গ্রাম-শহরে বিদ্যুৎবৈষম্য কমাতে এবার রাজধানীতে শুরু হয়েছে লোডশেডিং। গতকাল শনিবার ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় ১১০ থেকে ১২০ মেগাওয়াট লোডশেডিংয়ের কারণে আধা ঘণ্টা থেকে ১ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ ছিল না। অন্যদিকে গ্রামাঞ্চলে এলাকাভেদে ১২ থেকে ১৬ ঘণ্টার তীব্র লোডশেডিং হচ্ছে। ভয়াবহ গরমে দীর্ঘ সময় ধরে বিদ্যুৎ না থাকায় জনজীবনে হাঁসফাঁস শুরু হয়েছে। কারখানার উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। সেচ নিয়ে উদ্বিগ্ন কৃষকরা।
চলতি মাসের শুরু থেকে গরম বাড়ছে। বৈশাখের দ্বিতীয় সপ্তাহের শুরু থেকে বয়ে চলা মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ ঢাকাসহ অন্তত ২৪ জেলায় ছড়িয়ে পড়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, এবারের গ্রীষ্মে গরম বেশি হতে পারে।
গরমের কারণে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়লেও জ্বালানি সংকটের কারণে সে অনুযায়ী বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যাচ্ছে না। ফলে গরমের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে লোডশেডিং।
সরকারি তথ্যমতে, এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ আড়াই হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ঘাটতির কথা বলা হলেও বিতরণ কোম্পানিগুলোর মতে, লোডশেডিং চার হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়েছে।
বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মপরিকল্পনা এবং জ্বালানি আমদানি পরিকল্পনা পর্যালোচনা করে খাত-সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, চাহিদামতো বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যাবে না। কারণ ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানির সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি দামও বেড়েছে। এ ছাড়া তাপমাত্রা বাড়ছে। রয়েছে অর্থ সংকট। ফলে সামনের দিনগুলোয় জ্বালানির স্বল্পতায় বিদ্যুতের চাহিদা এবং উৎপাদনের মধ্যে ফারাক বৃদ্ধি পাবে। ফলে লোডশেডিংও বাড়বে। গ্রামের পাশাপাশি শহরাঞ্চলেও লোডশেডিং বাড়াতে হবে।
বিদ্যুৎ বিভাগ জানিয়েছে, ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেল, এলএনজি ও কয়লা আমদানি বাধাগ্রস্ত হয়েছে। তবে মে মাসের শুরুতে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতি হবে।
পিজিসিবির সর্বশেষ তথ্য অনুসারে গতকাল বিকেল ৪টায় বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয় ১২ হাজার ৯০৩ মেগাওয়াট। এর মধ্যে গ্যাস দিয়ে উৎপাদিত হয় পাঁচ হাজার ২৩৫ মেগাওয়াট, তেল দিয়ে এক হাজার ৫৩ মেগাওয়াট, কয়লা দিয়ে চার হাজার ৪৩৭ মেগাওয়াট, পানি ৪০ মেগাওয়াট, বায়ু ২২ মেগাওয়াট, সৌর ২৯৭ মেগাওয়াট, ভারত থেকে এক হাজার ৫৮ মেগাওয়াট এবং আদানি থেকে ৭৬১ মেগাওয়াট।
গতকাল দেশে সর্বোচ্চ চাহিদা ধরা হয়েছিল দিনে ১৫ হাজার ৯০০ মেগাওয়াট এবং রাতে সর্বোচ্চ ১৬ হাজার ৯০০ মেগাওয়াট। পিজিসিবির সর্বশেষ ডেটা অনুসারে বিকেল ৪টায় চাহিদা ছিল ১৪ হাজার ৬৭০ মেগাওয়াট, সরবরাহ ১২ হাজার ৩৩৩ মেগাওয়াট এবং লোডশেডিং ছিল দুই হাজার ৩৩৭ মেগাওয়াট। আর গত শুক্রবার রাত ২টায় লোডশেডিং হয়েছিল দুই হাজার ৭৫৪ মেগাওয়াট। তবে এটা সরকারি হিসাব। বিতরণ কোম্পানির অভ্যন্তরীণ তথ্য অনুসারে লোডশেডিং প্রকৃতপক্ষে চার হাজার মেগাওয়াটের বেশি হচ্ছে। কারণ ৬ বিতরণ কোম্পানির মধ্যে শুধু পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (আরইবি) লোডশেডিং গড়ে তিন হাজার মেগাওয়াটের ওপরে।
ঢাকায় লোডশেডিং শুরু : ঢাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করে ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি (ডেসকো) ও ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ডিপিডিসি)। এ দুটি সংস্থার দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, দুটি সংস্থা মিলে চাহিদা প্রায় সাড়ে তিন হাজার মেগাওয়াটের কাছাকাছি। গতকাল থেকে তারাও লোডশেডিং শুরু করেছে।
ডিপিডিসিতে গতকাল সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত এক ঘণ্টা করে দুই বার লোডশেডিং করা হয়। এ সময়ে সর্বোচ্চ চাহিদা ছিল বেলা ১টায় সর্বোচ্চ দুই হাজার ৫৯ মেগাওয়াট। সরবরাহ হয়েছিল এক হাজার ৯৪৮ মেগাওয়াট। ঘাটতি ছিল ১১১ মেগাওয়াট। বিকেল তিনটায় লোডশেডিং ছিল ৭৫ মেগাওয়াট।
এদিকে ডেসকোতে বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ১ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট। বিতরণ সংস্থাটি গতকাল সোয়া ৪টা থেকে সোয়া ৫টা পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় ৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের লোডশেডিং দিয়েছে।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত সংসদে বলেছিলেন, বৈষম্য দূর করতে শহরেও লোডশেডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে ঢাকায় পরীক্ষামূলকভাবে ১১০ মেগাওয়াট পর্যন্ত লোডশেডিং দেওয়ার কথাও জানিয়েছিলেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে উৎপাদন ক্ষমতা কাগজে-কলমে অনেক বেশি থাকলেও বাস্তবতার সঙ্গে সেটির গরমিল রয়েছে।
স্বীকার করতে কোনো দ্বিধা নেই, এই উত্তপ্ত গরমে অনেককেই বিদ্যুৎ সমস্যায় নাজেহাল হতে হয়েছে। এই সমস্যা এক দিনের নয়। এই পুঞ্জীভূত সমস্যার দায় কোনোভাবেই বর্তমান নির্বাচিত সরকার কিংবা কারও নয়। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের অব্যবস্থাপনার দায় সবাইকে নিতে হচ্ছে।
জ্বালানির অভাবে ব্যাহত উৎপাদন : দেশে বর্তমানে ১৩৯টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মোট উৎপাদন ক্ষমতা ২৯ হাজার ২৬৯ মেগাওয়াট। যদিও বছরের পুরোটা সময় এ সক্ষমতার অর্ধেক অলস বসে থাকে। এসব বিদ্যুৎকেন্দ্রের ৮৮ শতাংশ তেল, গ্যাস ও কয়লানির্ভর। বর্তমানে জ্বালানি সংকটের কারণে ১৮টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন সম্পূর্ণ বন্ধ। এর মধ্যে গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্র ১০টি ও তেলভিত্তিক কেন্দ্র আটটি। এ ছাড়া উৎপাদন কমে গেছে ৩৫টি কেন্দ্রের। গ্যাসভিত্তিক ৯টি, তেলভিত্তিক ২৪টি ও কয়লাচালিত কেন্দ্র দুটি।
এবারের গ্রীষ্মে দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ১৮ হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে পিডিবি প্রক্ষেপণ করেছে। বর্তমানে গড়ে চাহিদা ১৫ থেকে সাড়ে ১৬ হাজার মেগাওয়াট। এই চাহিদার বিপরীতে গড়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে ১৪-১৫ হাজার মেগাওয়াট।
ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেল, কয়লা, এলএনজি আমদানিতে কিছুটা সংকট তৈরি হলেও বাংলাদেশে আর্থিক সংকট বিদ্যুৎ ঘাটতির বড় কারণ হয়ে দেখা দিয়েছে। কারণ ইরান যুদ্ধ শুরুর পর বিকল্প একাধিক উৎস থেকে জ্বালানি আমদানি করছে সরকার। তবে সে ক্ষেত্রে উন্মুক্ত দরপত্র বা জিটুজি চুক্তির মাধ্যমে আমদানির চেয়ে অনেক বেশি মূল্য পরিশোধ করতে হচ্ছে। শুধু এলএনজি আমদানিতে মার্চ থেকে এ পর্যন্ত চার হাজার কোটি টাকা বেশি খরচ হয়েছে। এ অর্থবছরের বরাদ্দ ৪২ হাজার কোটি টাকায় ভর্তুকি মিটবে না। জুন পর্যন্ত আরও ১৯ হাজার কোটি টাকা চাওয়া হয়েছে।
গ্রীষ্মে পরিকল্পনা অনুযায়ী বিদ্যুৎ আমদানি ও সরবরাহ করতে হলে সরকারের যে পরিমাণ অর্থসংস্থান করতে হবে, সেখানে নাজুক পরিস্থিতি তৈরি হবে। ফলে এলএনজি আমদানির পরিকল্পনা ছোট করা হয়েছে। একই সঙ্গে ব্যয়বহুল জ্বালানির কারণে তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো কম চালানোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। সরকারের মূল লক্ষ্য কিছু গ্যাসভিত্তিক এবং সক্ষমতার পুরোটা কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনা করে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে যাওয়া।
চাহিদার অতিরিক্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা থাকলেও জ্বালানি স্বল্পতার কারণে চাহিদামতো উৎপাদন করা যাচ্ছে না। গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন সক্ষমতা ১২ হাজার ১৫৪ মেগাওয়াট হলেও উৎপাদন হচ্ছে ৫ হাজার মেগাওয়াটের কিছু বেশি।
গ্যাসচালিত বিদ্যুৎ সক্ষমতার পুরোটা ব্যবহার করতে হলে দিনে ২০০ কোটি ঘনফুট গ্যাসের দরকার। যদি ১২০ কোটি ঘনফুট গ্যাসও সরবরাহ করা হয়, তাহলে সাত হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যেত। কিন্তু গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে ৮৫ থেকে ৯২ কোটি ঘনফুট।
কয়লাভিত্তিক আটটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মধ্যে ভারতে আদানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট কারিগরি কারণে বন্ধ। তবে এটি ২৬ এপ্রিল উৎপাদনে ফিরতে পারে। এ ছাড়া বাঁশখালীতে এস আলমের এসএস পাওয়ারের একটি ইউনিটে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে ৬৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কম আসছে। ২৮ এপ্রিল থেকে এর উৎপাদনও বাড়তে পারে।
অন্যদিকে দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রে যান্ত্রিক ত্রুটিতে উৎপাদন সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। কেন্দ্রটির প্রথম ইউনিটের চারটি কোল মিলের মধ্যে দুটি ভেঙে যাওয়ায় বুধবার রাত থেকে উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। ৫২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার এই কেন্দ্রে তিনটি ইউনিট রয়েছে। এর মধ্যে ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার দ্বিতীয় ইউনিট ২০২০ সালের নভেম্বর থেকে বন্ধ। আর ২৭৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার তৃতীয় ইউনিট গত বছরের নভেম্বর থেকে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে অচল। ফলে একমাত্র চালু থাকা প্রথম ইউনিট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পুরো কেন্দ্রটি এখন উৎপাদনহীন অবস্থায় রয়েছে। তৃতীয় ইউনিট আগামী ১৫ মের মধ্যে চালুর আশা করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে মে মাসের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে এক হাজার ৯৮২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়তে পারে বলে আভাস দিয়েছেন বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা।
শিল্প মালিকদের উদ্বেগ : চলমান লোডশেডিং ও জ্বালানি তেলের সংকটে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন নিট পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএ এর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম। তিনি বলেন, বিদ্যুৎ ঘাটতির কারণে শিল্পকারখানার উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি ও লোডশেডিংয়ের কারণে তৈরি পোশাকশিল্পে উৎপাদন খরচ অন্তত ২০ শতাংশ বেড়েছে। যা রপ্তানির ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
‘বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে প্রতিদিন গড়ে দুই থেকে তিন ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকছে। কোথাও কোথাও পরিস্থিতি আরও গুরুতর। আশুলিয়ায় সম্প্রতি দিনের বেলায় ছয় ঘণ্টার বেশি বিদ্যুৎ ছিল না। অথচ, একটি কারখানা সাধারণত দিনে প্রায় ১০ ঘণ্টা চালু থাকে। ফলে উৎপাদন ব্যাহত হওয়া স্বাভাবিক। বিশেষ করে ভালুকা, শ্রীপুর ও রাজেন্দ্রপুরের মতো পল্লী বিদ্যুৎনির্ভর এলাকায় সংকট বেশি প্রকট,’ যোগ করেন তিনি।
মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ‘বর্তমানে অনেক কারখানা ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ সক্ষমতায় চলছে। পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন সম্ভব হলে এ খাতের রপ্তানি আয় বছরে ৫০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারতো।’
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে পরিবহন ব্যয় বেড়েছে। পাশাপাশি বৈশ্বিক অস্থিরতার কারণে পণ্য পরিবহনের সময় ও খরচ উভয়ই বৃদ্ধি পেয়েছে। শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন কারণে বলে দাবি করেন বিকেএমইএ সভাপতি।
তীব্র গরমে লোডশেডিং বেড়ে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। শিল্প উৎপাদন এবং কৃষি উৎপাদনেও এর বিরূপ প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। আর তাই বিদ্যুৎ নিয়ে এমন পরিস্থিতি আরও কতদিন চলবে এই প্রশ্নই এখন ঘুরেফিরে সামনে আসছে।
তবে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি চলমান থাকলে এবং বাংলাদেশে জ্বালানি সংকটের এই প্রেক্ষাপট ঠিক না হওয়া পর্যন্ত লোডশেডিং সহ্য করেই চলতে হবে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞদের অনেকে।
প্রায় ছয় থেকে সাত হাজার মেগাওয়াটের তেলভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো সচল করে এই মুহূর্তে লোডশেডিং কমানো সম্ভব বলে জানিয়েছেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. ইজাজ হোসেন। কিন্তু এক্ষেত্রে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম যত বাড়বে সেটি বহন করা বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় কঠিন বলে মনে করেন তিনি।
ড. ইজাজ বলেন, জ্বালানির চিন্তা না করেই একের পর এক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করার কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। কারণ বিদ্যুৎ উৎপাদন না করলেও অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্রের পেছনে ক্যাপাসিটি চার্জ বাবদ বিপুল অর্থব্যয় হচ্ছে। এই আর্থিক চাপ বিদ্যুৎ খাতের ওপর পড়ছে।
এখন যতটা সম্ভব লোডশেডিং সহনীয় পর্যায়ে রাখার পরামর্শ দিয়ে এই বিশেষজ্ঞ বলেন, এক্ষেত্রে গ্রাম ও শহরের বিদ্যুৎ বৈষম্য কমাতে হবে। সেই সঙ্গে সবাইকে বিদ্যুৎসাশ্রয়ী হওয়া খুবই জরুরি।