পোশাক খাতের রপ্তানিমুখী কারখানাগুলো পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন করতে পারছে না বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ)। জ্বালানি তেলের সংকট এবং চলমান লোডশেডিং নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সংগঠনের সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, বিভিন্ন শিল্প এলাকায় প্রতিদিন দুই থেকে তিন ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না। পরশু দিন আশুলিয়ায় দিনের বেলায় ছয় ঘণ্টার বেশি বিদ্যুৎ ছিল না। একটি কারখানা দিনের বেলায় সাধারণত ১০ ঘণ্টা কার্যক্রম চালায়। এর মধ্যে চাহিদামতো বিদ্যুৎ না থাকায় শ্রমিকরা অলস সময় কাটাচ্ছেন।
গতকাল শনিবার রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল টেক্সটাইল, নিটিং ও গার্মেন্টস ইন্ডাস্ট্রি এক্সপো (বিটিকেজি এক্সপো) উপলক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে বিকেএমইএ। এ সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম। সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি ও বিটিকেজি এক্সপোর আহ্বায়ক ফজলে শামীম এহসান এবং ইনফরচেইন ডিজিটাল টেকনোলজির নির্বাহী পরিচালক স্পেন্সার লিন। বিকেএমইএ ও ইনফরচেইন ডিজিটাল টেকনোলজি যৌথভাবে এই বিটিকেজি এক্সপোর আয়োজন করেছে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গার্মেন্টস ও টেক্সটাইল খাতের পণ্য, প্রযুক্তি ও মেশিনারিজের আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে। এর নাম দেওয়া হয়েছে ‘বিটিকেজি এক্সপো ২০২৬’। রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) আগামী ২৯ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া এ প্রদর্শনী চলবে ২ মে পর্যন্ত। মেলাটি প্রতিদিন বেলা ১১টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
মোহাম্মদ হাতেম বলেন, দিনের বেলায় বিদ্যুৎ না থাকলে উৎপাদন ব্যাহত হওয়া স্বাভাবিক। বিশেষ করে ভালুকা, শ্রীপুর বা রাজেন্দ্রপুরের মতো পল্লী বিদ্যুতের আওতাধীন এলাকায় লোডশেডিংয়ের সমস্যা আরও প্রকট। তিনি বলেন, কয়েক বছর ধরে শিল্পকারখানাগুলো তাদের পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন করতে পারছে না। তাই রপ্তানিও প্রতি মাসে একটু একটু করে কমছে। অনেক কারখানা তাদের ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ সক্ষমতায় পরিচালিত হচ্ছে। পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন করা গেলে এ খাতে রপ্তানি আয় বছরে ৫০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারত।
বিকেএমইএ সভাপতি আরও বলেন, দেশে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে পরিবহন খরচ বেড়েছে। পাশাপাশি বৈশ্বিক যুদ্ধাবস্থার ফলে বেড়েছে পণ্যের চালান পৌঁছানোর সময় ও খরচ। এ ছাড়া শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধিসহ নানা কারণে তৈরি পোশাকশিল্পে উৎপাদন খরচ অন্তত ২০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন, উৎপাদন খরচ বাড়লেও ক্রেতাদের কাছ থেকে বাড়তি মূল্য আদায় করা সম্ভব হচ্ছে না। বিভিন্ন বিদেশি সংস্থা শ্রম আইন ও শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিতে আমাদের ওপর নজরদারি চালায়। তবে ক্রেতারা আমাদের ন্যায্য মূল্য দিচ্ছেন কি না, সে বিষয় নিয়ে কেউ তদারকি করছে না।
এদিকে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ মেলার উদ্বোধন করবেন। এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
আয়োজকরা জানান, বিটিকেজি এক্সপো ২০২৬-এ প্রায় ৩০টি দেশের এক হাজারেরও বেশি প্রদর্শক অংশগ্রহণ করবে।
তার মধ্যে বাংলাদেশ, কানাডা, চীন, তাইওয়ান, বেলজিয়াম, ফ্রান্স, হংকং, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, জাপান, ভিয়েতনাম, মালয়েশিয়া, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত উল্লেখযোগ্য।
প্রায় ১ হাজার ৮০০টি বুথ নিয়ে আটটি প্রদর্শনী হলে প্রায় ২০ হাজার বর্গমিটার এলাকাজুড়ে এই আয়োজন বিস্তৃত থাকবে। এই বৃহৎ পরিসরের আয়োজন বাংলাদেশের টেক্সটাইল ও পোশাকশিল্পের প্রতি বৈশ্বিক আগ্রহের প্রতিফলন।
মেলা চলাকালীন বিকেএমইএ, বিইউটেক্স এবং টেক্সটাইল ট্যুডে যৌথভাবে তিনটি সেমিনার আয়োজন করবে। যেখানে শিল্পের বর্তমান অবস্থা, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি এবং ভবিষ্যৎ কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা থাকবে।