ফরিদপুরে ট্রিপল মার্ডার

দাদি-ফুফুসহ ৩ জনকে হত্যা, চাঞ্চল্যকর রহস্য ফাঁস

দীর্ঘদিনের মানসিক সমস্যা ও পরিবার থেকে বিয়ে না দেওয়ার ক্ষোভ থেকে ফুফু, দাদি ও প্রতিবেশীকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছেন ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দুপুর দেড়টায় পুলিশ সুপার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে পুলিশ সুপার বলেন, সোমবার (২৭ এপ্রিল) রাত ৯টার দিকে আকাশ মোল্লা নামে এক যুবক কোদাল দিয়ে কুপিয়ে আকাশের দাদি আমেনা বেগম (৭৫), ফুপু রাহেলা বেগম (৫০) এবং প্রতিবেশী কাবুলকে (৪৯) হত্যা করে। ফরিদপুর সদর উপজেলার আলিয়াবাদ ইউনিয়নের গদারডাঙ্গী গ্রামে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

তিনি আরও বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আকাশ জানিয়েছেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন এবং নিয়মিত ওষুধ খাচ্ছিলেন। তার ধারণা ছিল, কেউ তাকে মেরে ফেলতে চায়। এছাড়া, পরিবার থেকে বিয়ে না দেওয়ায় তার মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিল। এই মানসিক বিভ্রম ও পুঞ্জীভূত ক্ষোভ থেকেই সে এ ধরনের নৃশংস এবং বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।

এ ঘটনায় নিহত কাবুল হোসেনের স্ত্রী কহিনুর বেগম বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা (মামলা নং-৭৯) দায়ের করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, আসামিকে আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলমান।

উল্লেখ্য, সোমবার রাতে আকাশ মোল্লা কোদাল দিয়ে আমেনা বেগম ও তার মেয়ে রাহেলা বেগমকে (৫৫) কুপিয়ে হত্যা করেন। এ সময় প্রতিবেশী রিকশাচালক কাবুল হোসেন (৪৯) এগিয়ে গেলে আকাশ তাকেও কুপিয়ে হত্যা করেন। এ ঘটনায় রিয়াজুল ও আর্জিনা নামে আরো দুইজন গুরুতর আহত হন।