বিশ্বকাপ ঘিরে লুটপাটের আলামত: ফাইনালের এক টিকিটের দাম ২৮ কোটি টাকা!

ফুটবল উন্মাদনা যখন তুঙ্গে, তখন ফুটবল বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচের টিকিটের দাম শুনলে যে কারো চোখ কপালে উঠতে বাধ্য। ফিফার নিজস্ব রিসেল (পুনরায় বিক্রয়) সাইটে ২০২৬ বিশ্বকাপ ফাইনালের একটি টিকিটের দাম উঠেছে প্রায় ২৩ লক্ষ ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা অবিশ্বাস্য ২৮ কোটি ২৯ লক্ষ টাকার সমান!

নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে আগামী ১৯ জুলাই অনুষ্ঠিত হতে ফাইনাল।  সেখানকার গ্যালারির নিচতলার ১২৪ নম্বর ব্লকের ৪৫ নম্বর সারিতে গোলপোস্টের পেছনের ৩৩ থেকে ৩৬ নম্বর আসনগুলোর প্রতিটির দাম হাঁকা হয়েছে ২২ লাখ ৯৯ হাজার ৯৯৮ ডলার। 

ফিফা সাধারণত রিসেল মার্কেটে টিকিটের দাম নিয়ন্ত্রণ করে না, তবে প্রতিটি লেনদেন থেকে বড় অংকের মুনাফা লুফে নেয়। নিয়ম অনুযায়ী: ক্রেতার কাছ থেকে ১৫% ফি নেওয়া হয়। বিক্রেতার কাছ থেকে ১৫% ফি নেওয়া হয়। যদি ২৩ লক্ষ ডলারে একটি টিকিট বিক্রি হয়, তবে ফিফা শুধুমাত্র ফি বাবদই আয় করবে ৬ লক্ষ ৯০ হাজার ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৮ কোটি ৪৮ লক্ষ টাকা)।

টিকিটের দামের ব্যবধান

ফাইনাল ম্যাচের টিকিটের দামে ব্যাপক বৈচিত্র্য দেখা গেছে:

  • সর্বোচ্চ ক্যাটাগরি: ২৮ কোটি ২৯ লক্ষ টাকা (২৩ লক্ষ ডলার)।

  • স্ট্যান্ডার্ড ক্যাটাগরি: ২ কোটি ৫৪ লক্ষ টাকা (২ লক্ষ ৭ হাজার ডলার)।

  • সবচেয়ে সস্তা টিকিট: ১৩ লক্ষ ৪৩ হাজার টাকা (১০,৯২৩ ডলার), যা স্টেডিয়ামের একেবারে উপরের সারির সিট।

উল্লেখ্য, ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে টিকিটের রিসেল মূল্যের ওপর একটি নির্দিষ্ট সীমা বা ক্যাপ ছিল। কিন্তু এবার যুক্তরাষ্ট্রে কালোবাজারি রুখতে ফিফা কোনো মূল্যসীমা নির্ধারণ করেনি, যার ফলে টিকিটের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে।

অন্যান্য ম্যাচের টিকিটের দাম 

শুধু ফাইনাল নয়, সেমিফাইনাল এবং কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিটের দামও বেশ চড়া:

  • সেমিফাইনাল (টেক্সাস): ১৩ লক্ষ ৬৯ হাজার টাকা (১১,১৩০ ডলার)।

  • কোয়ার্টার ফাইনাল (লস অ্যাঞ্জেলেস): ৭ লক্ষ ৪ হাজার টাকা (৫,৭৩০ ডলার)।

  • উদ্বোধনী ম্যাচ (যুক্তরাষ্ট্র বনাম প্যারাগুয়ে): ৫ লক্ষ ৪ হাজার টাকা (৪,১০৫ ডলার)।