নিজেকে ‘শিশু মুক্তিযোদ্ধা’ দাবি করলেন জামায়াত নেতা তাহের

নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় উপনেতা ও জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের বলেছেন, আজকে আমাদের অনেক বেশি করে রাজাকার, আলবদর বলার চেষ্টা করা হচ্ছে। আমরা যারা এখানে বসে আছি, আমরা কেউ রাজাকার বা আলবদর ছিলাম না। আমরা জামায়াতে ইসলামীর বর্তমান নেতৃত্ব। যদি বীর মুক্তিযোদ্ধাদের কথা বলেন, তবে আমিও একজন “শিশু মুক্তিযোদ্ধা”।’

গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে বিরোধীদলীয় উপনেতা একথা বলেন। আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের বলেন, ‘আমার বাড়ি ছিল সীমান্তের কাছে। যারা ভারতে শরণার্থী হিসেবে যেত, তারা আমাদের বাড়িতে আশ্রয় নিত। আমরা তাদের নাশতা খাওয়াতাম এবং (পাকিস্তানি) সেনাবাহিনী টহল দিচ্ছে কি না, তা পাহারা দিতাম। সেনাবাহিনী দূরে থাকলে আমরা তাদের পথ দেখিয়ে দিতাম, যাতে তারা নিরাপদে ভারতে পার হতে পারে।’ এ সময় জামায়াতের এই নেতা আওয়ামী লীগের মন্ত্রিসভায় ‘রাজাকার’ মাওলানা নুরুল ইসলাম এবং জিয়াউর রহমানের মন্ত্রিসভায় শাহ আজিজুর রহমানের মতো ব্যক্তিদের রাখার কথা স্মরণ করিয়ে দেন।

দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে গঠিত অতীতের সরকারের পরিণতি সম্পর্কে বিএনপিকে সতর্ক করে আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের বলেন, ‘দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকা সত্ত্বেও ইন্দিরা গান্ধী (ভারতের প্রধানমন্ত্রী) ক্ষমতাচ্যুত হয়েছিলেন, শেখ সাহেব (শেখ মুজিবুর রহমান) নিহত হয়েছিলেন, শহীদ জিয়াউর রহমানের সময়ের ঘটনাগুলো আমাদের আতঙ্কিত করে। উপমহাদেশে ভারতে ইন্দিরা গান্ধীর সময়ে, পাকিস্তানে বেনজির ভুট্টোর সময়ে, বাংলাদেশে শেখ সাহেবের সময়ে, তারপর শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময়ে এবং বেগম খালেদা জিয়ার সময়ে আমরা অবস্থা দেখেছি। এর একটা ভয়ংকর পরিণতি আমরা দেখি। সেখান থেকে শিক্ষা নিয়েই আমরা চাই, এ ধরনের কোনো অঘটন বাংলাদেশে আর কখনো না ঘটুক।

বিরোধীদলীয় উপনেতা বলেন, ‘আজকে যারা সরকারি দলের আসনে আছেন, তারা বোধ হয় আওয়ামী লীগ থেকে এসেছেন। আর আমরা যারা এদিকে আছি, তারা বোধ হয় জামায়াত-বিএনপির সংসদ সদস্য। কারণ হচ্ছে, আওয়ামী লীগ যখন ক্ষমতায় ছিল এবং আমরা বিরোধী দলে ছিলাম, তখন আওয়ামী লীগ যে ভাষায়, যে ভঙ্গিতে, যে চেতনায় এবং যেমন বিষয়ে জামায়াতের বিরুদ্ধে বলত এবং আচরণ করত; ঠিক আজকে সরকারি দলের পক্ষ থেকে আমরা একই ধরনের আচরণ লক্ষ করছি।’

জামায়াতের এই নেতা বলেন, ‘গতকাল আমি শুনেছি মাননীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী নাকি “তুই রাজাকার” বলেছেন। সংসদের ভেতরে আমার মনে হয় এটি খুবই অরুচিকর ও অসংগত একটি শব্দ।’ পারস্পরিক শ্রদ্ধা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘শুধু দু-একটি শব্দ দিয়ে যদি আমরা একে অপরকে আক্রমণ করতে চাই, তবে আমাদের পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও আত্মবিশ্বাসে ঘাটতি দেখা দেবে।’

এ সময় ইসলামী ব্যাংকের সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর সম্পৃক্ততার প্রতি ইঙ্গিত করে অর্থমন্ত্রীর দেওয়া বক্তব্যের জবাবে বিরোধীদলীয় উপনেতা বলেন, জামায়াতে ইসলামীর এ রকম কোনো ব্যাংক নেই। আমাদের যারা এমপি আছি, ইসলামী ব্যাংকে তাদের কেউ পরিচালক নই, আমরা কোনো ঋণ পুনঃ তফসিলও করিনি। ইসলামী ব্যাংক পরিচালনায় আমাদের ভূমিকা আছে, তবে আমরা তা স্বীকার করি।