালিশহর সাগর পাড়ে বে টার্মিনাল নির্মাণের কথা আমরা সেই ২০১২ থেকে শুনে আসছি। শুরুর দিকে প্রকল্পটি ২০১৮ সালে বাস্তবায়ন হতে পারে বলে আমাদের শোনানো হয়েছিল। পরবর্তীতে ২০২২, ২০২৪ ও ২০২৬ সালে অপারেশনে আসার গল্প তৎকালীন সরকারের মন্ত্রী ও চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানের দায়িত্বে থাকা কর্তারা শুনিয়েছিলন। কিন্তু এখন পর্যন্ত এর নির্মাণ কাজ শুরুই হয়নি। সরকারের দায়িত্বে থাকা কর্তারা আমাদেরকে মিথ্যা আশ্বাস দিয়েছেন।

একটি দেশে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সেই দেশের বন্দরের গ্রোথ বিবেচনায় এনে থাকে। বন্দরের সেবা কেমন দেখে। কিন্তুু দুর্ভাগ্যজনক সত্য হলো আমরা এখনো বিশ্বমানের বন্দর হতে পারিনি। বেসরকারি পর্যায়ে কেউ বন্দর চালায় না বলে আমাদের চট্টগ্রাম বন্দরের সেবায় সন্তুষ্ট থাকতে হচ্ছে। যদি বেসরকারি পর্যায়ে কেউ বন্দর পরিচালনা করতো তখন তুলনা করা যেতো। কিন্তু এখানে সেই সুযোগ নেই। এই বন্দরের পরিষেবায় মাস্টার মেরিনার, সাপ্লাই চেইন, লজিস্টিক সাপ্লাই ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রিধারী কতোজন আছেন? এছাড়া একাউন্স ও ফিনান্সিয়াল এনালাইটিক্যাল ডিগ্রিধারী কতোজন মানুষ আছেন এই বন্দরে? যারা অর্থনীতি ও বন্দরের প্রবৃদ্ধি নিয়ে গবেষণা করে কাজ করবে। সেই দক্ষ মানব সম্পদ কোথায়?

বন্দরের পরিচালনায় বেসরকারি পর্যায়ের প্রতিনিধিদের যুক্ত করতে হবে। এরমধ্যে অবশ্যই এফবিসিসি, বিজিএমইএ ও চট্টগ্রাম চেম্বার কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধিদের বন্দর পরিচালনায় যুক্ত করে প্রতি ১৫ দিন অন্তর অন্তর বন্দর ব্যবহারকারীদের নিয়ে মিটিং করা প্রয়োজন।

তবে বন্দরের টার্মিনালগুলো অপারেটরের জন্য শতভাগ বিদেশি কোম্পানিকে না দিয়ে দেশি বিদেশি জয়েন্ট আকারে বরাদ্দ দেয়া যায়। এতে দেশে দক্ষ জনশক্তি যেমন গড়ে উঠবে তেমনিভাবে দেশের প্রভাবও থাকবে।