চেয়ারে বসলে মনে হয় আগুনের তাপ আসছে

জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে সরকারপ্রধানের দায়িত্বকে অত্যন্ত কঠিন ও চ্যালেঞ্জিং হিসেবে অভিহিত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রিত্ব বা সরকারপ্রধানের এই চেয়ারটি দূর থেকে দেখতে খুব আরামদায়ক মনে হলেও আসলে এটি মোটেও আরামের নয়। এই চেয়ারে বসলে আমি প্রতি মুহূর্তে অনুভব করি যে আগুনের তপ্ত হিট বা তাপ আসছে।’

গতকাল বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের শেষ দিনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

পপুলার নয়, সঠিক সিদ্ধান্তের ওপর জোর : প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে জনপ্রিয়তার চেয়ে দেশের স্বার্থে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘একজন রাজনীতিবিদ হিসেবে সংসদ বা জনসভায় অনেক পপুলার কথা বলে হাততালি কুড়ানোর সুযোগ থাকলেও এই দায়িত্বের চেয়ার আমাকে সেই অনুমতি দেয় না। এই চেয়ার প্রতি মুহূর্তে স্মরণ করিয়ে দেয় যে, আমাকে জনপ্রিয় সিদ্ধান্তের চেয়ে সঠিক বা ‘রাইট’ ডিসিশনটি নিতে হবে।’ তিনি আরও যোগ করেন, জনপ্রিয় সিদ্ধান্তের পেছনে ছুটলে সাময়িক বাহবা মিললেও দীর্ঘমেয়াদে দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

খাল খনন ও কৃষির ভবিষ্যৎ : দেশের পানি সংকট ও জলাবদ্ধতা দূরীকরণে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ঐতিহাসিক খাল খনন কর্মসূচি পুনরায় চালুর পরিকল্পনার কথা জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘মাটির নিচের পানির স্তর রিফিল করার লক্ষ্যেই এই কর্মসূচি। এর শুভফল পেতে হয়তো ২০ বছর সময় লাগবে, কিন্তু ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কথা ভেবে এখনই আমাদের এই তপ্ত আগামীর প্রস্তুতি নিতে হবে।’

শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে সংস্কার : নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী শিক্ষা খাতে বাজেটের ৫ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশুদের শিক্ষা উপকরণ দিয়ে উৎসাহিত করার পাশাপাশি শিক্ষকদের সম্মান ও জীবনমান উন্নয়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্য খাত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শুধু হাসপাতালের ভবন নয়, ডাক্তার, যন্ত্রপাতি ও ওষুধের নিশ্চয়তা দিতে কাজ করছে সরকার।

সংসদীয় গণতন্ত্র ও ঋণের চ্যালেঞ্জ : ৩০ লাখ কোটি টাকার ঋণের বোঝা নিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার কঠিন চ্যালেঞ্জের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্থিতিশীল সরকার ও সংসদ ছাড়া এই সংকট কাটিয়ে ওঠা সম্ভব নয়। অতীতের রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও ১৭৩ দিনের হরতালের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, ‘সেই ক্ষতির মাশুল আজও আমাদের টানতে হচ্ছে।’

বিরোধী দলের প্রতি আহ্বান : বিরোধী দলের প্রতি উদার মনোভাব প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ডেপুটি স্পিকার পদটি আপনাদের জন্য দেওয়ার প্রস্তাব এখনো উন্মুক্ত রয়েছে। আপনারা ব্যর্থ হওয়া মানেই আমি ব্যর্থ হওয়া, আর আমাদের কেউ একজন ব্যর্থ হলে পুরো বাংলাদেশ ব্যর্থ হয়ে যাবে।’ রাজনৈতিক বিতর্কের চেয়ে মানুষের ক্ষুধার অন্ন ও অসুস্থ শিশুর চিকিৎসার মতো বাস্তব সমস্যার সমাধানে সরকারি ও বিরোধী দলকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

সংসদে দুটি বিল পাস, পরে দুই দলের বিতর্ক : বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) এবং বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ), এই দুই নিয়ন্ত্রক সংস্থায় চেয়ারম্যান ও সদস্যদের বয়সসীমা তুলে দিয়ে সংসদে দুটি বিল পাস হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে বিল দুটি পাস হওয়ার পর বিল নিয়ে সরকারি দল ও বিরোধী দলের মধ্যে অনির্ধারিত বিতর্ক হয়েছে। সাধারণত আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় বিল পাসের আগে এ ধরনের বিতর্ক হয়। একপর্যায়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রী সিদ্ধান্ত দিয়েছেন, অর্থনৈতিক খাতে কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তিকে নিয়োগ দেওয়া হবে না। জবাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমানকে বিএনপির দলীয় লোক আখ্যা দিয়ে তার অপসারণের দাবি তোলে বিরোধী দল। তবে সরকারি দল বলেছে, গভর্নর দলীয় ব্যক্তি নন।

অর্থমন্ত্রী বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (সংশোধন) বিল এবং বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (সংশোধন) বিল আলাদাভাবে জাতীয় সংসদে পাসের জন্য তোলেন। স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা ছাড়া অন্য কেউ বিল দুটির বিষয়ে জনমত যাচাই-বাছাই কমিটিতে প্রেরণের জন্য লিখিত নোটিস দেননি। সংশোধনী প্রস্তাবও দেননি। ফলে কার্যপ্রণালি বিধি অনুযায়ী, রুমিন ফারহানা ছাড়া অন্য কোনো সদস্য বিলের ওপর আলোচনারও সুযোগ পাননি। তবে বিরোধী দলের একাধিক সদস্য বিলের ওপর আলোচনার জন্য কয়েক দফা হাত তোলেন।

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (সংশোধন) বিল পাসের পর বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ বিলটি আনা হয়। এই বিলের ওপর রুমিন ফারহানা বক্তব্য দেন। বিরোধী দলের সদস্যদের কেউ কেউ বক্তব্য দেওয়ার জন্য হাত তোলেন। তবে তারা কেউ নোটিস না দেওয়ায় স্পিকার কায়সার কামাল কাউকে সুযোগ দেননি।

একপর্যায়ে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান দাঁড়ালে তাকে সুযোগ দেন স্পিকার। বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘আসলে বেশির ভাগ সদস্য আমরা এখানে নতুন এসেছি। আমরা বিধি আস্তে আস্তে রপ্ত করছি।’ তিনি বলেন, এ বিল নির্ধারিত সময়ে পাস করতে হবে এমন বাধ্যবাধকতা নেই। এখানে বিধি মেনে তিন দিন আগে নোটিস দিয়ে বিলটি সংসদে আনা উচিত ছিল। তারা একটু আগে বিলের কপি পেয়েছেন। তিনি সংসদ সদস্যদের অধিকার খর্ব না করার অনুরোধ এবং বিল দুটি স্থগিত রাখার অনুরোধ জানান। ততক্ষণে একটি বিল পাস হয়ে গেছে। এ পর্যায়ে স্পিকার বলেন, বিধি অনুযায়ী গতকাল বিলের রিপোর্ট দেওয়া হয়েছে। সময় মার্জনার এখতিয়ার স্পিকারের আছে। তখন স্পিকার বিলটি (বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ) পাসের প্রক্রিয়ায় এগিয়ে যান। পরে কণ্ঠভোটে বিলটি পাস হয়।

বিল দুটি পাস হওয়ার পর ফ্লোর নেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য আখতার হোসেন। তিনি বলেন, মাত্র দুইটা আইন এখানে পাস করা হলো। আমরা জানি, সরকারি দল এখানে সংখ্যাগরিষ্ঠ। তারা যেভাবে চাইবে সেভাবে আইন পাস হবে। সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন ও বীমা করপোরেশনে নিয়োগের ক্ষেত্রে বয়সের বাধ্যবাধকতা তুলে দেওয়া হয়েছে। তিনি প্রশ্ন রাখেন, যেভাবে বাংলাদেশ ব্যাংকে গভর্নর নিয়োগ হয়েছে, সেভাবে যদি কোনো বিশেষ ব্যক্তিদের মাথায় রেখে এ দুটি আইনে বয়সের সীমা তুলে ধরা হয় তাহলে অর্থমন্ত্রী যেভাবে দক্ষ লোক নিয়োগের কথা বলেছেন সেটার সঙ্গে বৈপরীত্য দেখা দেবে।

আখতারের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে অর্থমন্ত্রীর কিছু বলার থাকলে বলার অনুরোধ করেন স্পিকার। অর্থমন্ত্রী বলেন, যখন আইনটি হয়েছিল তখন দেশের মানুষের গড় বয়স ছিল ৫৭। এখন ৭২ বছর। বিশ্বের প্রায় কোনো দেশে সিকিউটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে বয়সের সীমা নেই। এ বিষয়ে বিরোধী দলের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের আগামীর অর্থনীতির যে নতুন প্রেক্ষাপট সৃষ্টি হচ্ছে, এখানে যোগ্য, দক্ষ ব্যক্তি যদি আসতে চান, মাথায় রাখতে হবে। এখানে ইমোশনের কোনো সুযোগ নেই।

অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যের পর বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, যোগ্য লোকদের যোগ্য জায়গায় জায়গা করে দেওয়া দরকার। কিন্তু একটা কথা আছে যে ‘মর্নিং সোজ দ্য ডে’। সরকারের দুই মাসে বেসিক যে জায়গাগুলোতে হাত দেওয়া হয়েছে, প্রত্যেকটা জায়গায় জনগণের আকাক্সক্ষার বিপক্ষে চলে গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর নিয়োগের ক্ষেত্রে যেটা হয়েছে এবং সাবেক গভর্নরকে যে পদ্ধতিতে বিদায় দেওয়া হয়েছে তা জাতি দেখেছে।

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘এ পর্যন্ত যে সব জায়গায় পরিবর্তন এসেছে, সেগুলা জনগণ ও গণতন্ত্র কোনোটাই সাপোর্ট করে না। এমনকি খেলার মাঠটা পর্যন্ত আমরা উন্মুক্ত রাখতে পারলাম না। ওখানেও গিয়ে আমরা ঝাঁপাইয়ে পড়লাম।’ এভাবে যদি যোগ্যতা বিবেচনা করা হয় দেশ আগাবে কীভাবে, এমন প্রশ্ন রেখে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘আমরা তো কার ইন্টেনশন কী সেটা দেখতে পারব না। এটা মনের ব্যাপার।’ সবকিছুকে রাজনীতিকীকরণ, ক্ষেত্রবিশেষে গোষ্ঠী-পরিবার প্রাধান্য দিয়ে এগোলে দেশ আগাবে না।

জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, আসলে একটা বিল পাস হওয়ার পরে এ ধরনের আলোচনার কোনো সুযোগ ছিল না। এখানে সেটাও রুলস অব প্রসিডিউরের বাইরে হচ্ছে। যেহেতু উনারা প্রশ্ন তুলেছেন আমাদের উত্তর দিতে হবে বিষয়গুলোর। অর্থমন্ত্রী বলেন, যতবার বিএনপি সরকারে এসেছে, বাংলাদেশ ব্যাংক, সিকিউরিটিজ এক্সচেঞ্জ কমিশনে যতগুলো নিয়োগ হয়েছে, সবগুলো ছিল অরাজনৈতিক। যে কারণে আর্থিক শৃঙ্খলার ক্ষেত্রে বিএনপি সরকারের সময় কোনো সমস্যা হয়নি।

অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর কোনো দলের ব্যক্তি নন। তিনি একটা দলের সমর্থক হতেই পারেন। এখন পর্যন্ত গভর্নরের যে ‘পারফরম্যান্স’ তারা দেখেছেন, সেটা অন্য যেকোনো গভর্নরের পারফরম্যান্সের চেয়ে ভালো।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রী সিদ্ধান্ত দিয়েছেন, অর্থনৈতিক খাতে কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে নিয়োগ দেওয়া হবে না। অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের বলেন, প্রধানমন্ত্রী কোনো অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানে দলীয় লোক দেবেন না বলে যে সিদ্ধান্ত দিয়েছেন যদি সেটা হয় তারা ধন্যবাদ দেবেন। কিন্তু এখনকার গভর্নর বাংলাদেশ ব্যাংকের যিনি আছেন, উনার একটা পরিচয় কিন্তু আছে। সেটা হচ্ছে বিএনপির যে নির্বাচন পরিচালনা কমিটি হয়েছিল, উনি এই কমিটির একজন মেম্বার ছিলেন। যদি এ রকম পরিচয় থাকে (গভর্নরের) তাহলে প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তের আলোকে ওনাকে গভর্নর থেকে বাদ দিয়ে এই সিদ্ধান্তের আলোকেই একজন যোগ্য গভর্নর নিয়োগ করা হোক।

তখন স্পিকার কায়সার কামাল বলেন, অর্থমন্ত্রী এ ব্যাপারে আপনি কিছু বলবেন কিনা যে নির্বাচন পরিচালনা কমিটিতে থাকলে দলীয় পদ কি না নির্বাচন পরিচালনা কমিটি নট দল।

তখন অর্থমন্ত্রী বলেন, দলকে সমর্থন করা মানে দলের লোক না। আর কোনো দলকে সমর্থন করে নির্বাচনী কার্যক্রমে সহায়তা করা মানে দলের লোক না। বিরোধী দলের নির্বাচনী কার্যক্রমেও অনেকে সহায়তা করেছেন। যারা তাদের দলীয় লোক নন।

বিল দুটি পাসের মাধ্যমে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান ও কমিশনার পদে এবং বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ও সদস্য পদে সর্বোচ্চ বয়সসীমা তুলে দেওয়া হয়েছে।

এত দিন আইনে ছিল, কোনো ব্যক্তির বয়স ৬৫ বছর পূর্ণ হলে তিনি বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের চেয়ারম্যান বা কমিশনার পদে নিযুক্ত হওয়ার উপযুক্ত বিবেচিত হন না বা পদে বহাল থাকতে পারেন না। বিলে এই বিধানটি বাদ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ আইনে বলা ছিল, কোনো ব্যক্তির ৬৭ বছর পূর্ণ হলে তিনি বীমা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান বা সদস্য হতে পারবেন না। সংসদে পাস হওয়া বিলে এই বিধানটি বাদ দেওয়া হয়েছে।