ঘুম থেকে উঠে অনেকেরই অভ্যাস ফেসবুক চেক করার। আবার ঘুমাতে যাওয়ার আগেও কেউ কেউ সোস্যাল মিডিয়ায় স্ক্রল করতে থাকেন। দৈনন্দিন খবর পড়েন,একটার পর একটা রিলস দেখেন সোস্যাল মিডিয়ায়। কেউ কেউ তো আবার ফেসবুকে একটা নোটিফিশেন এলেই অস্থির হয়ে পড়েন। সব মিলিয়ে মানুষের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে সোশ্যাল মিডিয়া। যদি আপনি একমাস সোস্যাল মিডিয়া থেকে দূরে থাকতে পারেন তাহলে ঠিক কী পরিবর্তন ঘটে মস্তিষ্কে তা জানানো হয়েছে ভারতীয় গণমাধ্যম ‘এই সময়ে’র এক প্রতিবেদনে। যেমন-
ডোপামিনের ভারসাম্য ফিরে আসে
লাইক, কমেন্টের নোটিফিকেশন আমাদের মস্তিষ্কে তাৎক্ষণিক ডোপামিন নিঃসৃত হয়। যত বার নোটিফিকেশন আসে, তত বার এটি রিলিজ় হয়। এ কারণে সোশ্যাল মিডিয়া বন্ধ করে দিলে প্রথম দিকে মস্তিষ্কে এক ধরনের অস্বস্তি তৈরি হয়। কিন্তু ধীরে ধীরে মস্তিষ্ক তার স্বাভাবিক ডোপামিন ভারসাম্যে ফিরে আসে। তখন বাস্তব জীবনেও ছোট ছোট জিনিসে আনন্দ পেতে শুরু করবেন।
মনোযোগ ও একাগ্রতা বাড়ে
প্রত্যেকটা নোটিফিকেশন মনোযোগ নষ্ট করে। অনেক সময় সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখা কনটেন্ট মস্তিষ্কের উপর প্রভাব ফেলে। যে বিষয়টা আপনার জীবনে কোনো ভূমিকা ফেলে না সেটা নিয়ে ভাবতে থাকে মন। বারবার সোশ্যাল মিডিয়া চেক করতে ইচ্ছে হয। এতে মনোযোগ নষ্ট হয়। এ কারণে সোশ্যাল মিডিয়া ছাড়লে কাজে পুরোপুরি মনোযোগ দিতে পারবেন।
উদ্বেগ ও স্ট্রেস কমে
অন্যদের জীবন দেখে তুলনা করা, বিভিন্ন ধরনের নেতিবাচক খবর মানসিক চাপ বাড়ায়। ৩০ দিন এই জগত থেকে দূরে থাকলে মানসিক চাপ অনেকটা কমে যাবে।
ঘুমের মান উন্নত হয়
ঘুমাতে যাওয়ার আগে সোশ্যাল মিডিয়া স্ক্রোল করা খুবই খারাপ অভ্যাস। স্মার্টফোনের নীল আলো মেলাটোনিন হরমোনের প্রভাব কমিয়ে দেয়। এর ফলে ঘুমের সমস্যা হয়।
সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হয়
সোস্যাল মিডিয়ায় দেথে অনেকেই অন্যের জীবনের সঙ্গে নিজের জীবনের তুলনা করেন। এতে বাস্তবের সম্পর্কগুলো নষ্ট হয়। সামনাসামনি বসে কথা বলা হয় না। সোশ্যাল মিডিয়া থেকে দূরে থাকলে সম্পর্কগুলো হয়ে উঠবে আরও শক্তিশালী, প্রাণবন্ত।