মঞ্চস্থ হলো ঢাকা আইনজীবী থিয়েটারের নাটক ‘ক’ মন্ডলের ফাঁসি’

হাস্যরসে ভরপুর এই নাটকের মূল চরিত্র ক’ মন্ডল। বউকে গলা টিপে হত্যার দায়ে আদালত তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়। কিন্তু ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলিয়েও তার মৃত্যু হয় না। জ্ঞান ফিরলেও স্মৃতি হারায় ক’ মন্ডল। পরে কারা কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে অভিনয়ের মাধ্যমে তার স্মৃতি ফিরে আসে। তখন ক’ মন্ডল শোনায় জীবনের সেই ভয়াবহ দিনের গল্প।

ক’ মন্ডল ছিল একজন কারখানার শ্রমিক। অন্ধ বৃদ্ধ বাবা, স্ত্রী এবং তিন সন্তানকে নিয়ে ছিল তার সংসার। হঠাৎ একদিন বন্ধ হয়ে যায় কারখানা, কর্মহীন হয়ে পড়ে ক’ মন্ডল। সংসারে নেমে আসে চরম অভাব। চাকরি না থাকায় জমানো টাকাও ফুরিয়ে যায়। ধার চাইতে গেলে কর্মহীনতার কারণে কেউ সাহায্য করে না। একে একে বিক্রি করতে থাকে ঘরের জিনিসপত্র।

এদিকে ছোট ছেলেমেয়েরা খিদের জ্বালায় কাতর হয়ে পড়ে। সন্তানদের কান্না সহ্য করতে না পেরে ক’ মন্ডলের স্ত্রী চাঁপারানি চাল চুরি করে নিয়ে আসে। কিন্তু ক’ মন্ডল চুরি করা চালের ভাত সন্তানদের খেতে দিতে রাজি হয় না। এ নিয়ে বাধা দিলে ধাক্কা দেয় স্ত্রীকে। দীর্ঘদিন অনাহারে থাকার কারণে দুর্বল শরীর সেই ধাক্কা সহ্য করতে না পেরে প্রাণ হারায় চাঁপারানি।

উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বা দুর্ঘটনাজনিত—যে কারণেই হোক, স্ত্রীর মৃত্যুর দায়ে ক’ মন্ডলের ফাঁসির সাজা হয়। তবে তার দাবি, সে হত্যাকারী নয়। তার মতে, চাঁপারানীর প্রকৃত হত্যাকারী সেই সব কারখানার মালিক, যারা কোনো কারণ ছাড়াই কারখানা বন্ধ করে দিয়ে শ্রমিকদের জীবিকা কেড়ে নেয়। গরিবের পেটে লাথি দেওয়া এসব মালিকরা সবসময় আইনের ঊর্ধ্বে থেকে যায়।

নাটকে বিচারকের ভূমিকায় ছিলেন অ্যাডভোকেট মো. আফতাব হোসেন মোল্লা। অন্যান্য চরিত্রে অভিনয় করেন—
বাদীর উকিল: অ্যাডভোকেট লিজা, আসামির উকিল: অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ ইমরান হোসেন, ক’ মন্ডল: অ্যাডভোকেট তৌকির আহাম্মেদ তাসিন, চাঁপারানি: আজমিরী আক্তার আজমি, জেলার: অ্যাডভোকেট মো. হোসাইন আহমেদ, ডাক্তার: অ্যাডভোকেট সাজ্জাদুল ইসলাম, অহীন: অ্যাডভোকেট মো. হাসান আলী, কমল: অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ ইমরান হোসেন
বাচস্পতি: অ্যাডভোকেট কামরুজ্জামান লিটন, রামসিংহ: অ্যাডভোকেট সাইফুল আলীম, কেষ্ট: অ্যাডভোকেট ডি. আই. শাওন।

যেহেতু নাটকটির সব পাত্র-পাত্রীই আইনজীবী, তাই তাদের প্রথম প্রযোজনার বিষয়বস্তুও আইন, আদালত ও আসামিনির্ভর। এতগুলো পাত্র-পাত্রীকে একত্রিত করে একটি প্রযোজনা মঞ্চে আনা বর্তমান কর্মব্যস্ত বাংলাদেশে সহজ নয়। তবুও বাস্তবতার নিরিখে দলটি সবাইকে নাটকের গভীরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছে।

পরিচালক জানান, স্বল্প অভিজ্ঞতা সত্ত্বেও তিনি শিল্পীদের ভেতর থেকে প্রকৃত অভিনয়ের নির্যাস তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন। শিল্পীরাও তার নির্দেশনা অনুযায়ী অনুশীলন করে নিজেদের সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন।