দেশীয় চা শিল্পে নতুন ইতিহাস

আপডেট : ০৭ আগস্ট ২০২৬, ১১:৫৩ এএম

দেশের চা শিল্পে যুক্ত হল এক নতুন সোনালী অধ্যায়। চট্টগ্রাম চা নিলামে নিজেদের অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে এক অনন্য ও অভূতপূর্ব মাইলফলক স্পর্শ করেছে ন্যাশনাল টি কোম্পানী লিমিটেড (এনটিসি)। রেকর্ড দামে এক নিলামেই বিপুল পরিমাণ চা বিক্রি করে চা বাজারে নিজেদের একচ্ছত্র আধিপত্য ও ক্রেতাদের তুঙ্গস্পর্শী আস্থার প্রমাণ দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। চলতি বছরের গত ৩ আগস্ট তারিখে অনুষ্ঠিত চট্টগ্রাম চা নিলামে এনটিসির ঝুলিতে যুক্ত হয় এই ঐতিহাসিক সাফল্য। নিলামে কোম্পানিটির ১২টি বাগানের মোট ১ লাখ ৫১ হাজার ৫৬০ কেজি চা একযোগে বিক্রি হয়।

সবচেয়ে চমকপ্রদ তথ্য হলো, এসব চায়ের গড় বিক্রয়মূল্য দাঁড়িয়েছে প্রতি কেজি ২৮৬ টাকা ৫৯ পয়সা, যা সরকার নির্ধারিত ফ্লোর প্রাইস (২৪৫ টাকা) থেকে কেজিপ্রতি প্রায় ৪১ টাকা ৫৯ পয়সা বেশি। এত বিশাল পরিমাণ চা একসঙ্গে এত চড়া দামে বিক্রির নজির এনটিসি তো বটেই, পুরো চা শিল্পের ইতিহাসেই বিরল।

এনটিসি সূত্রে জানা যায়, নিলামের সবচেয়ে বিস্ময়কর দিকটি ছিল এনটিসির মালিকানাধীন ১২টি চা বাগানের প্রতিটি বাগানের চায়ের গড় দামই কেজিপ্রতি ২৮০ টাকার কোটা অতিক্রম করেছে। একক কোনো নিলামে কোনো কোম্পানির সবকটি বাগানের চায়ের এমন ধারাবাহিক ও উচ্চ মূল্য পাওয়ার ঘটনা এটিই প্রথম। আর এই অবিশ্বাস্য সাফল্যের ওপর ভর করে মাত্র এক দিনেই (নিলামের দিন) কোম্পানির মোট আয় দাঁড়িয়েছে ৪ কোটি ৪৭ লাখ ৭৩ হাজার ৭২২ টাকা। শুধু চড়া দামেই নয়, চা উৎপাদনেও বইছে জোয়ার। চলতি বছরের ৩১ জুলাই পর্যন্ত এনটিসির মোট চা উৎপাদন গত বছরের একই সময়ের তুলনায় একলাফে ২৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

ন্যাশনাল টি কোম্পানীর সচিব এ. কে. আজাদ চৌধুরী বলেন, এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে মাঠপর্যায়ে গুণগত মান নিশ্চিত করার কঠোর নীতি। চা শ্রমিকদের মাধ্যমে অতি সূক্ষ্মভাবে কেবল ‘দুটি পাতা ও একটি কুঁড়ি’ সংগ্রহের ওপর সর্বোচ্চ জোর দেওয়া হয়েছে। এরপর আধুনিক প্রক্রিয়াজাতকরণ ও নিবিড় নজরদারির ছোঁয়ায় তৈরি চায়ের রঙ, মনমাতানো সুবাস, গাঢ় ঘনত্ব আর স্বাদে এসেছে এক স্বর্গীয় আমেজ। নিলামে দেশের শীর্ষস্থানীয় চা ক্রেতারা এই প্রিমিয়াম মানের চায়ের জন্য রীতিমতো প্রতিযোগিতায় মেতে ওঠেন। উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, আধুনিক প্রযুক্তিভিত্তিক ব্যবস্থাপনা, সুনির্দিষ্ট ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং কঠোর মান নিয়ন্ত্রণের যে দৃষ্টান্ত এনটিসি তৈরি করেছে, তা পুরো দেশের চা খাতের জন্যই এক ইতিবাচক বার্তা। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই কৌশল ধরে রাখতে পারলে আন্তর্জাতিক বাজারেও বাংলাদেশি চায়ের অবস্থান আরও সুদৃঢ় হবে।

কোম্পানির সাফল্যের নেপথ্য গল্প ও প্রত্যয় তুলে ধরে তিনি বলেন, আমাদের এই অর্জন গুণগত উৎকর্ষ ও কঠোর পরিশ্রমেরই ফসল। ভবিষ্যতেও বিশ্বমানের চা উৎপাদন বজায় রেখে দেশের চা শিল্পকে বিশ্ব দরবারে আরও সমৃদ্ধ করতে আমরা নিরলস কাজ করে যাব। কোম্পানির এই অভাবনীয় অগ্রযাত্রায় সকল ভোক্তা, ক্রেতা ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত