দফায় দফায় কালবৈশাখী ঝড়ে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে মৌলভীবাজার জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা। গত ২৪ ঘণ্টায় কয়েক দফা ঝড়ের আঘাতে বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় ব্যাপক বিপর্যয় নেমে এসেছে। জেলার বিভিন্ন উপজেলার অন্তত ২২৫ স্থানে বৈদ্যুতিক তার ছিঁড়ে গেছে, ভেঙে পড়েছে ২০টি খুঁটি। ফলে গ্রামাঞ্চলের বড় একটি অংশ এখনো অন্ধকারে ডুবে আছে, চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজারো মানুষ।
সরেজমিনে জেলার কমলগঞ্জ, শ্রীমঙ্গল ও রাজনগরসহ বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, গত একদিনে অন্তত চারবার কালবৈশাখী ঝড় তাণ্ডব চালিয়েছে। ঝড়ের তীব্রতায় অসংখ্য স্থানে গাছ উপড়ে পড়ে বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে যায়। কমলগঞ্জে পল্লী বিদ্যুৎ অভিযোগ কেন্দ্রের ওপর একটি বিশাল গাছ ভেঙে পড়ে লাইন বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এ ঘটনায় তিনটি মোটরসাইকেলও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শমশেরনগর বাজারে একটি বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে পড়ে এবং রাজনগরের কামারচাক ইউনিয়নেও একই চিত্র দেখা গেছে। এ ছাড়া জেলার বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ লাইনের ওপর গাছ ও বাঁশ পড়ে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।
মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি সূত্রে জানা গেছে, ঝড়ে সদর, কমলগঞ্জ, রাজনগর, কুলাউড়া, শ্রীমঙ্গলসহ জেলার সাতটি উপজেলায় প্রায় ৩০ লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। জেলার প্রায় ৯ হাজার ৬২২ কিলোমিটার বিদ্যুৎ লাইনের মধ্যে ২০টি খুঁটি সম্পূর্ণ ভেঙে গেছে এবং ২৩টি খুঁটি হেলে পড়েছে। এ ছাড়া ২২৫ স্থানে তার ছিঁড়ে গেছে, ৪২১ স্থানে লাইন হেলে পড়েছে, ৫৬টি মিটার ভেঙে গেছে এবং ২৭টি ট্রান্সফরমার নষ্ট হয়েছে।
এদিকে বিদ্যুৎ বিভ্রাটে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। অনেক এলাকায় দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা কার্যক্রম এবং চিকিৎসাসেবা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিদ্যুৎ না থাকায় মোবাইল নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেট সেবা বিঘ্নিত হচ্ছে। বিদ্যুতের অভাবে স্থানীয় সিএনজি রিফুয়েলিং স্টেশনগুলো বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েছেন অটোরিকশা ও ব্যক্তিগত গাড়ির চালকরা।
মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার প্রকৌশলী সুজিত কুমার বিশ্বাস জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় কয়েক দফা কালবৈশাখীর আঘাতে প্রায় ৩০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে। ঝড়ে বিভিন্নস্থানে বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে পড়েছে এবং তার ছিঁড়ে গেছে।
তিনি আরও জানান, ক্ষতিগ্রস্ত লাইন দ্রুত মেরামত করে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করতে সমিতির নিজস্ব জনবল ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা সম্মিলিতভাবে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।