গাজার পথে সবচেয়ে বড় নৌবহর

হামাসের সঙ্গে ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চললেও, ফিলিস্তিনের গাজায় ত্রাণ প্রবেশে অবরোধ জারি রেখেছে ইসরায়েল। ফলে যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলটিতে প্রয়োজনীয় মানবিক সহায়তা পৌঁছাচ্ছে না। তবে দখলদার ইসরায়েলের অবরোধ ভেঙে মানবিক সহায়তা পৌঁছে দিতে গাজার দিকে যাচ্ছে গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার ইতিহাসে ‘সর্ববৃহৎ’ নৌবহর। তুরস্কের বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সি জানিয়েছে, গত ১২ এপ্রিল স্পেনের বার্সোলনা থেকে ঐতিহাসিক এই যাত্রার শুরু হয়েছে। গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার বোর্ড সদস্য ফাতিহ ভারোল আনাদোলুকে জানান, তুর্কি প্রতিনিধিদল এই উদ্যোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তুরস্কের নেতৃত্বে এবারের মিশনে গাজাবাসীর কাছে সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার ব্যাপারে নিজেদের দৃঢ় প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা গাজায় ইসরায়েলের অবরোধ ভাঙা, মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া এবং সেখানে চলমান পরিস্থিতির প্রতি আন্তর্জাতিক দৃষ্টি আকর্ষণের লক্ষ্য নিয়ে গঠিত হয়েছে। ২০২৫ সালে বিভিন্ন দেশের এনজিও প্রতিনিধি, কর্মী ও স্বেচ্ছাসেবীদের উদ্যোগে এটি গঠিত হয়। বর্তমানে এটি গাজার উদ্দেশে দ্বিতীয় মিশন শুরু করেছে। গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার তথ্য মতে, এই উদ্যোগের লক্ষ্য হচ্ছে গাজায় ইসরায়েলি অবরোধ ভেঙে সেখানে মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া এবং ফিলিস্তিনিদের মানবিক সংকটের প্রতি আন্তর্জাতিক দৃষ্টি আকর্ষণ করা। আয়োজকরা জানিয়েছেন, এই মিশন আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় পরিচালিত হচ্ছে এবং ফিলিস্তিনি সিভিল সোসাইটি, আইন বিশেষজ্ঞ ও সামুদ্রিক বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে সমন্বয় করে করা হচ্ছে। এতে ‘গ্রিন পিস’ ও ‘ওপেন আর্মস’-এর মতো আন্তর্জাতিক সংস্থার অংশগ্রহণ রয়েছে এবং বার্সেলোনা সিটি প্রশাসনও সমর্থন দিয়েছে।

স্প্রিং ২০২৬ মিশনটি ১২ এপ্রিল বার্সেলোনা থেকে যাত্রা শুরু করে, যেখানে প্রায় ৭০টি জাহাজ এবং ৭০টি দেশের প্রায় ১,০০০ অংশগ্রহণকারী রয়েছে। এটি গত বছর সেপ্টেম্বরের মিশনের তুলনায় অনেক বড় সেখানে ৪২টি নৌযান এবং ৪৬২ জন অংশগ্রহণকারী ছিলেন। বোর্ড সদস্য ফাতিহ ভারোল বলেন, ফিলিস্তিনের সঙ্গে তুরস্কের ঐতিহাসিক সম্পর্ক গভীর। গাজায় যে ট্র্যাজেডি চলছে, তা আমরা জাতি হিসেবে আরও গভীরভাবে অনুভব করি। এ ক্ষেত্রে তুরস্কের জনগণের সমর্থন এবং নাগরিক সমাজ সংগঠনগুলোর সহায়তা অত্যন্ত শক্তিশালী। ভারোল জানান তুর্কি প্রতিনিধিদল শুধু বহরের প্রশাসন ও সমন্বয়েই নয়, ভূমধ্যসাগরীয় বন্দরগুলোতে জাহাজ প্রস্তুতিতেও আর্থিক সহায়তা দিয়েছে। তিনি আরও বলেন, গত ২২ এপ্রিল ব্রাসেলসে অনুষ্ঠিত গ্লোবাল সুমুদ পার্লামেন্টারিয়ানস কংগ্রেসে তুরস্কের ক্ষমতাসীন ও বিরোধী উভয় দলের ১০ জনের বেশি সংসদ সদস্য অংশ নেন, যা এই মিশনের কূটনৈতিক অংশ হিসেবে কাজ করছে।

ভারোলের মতে, ওই বৈঠকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের আইনপ্রণেতারা নিজ নিজ সংসদে গাজায় ‘গণহত্যা’ বন্ধ, ফিলিস্তিনের অবরোধ প্রত্যাহার, ইসরায়েলের আন্তর্জাতিক আইন মানা নিশ্চিত করা এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ বিচারব্যবস্থাকে সক্রিয় করার দাবি তোলার বিষয়ে একমত হন। তিনি বলেন, এই উদ্যোগ ইসরায়েলের ওপর আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক চাপ বাড়াতে সহায়তা করবে এবং একটি আরও স্বাধীন বিশ্ব গঠনের পথে সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে এগিয়ে যাবে। আরেক তুর্কি কর্মী গোরকেম দুরুও জানান, ২০২৬ সালের মিশনের অংশ হিসেবে গাজার উদ্দেশে যাত্রার প্রস্তুতি চলছে। তিনি বলেন, ভুয়া যুদ্ধবিরতি- দখল, অবরোধ বা সহিংসতা বন্ধ করতে পারেনি। দুরু জানান, ইতালির অগাস্টা বন্দরে শেষ প্রস্তুতি চলছে, আর বার্সেলোনা থেকে ছেড়ে আসা জাহাজগুলো এরই মধ্যে সেখানে পৌঁছে গেছে।

গাজায় ৩০০ যুগলের বিয়ে : অবরুদ্ধ গাজায় সামান্য খুশির উপলক্ষ নিয়ে এসেছে এক গণবিয়ের অনুষ্ঠান। সংযুক্ত আরব আমিরাতের অর্থ সহায়তায় গত শুক্রবার মধ্য গাজায় এ বিয়ের অনুষ্ঠান হয়। এতে গাঁটছড়া বাঁধেন ৩০০ যুগল। সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজ জানিয়েছে, বিয়ের এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়েছিলেন নবদম্পতিদের পরিবারের সদস্যরা, স্থানীয় নেতা এবং প্রতিনিধিরা। সঙ্গে ছিলেন বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার কর্মী ও সাধারণ জনতা। সবমিলিয়ে প্রায় ২০ হাজার মানুষ তাদের বিয়ে প্রত্যক্ষ করতে জড়ো হয়েছিলেন। গণবিয়ের কর্মসূচির আয়োজন করা হয় আমিরাতের ‘গালান্ত নাইট ৩’ প্রোগ্রামের আওতায়। সংবাদমাধ্যমটি আরও জানিয়েছে, এই গণবিয়ের জন্য কয়েক হাজার বাসিন্দা আবেদন করেছিলেন। তাদের থেকে বাছাই করে ৩০০ যুগলকে নির্বাচন করা হয়। গত ফেব্রুয়ারিতে আবেদন গ্রহণ শুরু হয়। অনুষ্ঠানে আমিরাত ও ফিলিস্তিনের জাতীয় সংগীতও বাজানো হয়।