সোনারগাঁওয়ে বর্জ্য নিয়ে দুর্ভোগ

আপডেট : ১৫ আগস্ট ২০২৬, ০৬:৫৮ এএম

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে বর্জ্য ফেলার কোনো ডাম্পিং স্টেশন না থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সোনারগাঁও পৌরসভা, মোগরাপাড়া, কাঁচপুর ও পিরোজপুর ইউনিয়নে এ সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করেছে। এসব এলাকায় দ্রুত নগরায়ণের ফলে তৈরি হয়েছে শত শত বহুতল ভবন। এসব ভবনের অসংখ্য ফ্ল্যাট থেকে প্রতিদিন ফেলা হচ্ছে বিপুল পরিমাণ গৃহস্থালি বর্জ্য। এগুলো ফেলার জন্য যথাযথ ব্যবস্থাপনা ও নির্দিষ্ট কোনো ডাম্পিং স্টেশন না থাকায় অপরিকল্পিতভাবে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ফেলা হচ্ছে ময়লা-আবর্জনা। এতে পরিবেশ দূষণ বাড়ছে, বাড়ছে জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মোগরাপাড়া ও পিরোজপুর ইউনিয়নের বর্জ্য ফেলা হচ্ছে সোনারগাঁওয়ের মেঘনা ও ব্রহ্মপুত্রের শাখা নদী মেনিখালীতে। এতে মেনিখালী নদীর পানি মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে। অপরদিকে  কাঁচপুর ইউনিয়নের বর্জ্য ফেলা হচ্ছে মহাসড়কের পাশে।

সোনারগাঁও পৌর এলাকায় এতদিন একটি অস্থায়ী ডাম্পিং স্টেশন থাকলেও জায়গাটি ব্যক্তিমালিকানাধীন হওয়ায় সেখানে এখন আর বর্জ্য ফেলা যাচ্ছে না। তাই গত দুই মাস যাবৎ পৌর এলাকার বিভিন্ন রাস্তার পাশে স্তূপাকারে জমা হচ্ছে। এতে ওই এলাকায় তীব্র দুর্গন্ধ ছড়ানোর পাশাপাশি পরিবেশ দূষিত হচ্ছে মারাত্মকভাবে। ঐতিহাসিক ও পর্যটন নগরী হিসেবে পরিচিত সোনারগাঁওয়ে অনিয়ন্ত্রিতভাবে বর্জ্য ফেলার কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও এখানে ঘুরতে আসা দর্শনার্থীরা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কাঁচপুর নয়াবাড়ি, পিরোজপুরের আষাঢ়িয়ার চর, মেনিখালি ব্রিজের পাশে, পৌর এলাকার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের পৌরভবনাথপুর, উদ্ধবগঞ্জ ব্রিজের পাশে, ঐতিহাসিক পানাম সেতুর পাশে, আদমপুর লেকসিটি, ৭ নম্বর ওয়ার্ডের দিঘীরপাড় ও টিপরদী খালে খোলা স্থানেই ফেলা হচ্ছে গৃহস্থালি ও বাণিজ্যিক বর্জ্য। এছাড়া স্থানীয় বাজারগুলোতে তৈরি হওয়া প্রাত্যহিক বর্জ্য প্রতিনিয়ত ফেলা হচ্ছে আশপাশের নিচু জমি ও জলাভূমিতে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগে পৌর এলাকার বিভিন্ন স্থানে ৭টির মতো ডাস্টবিন ছিল। কিন্তু ৫ আগস্টের পর রাতের আঁধারে ওই ডাস্টবিনগুলো চুরি করে নিয়ে গেছে। বর্তমানে পৌর এলাকায় কোনো ডাস্টবিন না থাকায় যেখানে সেখানে ময়লা ফেলা হচ্ছে। এছাড়া  নিয়মিত ময়লা অপসারণ না করায় দুর্গন্ধ বাতাসে ছড়িয়ে পুরো এলাকা বিষাক্ত হয়ে উঠছে।

পৌর এলাকার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ইকবাল হোসেন বলেন, সোনারগাঁও একটি ঐতিহাসিক জায়গা, প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ এখানে ঘুরতে আসেন। এখানে যত্রতত্র ময়লা আর্বজনা ফেলার কারণে স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। তাছাড়া পরিবেশ দূষিতও হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন আমরা স্থায়ী ডাম্পিং জোনের দাবি জানাচ্ছি, কিন্তু কোনো সমাধান পাচ্ছি না।

বিশিষ্ট লেখক ও সংগঠক কবি শাহেদ কায়েস বলেন, সোনারগাঁওয়ে গৃহস্থালি বর্জ্যরে পাশাপাশি রিসাইক্লিং ব্যবস্থা ও আধুনিক প্ল্যান্ট না থাকায় শিল্পকারখানার বর্জ্য এবং প্লাস্টিক বর্জ্য সরাসরি মিশে যাচ্ছে স্থানীয় জলাশয়ে। ফলে মাছসহ জলজ প্রাণী বিলুপ্তির মুখে পড়ছে এবং কমে যাচ্ছে আবাদি জমির উর্বরতা। দেশের অন্যতম প্রধান পর্যটন কেন্দ্র হওয়ায় সোনারগাঁওয়ের এই অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ দেশি-বিদেশি পর্যটকদের মধ্যে বিমুখতা তৈরি করছে, যা স্থানীয় পর্যটন শিল্পের জন্য বড় হুমকি। সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন সোনারগাঁও শাখার সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান জানান, পৌরসভা ও উপজেলার সমন্বয়ে দ্রুত একটি আধুনিক স্থায়ী ডাম্পিং স্টেশন স্থাপন, প্লাস্টিক, তরল ও পচনশীল বর্জ্য আলাদা সংগ্রহের ব্যবস্থা করা জরুরি। এ ছাড়াও নিয়মিত বর্জ্য অপসারণ, বাজার ও পর্যটন কেন্দ্র এলাকাগুলোতে প্রতিদিন নির্ধারিত সময়ে ডাস্টবিন পরিষ্কার করা, যত্রতত্র ময়লা ফেলার বিরুদ্ধে জরিমানা ও সচেতনতামূলক প্রচারণার মাধ্যমে এ সমস্যার সমাধান করা সম্ভব।

এ বিষয়ে সোনারগাঁও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সোনারগাঁও পৌরসভার প্রশাসক আসিফ আল জিনাত জানান, সোনারগাঁওয়ে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য কোনো ডাম্পিং না থাকার কারণে সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। স্থায়ী ডাম্পিংয়ের জন্য জায়গা খোঁজা হচ্ছে কিন্তু কোথাও জায়গা পাওয়া যাচ্ছে না। প্রয়োজনীয় জায়গা পেলে এ সমস্যার সমাধান করা যাবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত