সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় ওমানের মধ্যস্থতায় অনুষ্ঠিত পরোক্ষ বৈঠকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র সম্ভাব্য পারমাণবিক চুক্তির দিকে অগ্রগতির ইঙ্গিত দিয়েছে। তবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মতভেদ এখনো কাটেনি।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, বৈঠকে ভালো অগ্রগতি হয়েছে এবং একটি সম্ভাব্য চুক্তির জন্য নির্দেশনামূলক নীতিতে বিস্তৃত ঐকমত্য হয়েছে। খসড়া বিনিময়ের পর তৃতীয় দফা বৈঠকের তারিখ নির্ধারণ করা হবে বলেও জানান তিনি।
অন্যদিকে ওয়াশিংটনে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেন, আলোচনা কিছু ক্ষেত্রে ইতিবাচক হলেও ইরান এখনো যুক্তরাষ্ট্রের নির্ধারিত 'রেড লাইন' মানতে প্রস্তুত নয়। কূটনীতি ব্যর্থ হলে সামরিক বিকল্প খোলা রয়েছে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্র চায় ইরান নিজ ভূখণ্ডে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করুক এবং আলোচনার পরিধি ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিসহ অন্যান্য ইস্যুতে বিস্তৃত হোক। তবে তেহরান স্পষ্ট করেছে, শূন্য সমৃদ্ধকরণ তারা মানবে না এবং ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা আলোচনার বাইরে।
উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র দুটি বিমানবাহী রণতরী মোতায়েন করেছে, যার একটি ইরান উপকূল থেকে প্রায় ৭০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ খামেনেই হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, প্রয়োজনে দেশটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ডুবিয়ে দেওয়ার সক্ষমতা রাখে।
এদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান পুনর্ব্যক্ত করেছেন, তেহরান পারমাণবিক অস্ত্র চায় না, তবে শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক প্রযুক্তি ব্যবহারের অধিকার থেকে সরে আসবে না। বিশ্লেষকদের মতে, পারমাণবিক ইস্যুতে সমঝোতার সুযোগ থাকলেও অন্যান্য বিষয়গুলোতে বড় ধরনের অগ্রগতি কঠিন হতে পারে।
