১৩ বছরের বেশি সময় আগে সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলায় তদন্তের জন্য আরও ছয় মাস সময় পেয়েছে তদন্ত সংশ্লিষ্ট স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গঠিত টাস্কফোর্স। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের সময়ের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল রবিবার বিচারপতি ফাতেমা নজীব ও বিচারপতি এএফএম সাইফুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকার্টের দ্বৈত বেঞ্চ এ আদেশ দেয়। ২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্তের বিষয়ে উচ্চপর্যায়ের টাস্কফোর্স গঠনের নির্দেশনা দেয়। একই সঙ্গে এ মামলার তদন্ত থেকে র্যাবকে সরাতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের করা আবেদন মঞ্জুর করে হাইকোর্ট। পাশাপাশি ছয় মাসের মধ্যে তদন্ত করে মামলার প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেয় আদালত। এরপর তিন দফায় ছয় মাস করে সময় দেওয়া হয় টাস্কফোর্সকে। ২০১২ সালের এপ্রিলে হাইকোর্টের দেওয়া এক আদেশে মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পায় র্যাব। তবে শতাধিকবারের বেশি সময় নিলেও র্যাব অধস্তন হাইকোর্টের আদালতে প্রতিবেদন দিতে পারেনি। এর আগে গত বছরের ২৩ অক্টোবর রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ছয় মাস সময় দিয়েছিল হাইকোর্ট। মামলাটি এখন তদন্ত করছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। অধস্তন আদালতে ইতিমধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলে ১২৫ বারের মতো সময় নেওয়া হয়েছে। সাগর-রুনি হত্যা মামলায় গতকাল হাইকোর্টে বাদীপক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। রিটকারীপক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ।
শুনানিকালে অ্যাটর্নি জেনারেল তদন্তের অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিল করে বলেন, টাস্কফোর্স আরও সময় চেয়েছে। তদন্ত শেষ দিকে রয়েছে। তবে মামলার তৎকালীন তদন্ত সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। তদন্তে আরও ছয় মাস সময়ের আরজি জানান রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা। শুনানি শেষে হাইকোর্ট ছয় মাস সময় দেয়।
দুপুরে অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল সাংবাদিকদের বলেন, ঘটনার সময় (২০১২ সালে) দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী, অন্য দায়িত্বশীল রাজনৈতিক ব্যক্তি, তদন্তকারী সংস্থা (ওই সময়ের) ও অন্য সংস্থায় যারা দায়িত্বরত ব্যক্তি ছিলেন, তাদের কারও কাছে বর্তমান টাস্কফোর্স অ্যাকসেস পাচ্ছেন না। তিনি বলেন, ‘টাস্কফোর্স যখন দায়িত্ব পেয়েছে, তখন কিন্তু ক্রাইম সিন বলে কোনো সিন নেই। ফৌজদারি অপরাধের তদন্ত করতে গেলে তার একটা চেইন থাকে, একটা ধারাবাহিকতা থাকে। টাস্কফোর্স সেই ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে পারছেন না। কারণ, ওই সময়ে যারা প্রাথমিকভাবে তদন্তের দায়িত্বে ছিলেন, তথ্য-প্রমাণ নিয়েছেন, সাক্ষীকে জিজ্ঞাসাবাদ কিংবা আসামিদের গ্রেপ্তার করেছেন, তাদের কাছ থেকে যেসব তথ্য পেয়েছেন, তার কোনো নিয়মতান্ত্রিক হস্তান্তর টাস্কফোর্সের কাছে হচ্ছে না।’
হাইকোর্টে বাদীপক্ষের আইনজীবী শিশির মনির সাংবাদিকদের বলেন, প্রায় ১৪ বছর হয়ে গেল, হত্যার রহস্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী উদ্ঘাটন করতে পারছে না। তিনি বলেন, ‘এটি আমাদের সবার জন্য বিস্ময়কর যে, এ ধরনের ঘটনা ঘটবে, সবাই ব্যর্থতার পরিচয় দেবে। সবাই মিলে একটা ব্যর্থতার দিকে অগ্রসর হচ্ছি। শেষ পর্যন্ত টাস্কফোর্সও যদি ব্যর্থ হয়, তাহলে আমাদের যাওয়ার জায়গা নেই।’ প্রসঙ্গত, ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাতে রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের একটি ফ্ল্যাটে মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সরওয়ার এবং এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনি নির্মমভাবে খুন হন।