জনপ্রশাসন কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান

জনগণের সেবক ও বন্ধু হোন : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, সরকার জুলাই সনদের প্রতিটি দফা, প্রতিটি অঙ্গীকার অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়নে বদ্ধপরিকর। তিনি গতকাল শনিবার রাজধানীর বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট (বিয়াম) ফাউন্ডেশন মিলনায়তনে একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী এ সময় জনগণের ‘সেবক ও বন্ধু’ হতে জনপ্রশাসন কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশ এবং জনগণের কাছে আমরা যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়ে এসেছি, এসব স্রেফ রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি নয় বরং জনগণের সঙ্গে করা আমাদের চুক্তি। জনগণ আমাদের ইশতেহারের পক্ষে রায় দিয়েছে। সুতরাং বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার নির্বাচনী ইশতেহার এবং জনগণের সামনে স্বাক্ষরিত জুলাই সনদের প্রতিটি দফা, প্রতিটি অঙ্গীকার অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করতে বদ্ধপরিকর।’

জনপ্রশাসন কর্মকর্তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারাই নীতি নির্ধারণ এবং নীতি বাস্তবায়নের মধ্যে সেতুবন্ধ। আপনাদের সততা, কর্মদক্ষতা এবং দায়বদ্ধতাই সরকারের সাফল্যের অন্যতম ভিত্তি। আপনাদের প্রতি আমার আহ্বান নিজেদের শুধু প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে নয়, বরং জনগণের সেবক এবং বন্ধু হিসেবে ভাবুন।’

দেশের প্রশাসনকে জনমুখী করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্ব এখন আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্সের যুগে প্রবেশ করেছে। সুতরাং প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে জনপ্রশাসনের কর্মকর্তাদেরও সময়ের সঙ্গে মোকাবিলায় নিজেদের প্রস্তুত রাখা অত্যন্ত প্রয়োজন। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের এই যুগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, অটোমেশন এবং ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার আমাদের প্রশাসনকে আরও দক্ষ, স্বচ্ছ এবং জবাবদিহিমূলক গড়ে তুলবে।’

‘বিয়াম দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনিক প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা উন্নয়নে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে’ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজ যে ট্রেনিং কাম ডরমিটরি ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হচ্ছে, তা ভবিষ্যতের প্রশাসনিক নেতৃত্ব গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এই ভবন শুধু একটি অবকাঠামো নয়; এটি হয়ে উঠুক জ্ঞানচর্চা, নেতৃত্ব বিকাশ এবং অভিজ্ঞতা বিনিময়ের একটি প্রাণবন্ত কেন্দ্র। দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি বিয়ামের অন্যতম একটি লক্ষ্য।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান সরকার মেরিটোক্রেসি বাংলাদেশ বিনির্মাণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। রাষ্ট্রযন্ত্রের নিয়োগ, বদলি, পদোন্নতির ক্ষেত্রে মেধা, সততা, সৃজনশীলতা, দক্ষতা এবং অভিজ্ঞতা এগুলোকেই আমরা প্রধান বিবেচ্য হিসেবে গ্রহণ করতে চাই। স্বচ্ছতা ও দ্রুততার সঙ্গে শূন্যপদে সরকারি কর্মচারী নিয়োগ, প্রশাসনিক সংস্কার কমিশন গঠন, শক্তিশালী পাবলিক সার্ভিস কমিশন গঠন এবং বেসরকারি সার্ভিস রুল প্রণয়নসহ সর্বত্র প্রশাসনিক কাঠামোর কার্যকারিতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতেও সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।’

মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ইসমাইল জবিহউল্লাহ, মুখ্য সচিব এবিএম আবদুস সাত্তার ও বিয়ামের মহাপরিচালক আব্দুল মালেক।

শিশুদের সঙ্গে আনন্দ প্রধানমন্ত্রীর : ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের অনুষ্ঠান শেষ করেই প্রধানমন্ত্রী ছুটে যান পাশেই বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুলের শিক্ষার্থীদের কাছে। প্রধানমন্ত্রীকে কাছে পেয়ে শিশুরা আনন্দে মেতে ওঠে। প্রধানমন্ত্রীও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নানা খুনসুটিতে মেতে ওঠেন। কথা বলেন শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের সঙ্গে। এ সময় শিশুরা প্রধানমন্ত্রীর সামনে তাদের আঁকা বিভিন্ন ড্রয়িং তুলে ধরে। বড় হয়ে নিজেরা কে কী হতে চায়, সেই অভিপ্রায়ও ব্যক্ত করে শিশুরা। প্রায় ১৫ মিনিট প্রধানমন্ত্রী সেখানে অবস্থান করেন।

রেসিং কার চালালেন প্রধানমন্ত্রী : দেশীয় প্রযুক্তিতে গো-কার্ট (রেসিং কার) তৈরি করেন রিজওয়ান রশিদ নামে এক তরুণ। তিনি রেসিং কারটি নিয়ে গতকাল দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে যান তার কার্যালয়ে। প্রধানমন্ত্রী আগ্রহভরে নতুন এই যানটি পর্যবেক্ষণ করেন এবং সেটি চালিয়েও দেখেন। তিনি ওই তরুণের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতে আরও আধুনিক সংস্করণ তৈরিতে সহায়তার আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, ‘দেশের তরুণদের এমন সৃজনশীল কাজে আরও বেশি সম্পৃক্ত হওয়া উচিত।’

প্রধানমন্ত্রী নিজে গো-কার্টটি চালানোয় অভিভূত রিজওয়ান বলেন, তার বানানো গাড়ি প্রধানমন্ত্রী চালাবেন তা তিনি ভাবতেই পারেননি, এটি তাকে অনুপ্রাণিত করেছে। রিজওয়ান রশিদ জানান, গো-কার্টটি রাজধানীর মোহাম্মদপুর থেকে চালিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এসেছেন।

সম্প্রতি সামাজিকমাধ্যমে গো-কার্ট তৈরির বিষয়টি ভাইরাল হলে প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসে। পরে এ বিষয়ে খোঁজ-খবর নিতে অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়।

হকারদের দ্রুত পুনর্বাসনের নির্দেশ : গতকাল তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক থেকে উচ্ছেদ হওয়া হকারদের দ্রুত পুনর্বাসনের নির্দেশ দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, উচ্ছেদ হওয়া হকারদের জন্য সরকার বিকল্প জায়গার ব্যবস্থা করে দেবে। পাশাপাশি নিবন্ধনের মাধ্যমে হকারদের পরিচয়পত্র দেওয়া হবে, যাতে তাদের কার্যক্রম সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনা করা যায়। এ ছাড়া স্কুল-কলেজে ক্লাস শুরু ও শেষের সময় সড়কে যানজট কমাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার তাগিদ দেন প্রধানমন্ত্রী।

বৈঠকে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব শহীদুল হাসান, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার রিয়াজুল ইসলাম, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার ও ডিআইজি (ট্রাফিক) আনিছুর রহমানসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।