কর অব্যাহতির মেয়াদ বাড়ানোর দাবি বেসিসের

সফটওয়্যার ও আইটি এনাবলড সার্ভিসেস (আইটিইএস) খাতের করপোরেট কর অব্যাহতির মেয়াদ চার বছর বাড়িয়ে ২০৩১ সাল পর্যন্ত করার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস)। বর্তমানে এই সুবিধার মেয়াদ ২০২৭ সালের জুনে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। বেসিস বলছে, নির্ধারিত সময়েই কর অব্যাহতি শেষ হয়ে গেলে খাতটির প্রবৃদ্ধি, বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থান ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। একই সঙ্গে সংগঠনটি, প্রণোদনার পরিমাণ বাড়ানোরও দাবি করেছে।

গতকাল রবিবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) আয়োজিত প্রাক-বাজেট আলোচনায় সংগঠনটির পক্ষ থেকে এ দাবি করা হয়। এ সময় এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বেসিসের সদস্য মুশফিকুর রহমান সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রস্তাবনাগুলো উপস্থাপন করেন।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাবে সংগঠনটি দাবি করেছে, আইটিইএস খাত এখনো বিকাশমান পর্যায়ে রয়েছে। এলডিসি উত্তরণের পর বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হবে। এ অবস্থায় দীর্ঘমেয়াদি নীতি সহায়তা না থাকলে আন্তর্জাতিক বাজারে অবস্থান ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।

এজন্য কর অব্যাহতির পাশাপাশি সফটওয়্যার ও আইটিইএস রপ্তানিতে নগদ প্রণোদনা ৮ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে পুনরায় ১০ শতাংশ করার প্রস্তাব দিয়েছে বেসিস। তাদের মতে, প্রণোদনা কমিয়ে দেওয়ায় রপ্তানিকারকদের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা কমেছে এবং নতুন বাজারে প্রবেশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

সংগঠনটি আরও বলেছে, সফটওয়্যার রক্ষণাবেক্ষণ ও পরামর্শক সেবার ক্ষেত্রে উৎসে কর ও ভ্যাট নিয়ে স্পষ্ট নির্দেশনার অভাব রয়েছে। এর ফলে অনেক ক্ষেত্রে দ্বৈত কর আরোপ বা ভুলভাবে কর কর্তন হচ্ছে, যা আইটি কোম্পানিগুলোর ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ তৈরি করছে। এ বিষয়ে এনবিআরের সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেছে বেসিস।

একই সঙ্গে, যেসব অপরিহার্য সফটওয়্যার দেশে উৎপাদিত হয় না যেমন অপারেটিং সিস্টেম, ডেটাবেজ ও সিকিউরিটি সফটওয়্যার; সেগুলোর ওপর বিদ্যমান উচ্চ করহার কমিয়ে ৫ থেকে ১০ শতাংশে নামিয়ে আনার প্রস্তাব দিয়েছে সংগঠনটি। বেসিসের মতে, এতে প্রযুক্তি গ্রহণ সহজ হবে এবং দেশীয় আইটি খাত আরও দ্রুত বিকাশ লাভ করবে।

প্রস্তাবে রাজস্ব আদায় ও সরকারি ব্যয় ব্যবস্থাপনায় ডিজিটালাইজেশন বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পিওএস সফটওয়্যারের মাধ্যমে রিয়েল-টাইম ভ্যাট সংযোগ এবং বিভিন্ন খাতে বাধ্যতামূলক ডিজিটাল রাজস্ব সংগ্রহ চালুর সুপারিশ করা হয়েছে, যাতে স্বচ্ছতা বাড়ে ও ফাঁকি কমে।

বেসিস মনে করে, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে আইটিইএস খাতের প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত হবে এবং একটি প্রযুক্তিনির্ভর, স্বচ্ছ অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হবে।