বিদায়বেলায় ইউনাইটেডকে মাথায় তুললেন ব্রাজিলিয়ান তারকা

ওড় ট্র্যাফোর্ডে সোমবার রাতে প্রিমিয়ার লিগের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ব্রেন্টফোর্ডকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়েছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। এই জয়ের ফলে পয়েন্ট টেবিলের তৃতীয় স্থানটি আরও মজবুত করল মাইকেল ক্যারিকেট শিষ্যরা, যা তাদের আগামী মৌসুমের চ্যাম্পিয়নস লিগে খেলার স্বপ্নকে প্রায় নিশ্চিত করে ফেলেছে।

‎ম্যাচের ১১ মিনিটেই ইউনাইটেডকে লিড এনে দেন অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার কাসেমিরো। ক্লাব ছাড়ার ঘোষণা দেওয়ার কয়েক সপ্তাহ পরেই এমন পারফরম্যান্স সমর্থকদের আবেগপ্রবণ করে তুলেছে। ব্যাক পোস্টে অসাধারণ এক হেডে গোলটি করেন তিনি। ২০২২ সালের আগস্টে ক্লাবে যোগ দেওয়ার পর এটি ছিল কাসেমিরোর ১১তম হেড গোল। প্রিমিয়ার লিগে এই সময়ে তার চেয়ে বেশি হেড গোল আছে কেবল আর্লিং হালান্ড (১৮), ওলি ওয়াটকিন্স (১৬) এবং ক্রিস উডের (১৩)।

হেডে গোল করছেন ক্যাসেমিরো

‎ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে ব্রাজিলিয়ান এই তারকার সময় যে ফুরিয়ে এসেছে, তা আবারও নিশ্চিত করলেন দলটির অন্তর্বর্তীকালীন কোচ মাইকেল ক্যারিক।

‎​"পরিস্থিতি একদম পরিষ্কার। দুই পক্ষই (ক্লাব এবং খেলোয়াড়) সিদ্ধান্তে অটল। কাসেমিরো ক্লাবের জন্য তার সর্বোচ্চটা দিয়েছেন এবং বড় বড় মুহূর্তে আমাদের উদ্ধার করেছেন। সিদ্ধান্তটি আগেভাগেই পরিষ্কার হয়ে যাওয়ায় সমর্থকদের জন্যও বিষয়টি বোঝা সহজ হয়েছে।"

‎প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে ব্যবধান দ্বিগুণ করে রেড ডেভিলরা। ব্রুনো ফার্নান্দেজের নিখুঁত পাস থেকে কাউন্টার অ্যাটাক পূর্ণ করেন বেনিয়ামিন সেস্কো। এটি ছিল চলতি লিগ মৌসুমে ব্রুনোর ১৯তম অ্যাসিস্ট। প্রিমিয়ার লিগের এক মৌসুমে সর্বোচ্চ অ্যাসিস্টের রেকর্ড স্পর্শ করা থেকে তিনি এখন মাত্র এক কদম দূরে।
‎ম্যাচ শেষে সেস্কো বলেন, "আমি এবং ব্রুনো অনুশীলনে অনেক পরিশ্রম করি এবং তারই ফল পাচ্ছি। ওর মতো একজন কোয়ালিটি সতীর্থ থাকা ভাগ্যের ব্যাপার।"

‎দ্বিতীয়ার্ধের ৮৭ মিনিটে ম্যাথিয়াস জেনসেনের দূরপাল্লার এক দুর্দান্ত শটে ব্যবধান কমিয়ে লড়াইয়ে ফিরেছিল ব্রেন্টফোর্ড। তবে শেষ পর্যন্ত কেইথ অ্যান্ড্রুসের শিষ্যরা সমতায় ফিরতে ব্যর্থ হয়। 

‎এই জয়ের পর চতুর্থ স্থানে থাকা লিভারপুল এবং অ্যাস্টন ভিলার চেয়ে ৩ পয়েন্ট ব্যবধানে এগিয়ে গেল ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। ২০২৪ সালের পর আবারও ইউরোপের সর্বোচ্চ আসর চ্যাম্পিয়নস লিগে ফেরার পথে বড় ধাপ এটি।