দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে বাস্তবমুখী, সময়োপযোগী ও ব্যবসাবান্ধব বাজেট প্রণয়নের পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষ্টজনেরা। ‘জাতীয় বাজেট ২০২৬-২০২৭ : ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠক আলোচকরা এমন মতামত দিয়েছেন। গতকাল রবিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে ইন্ডাস্ট্রিয়ালিস্টস অ্যান্ড বিজনেসম্যান ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে এ গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আব্দুল মজিদ। সভাপতিত্ব করেন ইন্ডাস্ট্রিয়ালিস্ট অ্যান্ড বিজনেসম্যান ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের সভাপতি মুহাম্মদ শহিদুল ইসলাম। আলোচকরা বাজেটকে আরও কার্যকর, গণমুখী ও বিনিয়োগবান্ধব করতে বিভিন্ন সুপারিশ তুলে ধরেন। তাদের প্রত্যাশা জনকল্যাণমুখী ও ব্যবসাবান্ধব বাজেট দেশের অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করবে এবং টেকসই উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
আব্দুল মজিদ বলেন, দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে বাস্তবমুখী, সময়োপযোগী ও ব্যবসাবান্ধব বাজেট প্রণয়ন অত্যন্ত জরুরি। তিনি কর ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি এবং উদ্যোক্তাবান্ধব নীতিমালা প্রণয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
আলোচনায় অংশ নিয়ে রিহ্যাবের নবনির্বাচিত সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট আব্দুর রাজ্জাক বলেন, আবাসন খাতে নিবন্ধন ব্যয় কমানো দরকার। আমাদের জায়গা কম, কৃষি জমি রক্ষা করতে হবে। এ জন্য পরিকল্পনা করে আমাদের অবশ্যই হাইরাইজ বিল্ডিং বানাতে হবে।
তিনি বলেন, করনীতি হওয়া উচিত বিনিয়োগবান্ধব, বাস্তবমুখী এবং দীর্ঘমেয়াদি। নতুন করনীতি প্রণয়নের ক্ষেত্রে বাজারের বাস্তবতা, বিনিয়োগের পরিবেশ এবং জাতীয় অর্থনীতির বৃহত্তর স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন। আবাসন খাত শক্তিশালী হলে অর্থনীতি শক্তিশালী হবে, কর্মসংস্থান বাড়বে এবং একটি পরিকল্পিত, আধুনিক বাংলাদেশ গঠনের পথ আরও সুগম হবে বলেও মনে করেন রিহ্যাবের এ নেতা।
রিহ্যাবের ভাইস প্রেসিডেন্ট ড. মো. হারুন অর রশিদ ফ্ল্যাট দ্বিতীয় বার বিক্রির ক্ষেত্রে কর যৌক্তিক করার দাবি জানান। ব্যবসায়ীরা অনেক চাপে আছেন এমন মন্তব্য করে টিডিএস কমানোর দাবি জানান তিনি।
আলোচকরা স্বাস্থ্য খাতে পর্যাপ্ত বরাদ্দ বৃদ্ধি, সরকারি হাসপাতালের সেবার মানোন্নয়ন, ওষুধ শিল্পের বিকাশ এবং চিকিৎসা ব্যয় কমানোর দাবি জানান। একইসঙ্গে শিক্ষা খাতে আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে বরাদ্দ বৃদ্ধি, কারিগরি ও কর্মমুখী শিক্ষায় বিশেষ গুরুত্বারোপ এবং গবেষণা খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর জোর দেন।
খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কৃষি ও খাদ্য খাতে ভর্তুকি ও বরাদ্দ বৃদ্ধি, কৃষকদের জন্য সহজ শর্তে ঋণ এবং খাদ্যপণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি শিল্প ও বিনিয়োগ খাতে নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য প্রণোদনা, শিল্পাঞ্চল সম্প্রসারণ, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, রপ্তানি খাতের উন্নয়ন এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে বাস্তবসম্মত নীতিমালার দাবি তোলা হয়।
বক্তারা আরও বলেন, তথ্যপ্রযুক্তি, অবকাঠামো উন্নয়ন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, পরিবহন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে বরাদ্দ বৃদ্ধি দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করবে।
অনুষ্ঠানে এফবিসিসিআই, বিজিএমইএ, বিকেএমইএ ওষুধ শিল্প, লিফট-সহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা বক্তব্য রাখেন। বিজিএমইএর পরিচালক মোজাম্মেল হক ভূঁইয়া ব্যাংকের সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে নামানোর দাবি জানান। বিকেএমইএর পরিচালক মনিরুজ্জামান মনির দ্রুত জ্বালানি নিরাপত্তার ওপর জোর দেন। এ ছাড়া মো. নাসির উদ্দীন, হাজি এনায়েত উল্লাহ, শফিউল আলম উজ্জ্বল, আতিকুর রহমান, হালিমুজ্জামান, মোজাম্মেল হক এবং গোলাম সরওয়ার সাঈদসহ অন্য নেতারা বক্তব্য প্রদান করেন। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন আইবিডব্লিউএফের সেক্রেটারি জেনারেল ডা. আনোয়ারুল আজিম।