কালবৈশাখীর তাণ্ডবে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি, বিদ্যুৎহীন গোটা উপজেলা

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলায় কালবৈশাখী ঝড়ের প্রবল তাণ্ডবে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ঝড়ে গাছপালা উপড়ে পড়া এবং বৈদ্যুতিক অবকাঠামো ভেঙে পড়ায় রবিবার রাত থেকে পুরো উপজেলা বিদ্যুৎহীন অবস্থায় রয়েছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন একটি পৌরসভা ও ৯টি ইউনিয়নের কয়েক লাখ মানুষ।

মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি সূত্রে জানা গেছে, ঝড়ের তীব্রতায় উপজেলার অন্তত ১৫২টি স্থানে বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে গেছে এবং ১৭টি বৈদ্যুতিক খুঁটি পুরোপুরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া ঝড়ে শতাধিক গ্রাহকের মিটার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও বসতবাড়ির ওপর গাছ উপড়ে পড়ায় বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন লণ্ডভণ্ড হয়ে যায়। ফলে রবিবার রাত থেকেই অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে পড়ে গোটা উপজেলা।

সোমবার (২৭ এপ্রিল) সরেজমিনে দেখা গেছে, কমলগঞ্জ পৌরসভার বিভিন্ন এলাকাসহ ৯টি ইউনিয়নের অন্তত দেড় শতাধিক স্থানে গাছ পড়ে ঘরবাড়ি ও রাস্তার ওপর বৈদ্যুতিক লাইনের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ো হাওয়ায় অনেক কাঁচা ঘরবাড়ির চাল উড়ে গেছে এবং ফসলি জমিরও ক্ষতি হয়েছে।

উপজেলা সদরের পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের সম্মুখে ঝড়ে বড় একটি গাছ পড়ে লাইনম্যানদের ব্যবহৃত ৩টি মোটরসাইকেল ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। এছাড়া উপজেলার আলীনগর, মাধবপুর ও ইসলামপুর ইউনিয়নের বেশকিছু জায়গায় গাছ পড়ে ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। আলীনগর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য বুলবুল আহমেদ মধু ও তাজউদ্দীন আহমদ বলেন, ‘আমাদের ইউনিয়নের চা বাগান এলাকায় ঝড়ের কবলে গাছ পড়ে অনেক ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। যুগিবিল এলাকার কিছু জায়গায় গাছ ভেঙে পড়েছে।’

এদিকে বিদ্যুৎ না থাকায় মোবাইল নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেট সেবা বিঘ্নিত হচ্ছে। বিদ্যুতের অভাবে স্থানীয়  সিএনজি রিফুয়েলিং স্টেশনগুলো বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েছেন অটোরিকশা ও ব্যক্তিগত গাড়ির চালকরা। তীব্র গরমে শিশু ও বয়স্কদের নাভিশ্বাস ওঠার পাশাপাশি ব্যবসায়ীরা বিশাল ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

পল্লীবিদ্যুতের দায়িত্বরত কর্মকর্তারা জানান, ঝড়ের পর থেকেই ক্ষতিগ্রস্ত লাইন মেরামতে কাজ শুরু করেছেন কর্মীরা। তবে বর্তমানে বিদ্যুৎ অফিসে জনবল কম থাকায় মেরামত কাজ সম্পন্ন করতে সময় লাগছে। অনেক জায়গায় বড় বড় গাছ পড়ে থাকায় এবং অধিক সংখ্যক স্থানে তার ছিঁড়ে যাওয়ায় পুরো উপজেলায় বিদ্যুৎ সচল করতে সময় লাগবে।

মৌলভীবাজার পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির কমলগঞ্জ জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) রঞ্জন কুমার ঘোষ বলেন, বিদ্যুৎ ব্যবস্থা সচল করতে আমাদের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেক বেশি হওয়ায় পর্যায়ক্রমে বিদ্যুৎ সংযোগ ফেরানোর চেষ্টা চলছে।