চীন-রাশিয়ার পারমাণবিক শক্তি বৃদ্ধি নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ

জোটভুক্ত ধনী দেশগুলোর সংগঠন জি সেভেন রাশিয়া ও চীনের ক্রমবর্ধমান পারমাণবিক অস্ত্র সক্ষমতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। একই সঙ্গে পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধে আন্তর্জাতিক চুক্তির প্রতি তাদের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে।

শুক্রবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জি সেভেনের নন-প্রলিফারেশন ডিরেক্টরস গ্রুপ জানায়, 'চীন ও রাশিয়ার উল্লেখযোগ্য পারমাণবিক সম্প্রসারণ এবং তাদের অস্ত্রভাণ্ডারের ধারাবাহিক আধুনিকীকরণ নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন।' এই গ্রুপে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি ও জাপানের কূটনীতিকরা রয়েছেন, যারা বিশ্বজুড়ে পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার সীমিত করার প্রচেষ্টায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

সোমবার নিউইয়র্কে শুরু হতে যাওয়া এই একমাসব্যাপী সম্মেলনে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা ও ইরান ও ইউক্রেন যুদ্ধের মতো পারমাণবিক ঝুঁকিসংবলিত সংকটগুলো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে সামনে আসবে।

জি সেভেনের প্রতিনিধিরা জানান, তারা সব সদস্য দেশের সঙ্গে কাজ করে ২০২৬ সালের পর্যালোচনা সম্মেলন সফল করতে চান এবং চুক্তির তিনটি মূল স্তম্ভ, নিরস্ত্রীকরণ, পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ এবং শান্তিপূর্ণভাবে পারমাণবিক শক্তির ব্যবহার জোরদারে সর্বসম্মত অবস্থান গড়ে তুলতে আগ্রহী।

বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের বহুপাক্ষিক কৌশলগত স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকেও জোরালোভাবে সমর্থন জানানো হয়েছে।

এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিভিন্ন আন্তর্জাতিক চুক্তি নিয়ে সংশয় প্রকাশ করলেও যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও চীনের মধ্যে ত্রিপাক্ষিক একটি সমঝোতার ধারণাকে সমর্থন করেছেন। একই সঙ্গে তিনি নতুন করে পারমাণবিক পরীক্ষা শুরু করার হুমকি দিয়েছেন এবং বেইজিং গোপনে এমন পরীক্ষা চালাচ্ছে বলেও অভিযোগ তুলেছেন। এর আগে অনুষ্ঠিত দুইটি সম্মেলনেই ১৯১টি স্বাক্ষরকারী দেশ চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তে একমত হতে পারেনি। ফলে এবারের বৈঠকেও একই ধরনের অচলাবস্থা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন পর্যবেক্ষকরা।