প্রাচী-প্রতীচীর যৌথ নন্দন

সত্যজিৎ রায় বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিল্পকলা পড়তে গিয়েছিলেন মায়ের পীড়াপীড়িতে। এখানেই প্রাচ্য নন্দনতত্ত্ব তার ভাবনায় গভীর প্রভাব ফেলে। ভারতীয় শিল্পের প্রতি অনুরক্তি সৃষ্টিতে চিত্রশিল্পী নন্দলাল বসু ও বিনোদ বিহারী মুখোপাধ্যায়ের কথা তিনি বারবার বলেছেন। কর্মসূত্রে বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাহিত্য নিয়ে কাজ করতে গিয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন, পথের পাঁচালীই হবে তার প্রথম চলচ্চিত্রের বিষয়বস্তু। চলচ্চিত্র নির্মাণে প্রবেশের বড় মোড় আসে যখন তিনি কলকাতা ফিল্ম সোসাইটি প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা রাখছিলেন এবং বিশ্বসিনেমার ক্লাসিক কাজগুলোর সঙ্গে পরিচিত হচ্ছিলেন। বিশেষ করে ইতালীয় নব্য-বাস্তবতাবাদী চলচ্চিত্র বাইসাইকেল থিভস-এর বাস্তব মানুষের গল্প এবং আবেগের সরলতা তাকে নতুন ভাবনায় উদ্বুদ্ধ করে। প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য নন্দনের ভাবনার মাঝেই প্রথম চলচ্চিত্রের কাজ শুরু হয়ে যায়। তার চলচ্চিত্রে রয়েছে ছন্দময় গতি,

প্রাকৃতিক অভিনয় এবং মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি। তিনি ক্যামেরাকে ব্যবহার করেছেন পর্যবেক্ষকের মতো। শব্দ, সুর আর দৃশ্যময়তায় তার মিতব্যয়িতা বাংলা চলচ্চিত্রকে বাস্তব ও প্রভাবশালী করে তুলেছে। সত্যজিৎ শহুরে পটভূমির চলচ্চিত্রের জন্য পাশ্চাত্য ধারার ধ্রুপদি সংগীতের ব্যবহার পছন্দ করতেন। নিজের অনেক সিনেমার সংগীত এবং আবহ সংগীতের সুরকার ছিলেন তিনি। সত্যজিৎ ভারতীয় চলচ্চিত্রের ভাষার পাশাপাশি আবহ সংগীতেও একটা নতুন দিকের সন্ধান দিয়েছিলেন।

সানজিদা আমীর ইনিসী