এত কাছে তবু দূরে! ইউরোপইয়া ইউনিয়ন টি২০ বেলজিয়াম নামে নতুন একটি ফ্র্যাঞ্চাইজি ভিত্তিক ক্রিকেট লিগ শুরু হতে যাচ্ছে বেলজিয়ামে। অথচ সেই আসরের জার্সি উন্মোচন অনুষ্ঠান হলো মুম্বাইতে! কারণ লিগের আয়োজক, পৃষ্ঠপোষকদের অনেকেই ভারতীয়। আছেন জহির খান, ইরফান পাঠানদের মত সাবেক ভারতীয় ক্রিকেটাররাও। সেখানেই এসেছিলেন সাকিব আল হাসান, অ্যাকসেল ইউনাইটেড ব্রাসেলস দলের অধিনায়কত্ব করবেন বাংলাদেশের এই অলরাউন্ডার। সেখানেই সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে জানিয়েছেন, বিশ্বকাপে অংশ না নেয়া ছিল অন্তর্বর্তী সরকারের মস্ত বড় ভুল।
তামিম ইকবালের বিসিবি প্রধান হওয়া প্রসঙ্গে সাকিব সাংবাদিকদের জানান, 'আমি বলতে চাচ্ছি, তিনি তো নির্বাচিত নন—আসলে তিনি সেখানে আছেন নির্বাচন আয়োজন করার জন্য। আমার মনে হয়, তিনি যদি সভাপতি হন, তবে তার একটি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা থা'কবে এবং নিশ্চিতভাবেই বাংলাদেশের ক্রিকেট তার মাধ্যমে উপকৃত হবে।' সাকিবের নেতৃত্বে ২০২৩ বিশ্বকাপের দলে তামিমকে না রাখা, পদত্যাগ এবং পরবর্তীতে সাকিবের রাজনৈতিক জীবন, সবকিছু মিলিয়ে দুইজনের সম্পর্কের সমীকরণটা যে সহজ নেই সাকিবের উত্তরে সেই আভাষটা স্পষ্ট।
২০২৬ সালের বিশ্বকাপে খেলতে ভারতে যায়নি বাংলাদেশ, নিরাপত্তার অভাবের অজুহাতে নাম প্রত্যাহার করে নেয় সরকারি নির্দেশে। সাকিব মনে করেন সেটা ছিল চরম ভুল, ‘আমার মনে হয় এটা বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য অনেক বড় একটি ক্ষতি এবং বিশাল বড় একটা সুযোগ হারানো। কারণ একটি দেশ হিসেবে আমরা আমাদের খেলোয়াড়দের বিশ্বকাপ এবং অন্যান্য ম্যাচ খেলতে দেখতে পছন্দ করি। আমরা ক্রিকেট পাগল একটি জাতি, আর তাই বাংলাদেশের মতো একটি দেশের বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ না করাটা সত্যিই অনেক বড় একটা অভাব ছিল। আমার মতে, সেই বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ না করার যে সিদ্ধান্ত সরকার নিয়েছিল, সেটি একটি মারাত্মক ভুল ছিল।’
বাংলাদেশ দলের খেলার খোঁজ খবরও ভালই রাখছেন সাকিব, নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জয়ের খবর তার অজানা নয়, ‘ওরা এখন দুর্দান্ত ফর্মে আছে। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম টি-টোয়েন্টি জিতে নিয়েছে। দল হিসেবে ওরা এখন বেশ শক্তিশালী। আগে দেখা যেত ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের ওপর দল চলতো, কিন্তু এখন ওরা দলগতভাবে খেলছে—আর উন্নতির জন্য এটাই হওয়া উচিত।’ তার মত আগামীতে কে হতে পারে বাংলাদেশ থেকে উঠে আসা বৈশ্বিক তারকা, এমন প্রশ্নে সাকিব কারও নাম নিলেন না, ‘আমি ঠিক কারো নাম প্রস্তাব করতে চাইছি না, তবে অধিকাংশ খেলোয়াড়ই বেশ সম্ভাবনাময় এবং তারা সত্যিই খুব ভালো করছে। আমাদের বেশ কয়েকজন অভিজ্ঞ খেলোয়াড় আছে এবং এর পাশাপাশি নতুন যে প্রজন্ম উঠে আসছে, সব মিলিয়ে আমার মনে হয় আমাদের ভবিষ্যৎ বেশ উজ্জ্বল।’
একই সঙ্গে ভারতের ক্রিকেট অবকাঠামোরও প্রশংসা করে বলেছেন, আগামী ৫০ বছরেও ভারতে মানসম্মত ক্রিকেটারের ঘাটতি হবে না, 'প্রচুর তরুণ খেলোয়াড় উঠে আসছে। আপনি একজনের নাম বললেন, (বৈভব সূর্যবংশী) তবে আরও অনেকেই আছেন যারা সত্যিই খুব ভালো করছেন। আমার মনে হয় ভারতীয় ক্রিকেটের পাইপলাইন বর্তমানে এমন এক অবস্থায় আছে যে, আগামী অন্তত ৫০ বছর তাদের কোনো সমস্যায় পড়তে হবে না। তারা নিয়মিত নতুন খেলোয়াড় তৈরি করে যাবে, কারণ তাদের টুর্নামেন্টগুলোই (যেমন আইপিএল) খেলোয়াড় তৈরির কারখানা। তবে আইপিএল খেলার প্রতি সবার ঝোঁক থাকায় তারা হয়তো টেস্ট ম্যাচে কিছুটা সংগ্রাম করতে পারে। তাই হয়তো তারা সেখানে (টেস্ট ক্রিকেটে) বিনিয়োগ শুরু করতে পারে; তবে যাই হোক না কেন, আইপিএল এবং ঘরোয়া ক্রিকেটের মাধ্যমেই তারা দুর্দান্ত সব খেলোয়াড় উপহার দিয়ে যাবে।'