গাইবান্ধা জেলায় দফায় দফায় বৃষ্টিতে বোরো ধানের জমিতে পানি জমেছে। বিশেষ করে নিম্নাঞ্চলের ধান পানির নিচে। কিছু ধান বাতাসে লুয়ে পড়েছে। জমিতে পানি জমে থাকায় আধা পাকা ধান নষ্ট হওয়ার উপক্রম। শ্রমিক সংকটে ধান কাটতে পাচ্ছেন না চাষিরা। মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই শ্রমিক জনপ্রতি ৭০০-৮০০ টাকা মজুরী চায়। বিপাকে পড়েছেন চাষিরা।
সরেজমিন মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) ঘুরে দেখা গেছে, ধানের জমির চিত্র। জেলার পলাশবাড়ী উপজেলার রাইতি নরাইল,নান্দিশহর বিল, মালিয়ানদহ, খামার নান্দিশহর, পকুরিয়া বিল, মাঠেরবাজার, কুমারগাড়ি, সদর উপজেলার বাদিয়াখালি, চক বরুল, হরিনাবাড়ি, বেতকাপা, তুলশীঘাটসহ বিভিন্ন এলাকার নিম্নাঞ্চলের শত শত হেক্টর জমির আধা পাকা ধান পানির নিচে ডুবে আছে। অনেক কৃষক আধা পাকা ধান কাটছে।
পলাশবাড়ী উপজেলার হরিনাবাড়ী গ্রামের সোলাগাড়ি বিলে গিয়ে কয়েকজন কৃষক জানান, বিলে প্রায় ৫০০ বিঘা জমিতে ধান রয়েছে। গত দুইদিনের বৃষ্টির কারণে অনেক জমিতে পানি জমে গেছে। বিলের পানি নিষ্কাশনের জন্য নালা ছিল। কিন্তু কয়েক বছর আগে এখানে একটি ইট ভাটা নির্মাণ করা হয়। ইট ভাটার কারণে নালাটি বন্ধ। ফলে পানি নিষ্কাশনের আর কোন ব্যবস্থা না থাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।
কৃষকরা জানান, পানি জমে যাওয়ায় বিঘা প্রতি সাত থেকে আট হাজার টাকা পর্যন্ত মজুরী দিতে হচ্ছে কৃষকদের। তবুও শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। ক্ষেত থেকে কেটে আনা ধানে পানি জমে আছে। শ্রমিক সংকটে বেশি দিন পানি জমায় ধান থেকে চারা বের হবে। রোদ নেই।
হরিনাবাড়ী গ্রামের কৃষক মিন্টু মিয়া বলেন, বৈরী আবহাওয়া হলেও এবার ধান বেশ ভালো হয়েছে। কিন্তু কয়েকদিনের বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা হয়ে পানির নিচে ডুবে আছে ধান। প্রায় ৪০ শত জমি পানিতে লুয়ে পড়েছে। আগে এক বিঘা জমি ধান কাটতে তিন/চার হাজার লাগত, সেখানে এখন সাত/আট হাজার টাকা বেশি লাগছে। টাকা দিয়েও শ্রমিক মিলছে না।
নান্দিশহর গ্রামের ইজিবাইক চালক জাফিরুল বলেন, কষ্টের ফসল চোখের সামনে জমির পানিতে পচে যাবে। ঋণ করে এসব জমিতে ধান লাগাইছি। যেটুকু ধান পাবো, তা দিয়ে ঋণ পরিশোধ করবো, না নিজের খাদ্য মেটাবো?
গাইবান্ধা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক কৃষিবিদ আতিকুল ইসলাম মোবাইল ফোনে দেশ রূপান্তরবে বলেন, চলতি বছরে জেলায় ১ লাখ ২৯ হাজার ২০ হেক্টর জমিতে বোরো (ইরি) ধান চাষ করা হয়েছে। তবে কয়েকদিনের বৃষ্টির পানিতে ২১২ হেক্টর জমি আক্রান্ত হয়েছে। জমি থেকে পানি দ্রুত নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করতে হবে। নতুন করে বৃষ্টি না হলে আক্রান্ত জমিগুলোর ক্ষতি হবে না। মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের ধান কাটার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।