সয়াবিন তেলের দাম বাড়ল। প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে চার টাকা। খোলা সয়াবিন তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে প্রতি লিটারে চার টাকা। গতকাল বুধবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে ভোজ্যতেলের মূল্য পর্যালোচনাসংক্রান্ত বৈঠক শেষে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির সয়াবিন তেলের নতুন দাম ঘোষণা করেন।
কয়েক মাস ধরেই সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো তেলের দাম বাড়ানোর জন্য চেষ্টা করছিল। ভোজ্যতেল সরবরাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠন বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনষ্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে দাম সমন্বয়ের প্রস্তাবও দেওয়া হয়। এ নিয়ে একাধিক বৈঠকেও দাম বাড়াতে না পেরে ব্যবসায়ীরা বাজারে তেলের সরবরাহ একেবারেই কমিয়ে দিয়েছিল ব্যবসায়ীরা। বাজারে তেল কিনতে গিয়ে মাস খানেকেরও বেশি সময় ধরে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। এই অবস্থায় সরকার তেলের দাম বাড়ানোর অনুমতি দিল ব্যবসায়ীদের।
নতুন দাম অনুযায়ী, প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ১৯৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা আগে ছিল ১৯৫ টাকা। খোলা সয়াবিন তেলের দাম ১৭৬ টাকা থেকে চার টাকা বাড়িয়ে ১৮০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া পাঁচ লিটারের বোতল ৯৫৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৯৭৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে পাম ওয়েলের দাম বাড়ানো হয়নি।
দেশের ভোজ্যতেল সরবরাহকারী কোম্পানিগুলোর সঙ্গে বৈঠকে শেষে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, অনেকে অভিযোগ করেছেন, রূপচাঁদা ও তীর, এই দুই ব্র্যান্ডের কমতি। আবার ফ্রেশের সরবরাহ আছে, আবার অনেকে খোলা তেল বিক্রি করছেন, তাদের সরবরাহও আছে। নতুন একটা ব্র্যান্ডও দেখেছি। এগুলোর পক্ষে-বিপক্ষে দুই দিকেই কথা আছে। সব মিলিয়ে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ কোনো কোনো ব্র্যান্ডের কম, এটা আমি বাজারে দেখেছি। এ পরিস্থিতি মূল্যায়নে বসেছি আমরা।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এবার তেলের দাম নির্ধারণে ভোক্তাদের বোতলজাত ও খোলা সয়াবিনে বাড়তি এক টাকা করে গুনতে হবে। কারণ দোকানিদের কাছ থেকে এক টাকা ফেরত নেওয়া কিছুটা জটিল। এ ছাড়া এক লিটারের বোতলের দাম ১৯৯ টাকা এবং খোলা সয়াবিনের দাম ১৭৯ টাকা নির্ধারণ করায় এই বাড়তি খরেেচ পড়তে হবে ভোক্তাকে। জানা গেছে, ব্যবসায়ীরা প্রতি লিটার সয়াবিন তেলের দাম ১২ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাবনা দিয়েছিল সরকারের কাছে।