বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে শত শত বিঘা জমির ইরি-বোরো ধান

‎গত দুই দিনের কালবৈশাখী ঝড় ও ভারী বৃষ্টিপাতে সিরাজগঞ্জের ৯ উপজেলার চর ও নদীতীরবর্তী নিচু জমি ও তাড়াশ উপজেলার চলনবিল অঞ্চলে তলিয়ে গেছে শত শত বিঘা জমির ইরি-বোরো ধান। ফলে এ বছর ফলন কম হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় কৃষকরা।

‎‎তাড়াশ উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, তাড়াশ সদর, মাধাইনগর, তালম, বারুহাস, নওগাঁ ও মাগুরা বিনোদ ইউনিয়নসহ বিভিন্ন এলাকায় অতি ভারি বৃষ্টি ও ঝড়ে শত শত বিঘা জমির পাকা ধান মাটিতে নুইয়ে পড়েছে। আবার অতি বৃষ্টির কারণে নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে অনেক আবাদি জমি পানিতে ডুবে গেছে। ফলে ধান কাটার উপযুক্ত সময় ঘনিয়ে আসার আগেই হঠাৎ এই বৃষ্টি ও পানি বৃদ্ধি কারনে কৃষকদের ধান জমিতেই নষ্ট হওয়ার অবস্থা হয়েছে। অনেক জমিতে পানি জমে যাওয়ায় জমি থেকে আধা পাকা ধান কাটতে বাধ্য হচ্ছে কৃষকরা। ফলে তারা চরম ক্ষতির ঝুঁকিতে পড়েছে।

তাড়াশ ‎উপজেলার মাধাইনগর ইউনিয়নের কাস্তা গ্রামের কৃষক আইয়ুব আলী জানান, অনেক কষ্ট ও খরচ করে তিনি এ বছর ধান চাষ করেছেন। কিন্তু আকস্মিক ঝড় বৃষ্টির কারণে তার অধিকাংশ জমির ধান পানিতে ডুবে গেছে ও ঝড়ে নুয়ে পড়েছে। ফলে তিনি বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন। তিনি আরও বলেন, দ্রুত আবহাওয়া অনুকূলে না এলে তিনি চরম আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। 

‎‎একই এলাকার কৃষক আব্দুল মালেক বলেন, ধান এখনও কাটার উপযোগী হয়নি। এ সময় এভাবে ঝড় বৃষ্টি হওয়ায় জমির ধান নুইয়ে পড়েছে। এখন আবার বৃষ্টির পানিতে ধান ডুবে নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়ে পড়েছে। ফলে তিনি চরম ক্ষতির আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

‎‎তালম ইউনিয়নের কৃষক সাইফুল ইসলাম জানান, এ বছর জমিতে সার, বীজ ও সেচে প্রচুর টাকা খরচ হয়েছে। হঠাৎ এখন ঝড়-বৃষ্টিতে জমির ধান নুইয়ে পড়েছে। কোথাও আবার পানিতে তলিয়ে গেছে। ফলে চরম লোকসানের আশঙ্কা করছি। দ্রুত আবহাওয়া ভালো না হলে কৃষকদের অনেক বড় ক্ষতি হয়ে যাবে।

তাড়াশ ‎‎উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শর্মিষ্ঠা সেন গুপ্তা বলেন, টানা বৃষ্টিপাত ও ঝোড়ো হাওয়ার কারণে অনেক এলাকায় ইরি-বোরো ধান নুইয়ে পড়েছে। অনেক জমির ধান বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে। এ অবস্থায় কৃষকদের জমির ধান নষ্ট হওয়ার শংকা দেখা দিয়েছে। তাই জমি থেকে অতিরিক্ত পানি দ্রুত নিষ্কাশন করা না গেলে ক্ষতির আশংকা রয়েছে। তিনি ধান পরিপক্ব হলে দ্রুত ফসল কেটে ঘরে তোলার পরামর্শ দিয়েছেন কৃষকদের। এতে কৃষকদের ক্ষতির পরিমাণ কমে আসবে বলে তিনি মনে করেন। 

তিনি আরও বলেন, সার্বক্ষণিকভাবে আমাদের মাঠকর্মীরা কৃষকদের খোঁজ খবর রাখছেন এবং সঠিক পরামর্শ দিচ্ছেন। যাতে কৃষকরা তেমন বড় ধরণের ক্ষতির সন্মুখীন না হয়। এছাড়া এ ঝড় বৃষ্টিতে শাহজাদপুর, চৌহালী ও কাজিপুর উপজেলার যমুনা, করতোয়া, বড়াল নদী তীরবর্তী নিচু জমির ধান ডুবে যাওয়ায় কৃষকরা বিপাকে পড়েছেন। এ ছাড়া ঝড়-বৃষ্টিতে জেলার অন্যান্য উপজেলায়ও ইরি-বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে।