ইন্দোনেশিয়ায় ৭৫০টির বেশি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বন্ধের সিদ্ধান্ত

আপডেট : ১৫ আগস্ট ২০২৬, ০৭:৩৩ এএম

ইন্দোনেশিয়ার সরকার চলতি বছরের শেষ নাগাদ ৭৫০টির বেশি রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো গতকাল শুক্রবার পার্লামেন্টে জাতির উদ্দেশে ভাষণে এ ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে ‘অনুৎপাদনশীল নয়’Ñ এমন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিচালনা পর্ষদের কর্মকা- তদন্তে একটি বিশেষ আদালত গঠনের সম্ভাবনাও বিবেচনা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

প্রেসিডেন্ট প্রাবোও বলেন, ‘অনুৎপাদনশীল’ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা অনেক বেশি। তারা সবসময় লোকসান করছে, অথচ মুনাফা দেখাচ্ছে। এসব মুনাফা আসলে কাগজে-কলমে তৈরি করা।’

গত বছর রাষ্ট্রীয় সম্পদ পরিচালনার জন্য ইন্দোনেশিয়া দানান্তারা নামে একটি সার্বভৌম সম্পদ তহবিল গঠন করে। এর মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় সম্পদের হিসাব পর্যালোচনা করতে গিয়ে দেখা যায়, দেশে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ১ হাজার ৭৪টি।

প্রাবোও বলেন, ‘আমি ভেবেছিলাম রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৩০০ বা ৪০০। কিন্তু দেখা গেল, সংখ্যা ১ হাজার ৭৪টি।’ তিনি অভিযোগ করেন, এসব প্রতিষ্ঠানের কিছু নিজেদের মতো করে পরিচালিত হচ্ছে এবং দেশের প্রতি তাদের যথাযথ দায়িত্ববোধ নেই।

প্রেসিডেন্ট জানান, এরই মধ্যে ২৯০টি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে দেশে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৩০০টির বেশি থাকবে না। তিনি বলেন, ‘আমরা ৭৫০টির বেশি প্রতিষ্ঠান বন্ধ করব। শুধু সেসব প্রতিষ্ঠানই রাখা হবে, যেগুলো উৎপাদনশীল।’

এই উদ্যোগকে তিনি ‘বিশ্বের সবচেয়ে বড় করপোরেট পুনর্গঠনগুলোর একটি’ হিসেবে উল্লেখ করেন।

প্রাবোও জানান, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠনের মাধ্যমে ইতিমধ্যে প্রায় ৫০ ট্রিলিয়ন ইন্দোনেশীয় রুপিয়াহ (২ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলারের বেশি) পরিচালন ব্যয় সাশ্রয় হয়েছে। এর মধ্যে পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের বেতন, ভবন ও গাড়ি ভাড়া এবং ব্যবসায়িক ভ্রমণের খরচ কমানোর বিষয় রয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত