‘সকাল থেকে থেমে থেমে বৃষ্টি পড়ছে। আকাশে প্রচন্ড বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে। দুই শিশু সন্তানকে নিয়ে ঘরের মধ্যে শুয়ে ছিলাম। হঠাৎ প্রচণ্ড বেগে বাতাস এসে এক ধাক্কায় ঘরটা হেলে যায়। মুহুর্তে আবার বাতাস আসি সব উড়ে নিয়ে গেল। তাৎক্ষনিক দুই সন্তানকে নিয়ে ঘর থেকে কোন মতে বের হতে পেরেছি। শয়ন ঘরসহ তিনটি ঘর সব ভেঙে পড়ে গেছে। বৈশাখী ঝড়ে বাড়ি-ঘর সব লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। সম্প্রতি তৈরি করা ঘরটাও দুমড়ে-মুচড়ে গেছে। এখন রাতে খোলা আকাশের নিচে থাকতে হবে। বাতাসের কাছে আমরা অসহায়। সব শেষ, জীবনটা বাঁচাতে পেরেছি। চোখের সামনে ঘরবাড়ি সব উড়ে নিয়ে গেল। দৃশ্যগুলো মনে পড়লেই ভয় লাগে’। এভাবেই কথা বলছিলেন গাইবান্ধার জগদিশপুর গ্রামের বৈশাখী ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্থ কৃষক জোতিশ চন্দ্র।
জগদিশপুর গ্রাম গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার মহিমাগঞ্জ ইউনিয়নের অন্তর্গত। গাইবান্ধা শহর থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরে গ্রামটি।
জোতিশ চন্দ্র বলেন, কাল বৈশাখী ঝড়ের তাণ্ডবে গ্রামের অন্তত ১৫০ পরিবার তাদের ঘর-বাড়ি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। বাতাসে টিন শেড ঘরের চালা উড়ে অন্য চালের ওপড়ে গিয়ে পড়েছে। কিছু ঘর মাটির সাথে লুটে পড়েছে। গ্রামের অন্তত ৫ জন আহত হয়েছেন। তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়েছে। বিচ্ছিন্ন হয়েছে বিদ্যুৎ। এছাড়া বাড়ীঘরের পাশাপাশি বোরো ধান, ভুট্টাসহ অনেক ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
এছাড়া জেলায় বজ্রপাতে পাঁচজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এরমধ্যে সুন্দরগঞ্জ তিনজন, সাঘাটা একজন ও ফুলছড়ি উপজেলায় একজন। আহত হয়েছেন ২ জন।
মানবাধিকারকর্মী গোলাম রাব্বী মুসা বলেন, গতকাল থেকে আজ সোমবার সকাল পর্যন্ত জেলায় ব্যাপাক ঝড়-বৃষ্টিসহ বজ্রপাতের ঘটনা ঘটেছে। কৃষকসহ পাঁচজন মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। অনেক মানুষ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। তাদের মধ্যে অনেক গরীব মানুষ রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্থ দের তালিকা করে তাদের সরকারি সহায়তা ব্যবস্থার দাবি জানান তিনি।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম জানান, সংশিষ্ট উপজেলায় নিহত ও যাদের বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। তাদের তালিকা করা হচ্ছে। তালিকা অনুসারে তাদের সরকারি সহায়তা দেওয়া হবে।