অবশেষে শুরু ফেনীর শহীদ শহীদুল্লা সড়কের ড্রেন নির্মাণ কাজ

চাঁদার দাবিতে হামলা, ভাঙচুর ও শ্রমিকদের মারধরের ঘটনায় দীর্ঘ সময় থমকে থাকার পর অবশেষে শুরু হচ্ছে ফেনী শহরের শহিদ শহীদুল্লা কায়সার সড়কের ড্রেন নির্মাণসহ একাধিক উন্নয়ন কাজ। 

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শহরের ফায়ার সার্ভিসের সামনের এলাকায় ফেনী পৌর প্রশাসক রোমেন শর্মার উপস্থিতিতে কাজ শুরু হয়েছে। 

এ সময় ফেনীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নিশাত তাবাসসুম, ফেনী পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী জাকির উদ্দিন, ফেনী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গাজী ফৌজুল আজিম এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি সাইফুল ইসলামসহ ফেনী পৌরসভা, এলজিইডি ও সড়ক ও জনপথ বিভাগের সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে চাঁদা দাবিকে কেন্দ্র করে হামলা, ভাঙচুর ও শ্রমিকদের মারধরের ঘটনায় পৌরসভার গুরুত্বপূর্ণ ড্রেন নির্মাণসহ একাধিক উন্নয়ন কাজ থমকে গেছে। এতে বিশ্বব্যাংক ও বাংলাদেশ সরকারের যৌথ অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন ‘সহনশীল নগর ও আঞ্চলিক উন্নয়ন প্রকল্প (আরইউটিডিপি)’-এর আওতায় নেওয়া বৃহৎ উন্নয়ন পরিকল্পনাও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

পৌরসভা সূত্র জানায়, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের (এলজিইডি) মাধ্যমে ফেনী শহরের ট্রাংক রোডের জিরো পয়েন্ট থেকে মহিপাল পর্যন্ত ড্রেন পুনর্নির্মাণ, ফুটপাত নির্মাণ, ডাক্তারপাড়া, শিল্পকলা একাডেমি সড়ক, জয়নাল আবেদিন সড়ক ও পাঠানবাড়ি রোড উন্নয়নসহ প্রায় ২৮ কোটি টাকার একটি পাইলট প্রকল্পের কার্যাদেশ পায় আরএফএল গ্রুপের প্রতিষ্ঠান প্রোপার্টি ডেভেলপমেন্ট লিমিটেড (পিডিএল)। গত বছরের ২৭ অক্টোবর কার্যাদেশ পেয়ে পাঁচ মাস পেরিয়ে গেলেও প্রকল্পটির কাজ শুরুই করা যায়নি।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অভিযোগ, কাজ শুরু করতে গেলে বাধা ও হামলার মুখে পড়তে হয়েছে। চলতি বছরের ১ ফেব্রুয়ারি শিল্পকলা একাডেমি সড়কে কাজ শুরুর পর অনুমতি না নেওয়ার অভিযোগ তুলে পানি উন্নয়ন বোর্ড কাজ বন্ধ করে দেয়। একই রাতে প্রকল্পের মালামাল সংরক্ষণাগারে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়। পরে ৩ মার্চ ডাক্তারপাড়ায় এবং ৫ এপ্রিল শহিদ শহীদুল্লা কায়সার সড়কে কাজ শুরুর সময় আবারও হামলা চালিয়ে স্কেভেটর ভাঙচুর ও শ্রমিকদের মারধর করা হয়। এ ঘটনায় ৬ এপ্রিল ফেনী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগও করা হয়। তবে হামলার সঙ্গে কারা জড়িত-এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কেউই প্রকাশ্যে মুখ খুলতে রাজি হননি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কর্মকর্তা জানান, কার্যাদেশ স্বাক্ষরের সময় থেকেই এ প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে ঝামেলা তৈরি হয়েছে। স্থানীয় বিএনপির একটি পক্ষ তিন কোটি টাকা চাঁদা দাবি করেছে। পরে তারা কাজের ভাগ চেয়েছে। ফেনীতে স্থানীয়ভাবে একাধিক ঠিকাদারও আমাদের প্রতিপক্ষ মনে করছে। এতে তাদেরও ইন্ধন রয়েছে।

ফেনী বিএনপির কে বা কারা হামলায় জড়িত রয়েছেন জানতে চাইলে এ কর্মকর্তা বলেন, আমরা কোথাও অভিযোগ করছি না। তাই কারও নাম বলতে চাই না।

কারা এসব হামলা করছে এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে প্রতিষ্ঠানটির উপ-প্রকল্প ব্যবস্থাপক ও স্থানীয় দায়িত্বশীল কর্মকর্তা শাহাদাত হোসেন প্রতিবেদককে এড়িয়ে যান। তিনি বলেন, আমি কিছু জানি না, কাউকে চিনি না।

এ ব্যাপারে ফেনী পৌর প্রশাসক রোমেন শর্মা বলেন, পিডিএল'কে কার্যাদেশ দেওয়া প্রকল্পটি এ বৃহৎ পরিকল্পনার অন্যতম পাইলট প্রকল্প। এ প্রকল্পের সফল বাস্তবায়নের ওপর নির্ভর করছে আগামী ৬ বছরে ফেনী ক্লাস্টারে কমপক্ষে ৬০০ কোটি থেকে হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন পরিকল্পনা। সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতায় কাজটি উদ্বোধন করা হলো। আশা করছি দ্রুততম সময়ে এটি যথাযথভাবে সম্পন্ন হবে।