অতিবৃষ্টিতে খোয়াই নদীর বাঁধে ভাঙন

হবিগঞ্জে তলিয়ে যাচ্ছে ধান

হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার সুজাতপুর এলাকায় অতিবৃষ্টিতে প্রায় ৫০ মিটার খোয়াই নদীর বাঁধ ভেঙে হাওরে ঢলের পানি প্রবেশ করেছে। এতে শত শত হেক্টর জমির পাকা আধাপাকা বোরো ধান তলিয়ে গেছে। উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও টানা বর্ষণে নদীর পানি বৃদ্ধি  পাওযায়  এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

এদিকে বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় চুনারুঘাট উপজেলার বাল্লা সীমান্তে খোয়াই নদীর পানি প্রায় দেড় ফুট বৃদ্ধি পাওযায় নিম্নাঞ্চল আরো প্লাবিত হওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছে। গত ৫দিনে হবিগঞ্জে ৩শ মিলি মিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের হিসেবে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত বানিয়াচং, আজমিরীগঞ্জ ও নবীগঞ্জ উপজেলায় বোরো জমি বেশি ক্ষতি হয়েছে। এ পর্যন্ত প্রায় ৭ হাজার হেক্টর জমি পুরোপুরি ও আংশিক পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে। 

সুজাতপুরে খোয়াই নদীর বাধ ভেঙে যাওযায় তিনটি ইউনিয়নের কয়েকশ হেক্টর বোরো ফসল পুরোটাই  বিনষ্ট হয়ে বলে জানালেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সায়েদুর রহমান। তিনি বলেন পানির যে স্রোত তা এ মুহুর্তে বাঁধ মেরামত করা সম্ভব নয়।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা জানান, ধান কাটার মাত্র কয়েকদিন আগে এমন পরিস্থিতিতে তারা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। অনেকেই কাঁচা ধান কাটতে বাধ্য হচ্ছেন। ফলে এ বছর বোরো ধান ঘরে তোলা অসম্ভব হয়ে পড়েছে।  এ অঞ্চলের মানুষ বোরো ফসলের উপর নির্ভরশীল। সারা বছর পরিবার পরিজন নিয়ে কিভাবে চলবেন তা নিয়ে এখন দিশেহারা কৃষক ও বর্গা চাষীরা। কৃষক আবদুল মান্নান বলেন মাত্র ২ কের জমি চাষ করেছিলাম। বাঁধ ভাংগার কারনে পুরো ফসল পানিতে  তলিয়ে গেল। এখন কীভাবে সংসার চালাব ভেবে পাচ্ছি না। শ্রম,সার বীজ সবই গেল পানির নীচে এক লহমায়।

এদিকে বানিয়াচংয়ের উত্তরের হাওরের বাধ ভেঙে হেক্টরের পর হেক্টর ফসলের জমি তলিয়ে গেছে। আজমিরীগঞ্জ উপজেলায়ও অধিকাংশ জমি এখন পানির নীচে। খলায় পানি উঠে যাওযায় কাটা ধান পানির নীচে ডুবে গেছে। খলায় এখন হাস বিচরণ করতে দেখা গেছে।  ফসল হারিয়ে  কৃষকদের ঘরে  চলছে মাতম। যতটুকু ফসল  রক্ষা পেয়েছে  ফরিয়ারা ৫ থেকে ৭শ টাকা মন ধরে ধান ক্রয় করছে। 

বানিয়াচং উপজেলা কৃষি অফিস সূত্র জানায় উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নের মধ্যে ১০টি ইউনিয়নের শত শত হেক্টর জমি অকাল বন্যায় ডুবে গেছে। এ পর্যন্ত ২ হাজার ১৫৬ হেক্টর জমি ক্ষতি হয়েছে বলে জানান উপ সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা অলক কুমার চন্দ।তবে বেসরকারি হিসেবে এর পরিমাণ আরো বেশি হবে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের অতিরিক্ত উপ পরিচালক দীপক কুমার পাল জানান, জেলায় মোট ১ লাখ ২৩ হাজার ৬৪৪ হেক্টর জমিতে এবার বোরে চাষাবাদ হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত তিন হাজার ৩ শ হেক্টর জমির ফসল পুরোপুরি ও তিন হাজার পাচশত হেক্টর আংশিক ক্ষতি হওয়ার হিসাব পাওয়া গেছে। তিনি জানান পানি বৃদ্ধি পেলে ক্ষয়ক্ষতি আরো বাড়বে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে, নদীর পানি এখনো বিপদসীমার নিচে থাকলেও উজানে বৃষ্টি বাড়লে পরিস্থিতি আরও অবনতি হতে পারে।  বৃষ্টি ও উজানের পানি আসা বন্ধ না  হলে বোরো ফসল ব্যাপক ক্ষতি হওয়ার আশংকা রয়েছে।