ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিবিরের বিক্ষোভ

শাহবাগ থানার ভেতরে ‘মব’ তৈরি করে শিবির ও ডাকসু নেতৃবৃন্দ এবং সাংবাদিকদের ওপর হামলা এবং ‘গুন্ডাবাজি’ এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে থানায় অহেতুক হয়রানির প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ছাত্রশিবির। 

শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি চত্বর হতে এ বিক্ষোভ কর্মসূচি শুরু হয়। টিএসসি হয়ে কলা ভবন হতে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) কার্যালয়ের সামনে গিয়ে সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।

মিছিলে ‘চাঁদাবাজি করে কোন দল, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল’, ‘শিক্ষা আর সন্ত্রাস, একসাথে চলে না’, ‘রামদা আর সন্ত্রাস, একসাথে চলে না’ প্রভৃতি স্লোগান দিতে দেখা যায়। বিক্ষোভ মিছিল শেষে সমাবেশে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগা, প্রচার সম্পাদক ও ডাকসু জিএস এসএম ফরহাদ, ছাত্রকল্যাণ সম্পাদক রেজাউল করিম শাকিল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সভাপতি ও ডাকসু এজিএস মহিউদ্দিন খান ও ফেইক ফটোকার্ড কান্ডে ভুক্তভোগী আব্দুলাহ আল মাহমুদ বক্তব্য প্রদান করেন।

ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগা বলেন, আমাদের ভাই আব্দুল্লাহ আল মাহমুদের ওপর ঢাবি ছাত্রদলের সভাপতি গণেশচন্দ্র রায় সাহসের নেতৃত্বে থানায় হামলা চালিয়েছে ছাত্রদলের সন্ত্রাসীরা। আমরা বিগত ফ্যাসিবাদের আমলেও একদিনে এতগুলো সাংবাদিকের ওপর হামলা হতে দেখিনি। তারা যে নোংরা ফটোকার্ড ছড়িয়েছে, সেই ফটোকার্ড যাদের প্রোফাইলে থাকে তাদের ব্যক্তিত্ব নিয়ে আমাদের সন্দেহ রয়েছে। বিভিন্ন ফ্যাক্ট চেকিং প্রতিষ্ঠান সেটিকে মিথ্যা বলে চিহ্নিত করেছে। আমরা দেখছি হলগুলোতে আদু ভাইদের উঠিয়ে পুরোনো গণরুম-গেস্টরুম কালচার ফিরিয়ে আনার অপচেষ্টা করা হচ্ছে। 


ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক ও ডাকসু জিএস এসএম ফরহাদ বলেন, ছাত্রদলের কর্মকাণ্ড দেখলে আমার হাসি পায়। তারা এখনো নব্বইয়ের দশকে বসবাস করছে। ঈশ্বরদী কলেজের পূর্বঘোষিত কর্মসূচিতে তারা হামলা চালিয়েছে। কেন? কারণ তারা চায় শিবির তাদের ওপর হামলা করুক। তারপর তারা পত্রিকায় ন্যারেটিভ তৈরি করে ক্যাম্পাস দখল করবে। কিন্তু এটা ২০২৬, নব্বইয়ের দশক নয়।


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের প্রতি তিনি আহ্বান জানান, আমাদের মাননীয় উপাচার্যকে বলতে চাই, এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে দুই ধরনের উপাচার্য রয়েছে। একজন ভিসিকে দায়িত্ব নিয়ে পালিয়ে যেতে হয়েছে। আরেকজনের জন্য শিক্ষার্থীরা অশ্রুসিক্ত নয়নে রাত জেগে দোয়া করেছে। আপনি ঠিক করুন, আপনি কোনটি হবেন।

ছাত্রশিবির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সভাপতি ও ডাকসু এজিএস মুহা. মহিউদ্দিন খান বলেন, আমরা এক আজব দেশে বসবাস করছি। একজন শিক্ষার্থী নিরাপত্তার জন্য থানায় অভিযোগ জানাতে গিয়েছে, তখন প্রশাসন সন্ত্রাসী বাহিনী ডেকে এনে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালিয়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন যা জুলাই পরবর্তী সময়ে গঠিত হয়েছে। কিন্তু গতকালের ঘটনায় আমরা তাদের আওয়ামী প্রশাসনের ভাষায় কথা বলতে দেখেছি। আমরা জাতীয় সংসদের পরবর্তী অধিবেশনে দেখতে চাই, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ঢাবি ছাত্রদলের সভাপতি গণেশচন্দ্র রায় সাহসের নেতৃত্বে সংঘটিত মবের বিরুদ্ধে তিনি ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বলেন, গতকাল যখন আমি পড়াশোনায় ব্যস্ত ছিলাম, হঠাৎ আমার মেসেঞ্জারে হত্যার হুমকি আসতে থাকে। আমি নিরাপত্তার জন্য শাহবাগ থানায় মামলা করতে গেলে সেখানে ঢাবি ছাত্রদলের সভাপতি গণেশচন্দ্র রায় সাহসের নেতৃত্বে একদল ছাত্রদল কর্মী আমাকে হত্যার হুমকি দিতে থাকে। পুলিশ আমার জিডি তো নেইনি, উল্টো আমাকে এক রাত থানায় বসিয়ে রেখে হয়রানি করা হয়। আজ সকালে তারা শুধু একটি সাধারণ অভিযোগ  নিয়েছে। আমরা ভেবেছিলাম, ৫ আগস্টের পর পুলিশ পরিবর্তন হয়ে গেছে। কিন্তু পুলিশলীগ শুধু পুলিশদলে পরিণত হয়েছে।