পশ্চিমবঙ্গে দ্বিতীয় ধাপেও ভোটের রেকর্ড

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভার নির্বাচনের দ্বিতীয় ও শেষ ধাপের ভোটগ্রহণ হয়েছে। গতকাল বুধবার রাজ্যটির মোট সাতটি জেলার ১৪২টি আসনে ভোট হয়। এই আসনগুলোয় ভোটার সংখ্যা প্রায় ৩ কোটি ২১ লাখ। এর আগে, গত ২৩ এপ্রিল প্রথম দফায় ১৫২টি আসনের ভোট হয়; সেখানে প্রায় ৯২ শতাংশ ভোটার ভোট দিয়েছিলেন। আনন্দবাজার পত্রিকা জানিয়েছে, রাজ্যের রাজধানী কলকাতার পাশাপাশি উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব বর্ধমান, হুগলি, হাওড়া ও নদীয়ায় ভোট হয়েছে। সকাল ৭টা থেকে শুরু হয়ে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত চলে ভোটগ্রহণ। দ্বিতীয় দফায় বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোটদানের হার ছিল ৮৯.৯৯ শতাংশ। সবচেয়ে বেশি ভোট পড়েছে পূর্ব বর্ধমানে; সবচেয়ে কম কলকাতা দক্ষিণে।

ভোটে যেন কোনো অপ্রীতিকর ও কারচুপির ঘটনা না ঘটে সেজন্য পশ্চিমবঙ্গে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছিল। নির্বাচন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিক্ষিপ্ত কিছু ঘটনা ঘটলেও পুরো নির্বাচন শান্তিপূর্ণ পরিবেশে হয়েছে। এরমধ্যে ভবানীপুরে কিছুটা উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। সেখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী তৃণমূল কংগ্রেসের মমতা ব্যানার্জী ও বিজেপির পশ্চিমবঙ্গ শাখাপ্রধান শুভেন্দু অধিকারী। শুভেন্দু ভবানীপুরের একটি বুথে গেলে সেখানে তাকে ঘিরে ধরেন তৃণমূলের সমর্থকরা। ওই সময় তাকে মারধরের চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন শুভেন্দু।

এবারের বিধানসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছে রাজ্যে ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেস ও ভারতের কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন বিজেপির মধ্যে। রাজ্যজুড়ে তৃণমূলের এ আধিপত্যে ভাগ বসাতে শাসক দলের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, আইনশৃঙ্খলার অবনতি ও উন্নয়নের অপ্রতুলতা তুলে ধরে ব্যাপক প্রচার চালিয়েছে বিজেপি। এভাবে এগিয়ে থাকা তৃণমূলের সঙ্গে তারা ব্যবধান কিছুটা কমিয়ে আনতে পেরেছে বলে ধারণা পর্যবেক্ষকদের। উন্নয়নে পিছিয়ে থাকার জন্য তৃণমূল কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের তহবিল আটকে রাখাকে দায় দিয়েছে। ২০২১ এর নির্বাচনেও এ দুই পক্ষের মধ্যে একই ধরনের লড়াই হয়েছিল। সেবার তৃণমূল কংগ্রেস তাদের সেরা ফল দেখিয়ে ২১৫টি আসন জিতে নিয়েছিল। বিজেপি পেয়েছিল ৭৭টি আসন। তবে এই দুই দলের তীব্র লড়াইয়ের পাশাপাশি কংগ্রেস, সিপিআইএম, আইএসএফ এবং আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রার্থীরাও এবারের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

২০১১ সালে সিপিএমের ৩৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটিয়ে পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতায় আসে মমতা ব্যানার্জীর নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস। তারপর থেকে টানা তিনটি বিধানসভা নির্বাচনে জয়ী হয়ে পশ্চিমবঙ্গে নিজেদের আধিপত্য ধরে রেখেছে ভারতীয় কংগ্রেসের দলছুট অংশটি। অনেকে বলছেন, আগের নির্বাচনগুলোর তুলনায় এবারই সবচেয়ে কঠিন লড়াইয়ের মুখোমুখি হলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা। আগামী ৪ মে ভোট গণনার পর ফল ঘোষণা করা হবে। রাজ্যটিতে কোনো দল বা জোটকে সরকার গঠন করতে ১৪৮টি বা তার বেশি আসনে জয় পেতে হবে।