কুমিল্লায় তিন দিন ধরে সংঘর্ষ, আহত ৩০

আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে কুমিল্লা নগরীর দক্ষিণ চর্থা এলাকায় তিন দিন ধরে দুই পক্ষের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। এতে অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছে। অন্যদিকে, কুড়িগ্রামের রাজারহাটে গতকাল রবিবার বিকেলে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ছয়জন আহত হয়েছে। এ নিয়ে আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো বিস্তারিত

কুমিল্লা : দক্ষিণ চর্থার থিরাপুকুর পাড় ও জিনাপুকুর পাড়ের তরুণদের মধ্যে কথাকাটাকাটির ঘটনা সংঘর্ষে রূপ নেয়। পরে এতে এলাকাবাসীও জড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে ‘নয়ন গ্রুপ’ ও ‘স্বপন গ্রুপ’ নামের দুটি বিরোধী গ্রুপ তৈরি হয় এবং হামলা-পাল্টা হামলা, ধাওয়া ও গুলির ঘটনায় এলাকা কার্যত রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। গত বৃহস্পতিবার শুরু হয়ে শনিবার বিকেল পর্যন্ত থেমে থেমে সংঘর্ষ চলতে থাকে। এতে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষের সময় দেশীয় অস্ত্রের পাশাপাশি আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, হেলমেট পরা কয়েকজন তরুণ প্রতিপক্ষকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করছেন। কারও হাতে ধারালো অস্ত্র রয়েছে, এমনকি গুলির ঘটনাও দেখা যায়। ছোড়া ইট-পাটকেল আশপাশের দোকানপাট ও বাড়িঘরে আঘাত হেনে কাচ ভাঙার শব্দ শোনা যায়।

এ বিষয়ে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, সংঘর্ষের ঘটনায় একটি পক্ষ থানায় অভিযোগ দিয়েছে। রবিবার সকাল থেকে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

কুড়িগ্রাম :  কুড়িগ্রামের রাজারহাটে গতকাল রবিবার বিকেলে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ছয়জন আহত হন। আহতরা হচ্ছেন উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক রুবেল পাটোয়ারী, রাকিব ও আপন এবং ছাত্রশিবিরের রাজারহাট উপজেলা শাখার সভাপতি মো. সুজন মিয়া, মাহিন ও শরিফুল ইসলাম।

জানা গেছে, গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবি এবং বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ফেসবুকে লেখালেখিকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়, যা পরবর্তীতে সংঘর্ষে রূপ নেয়।

রাজারহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুনুর রশীদ জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঈশ্বরদীতে ছাত্রদলের ওপর হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ: এদিকে পাবনার ঈশ্বরদী সরকারি কলেজ ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ওপর ছাত্রশিবিরের গত বৃহস্পতিবারের হামলা, ভাঙচুর, ককটেল বিস্ফোরণ ও গুলির প্রতিবাদে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল রবিবার দুপুরে ঈশ্বরদী সরকারি কলেজ গেটে থেকে শুরু হয়ে বিক্ষোভ মিছিল শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে থানার প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আশ্বাসে দোষীদের গ্রেপ্তারে ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়ে কর্মসূচি শেষ করা হয়। এর আগে কলেজের মুক্ত মঞ্চে সংক্ষিপ্ত প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

ঈশ্বরদী সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি খালেদ বিন পার্থিবের সভাপতিত্বে বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য দেন ঈশ্বরদী সরকারি কলেজের সাবেক ভিপি ও ঈশ্বরদী উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি রেজাউল করিম শাহীন, পাবনা জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মো. আমিনুল ইসলাম,  সহ-সভাপতি ও ঈশ্বরদী সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি রফিকুল ইসলাম নয়ন, জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি ও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক শরিফুল ইসলাম শরীফ প্রমুখ।