জীবিকার তাগিদে বেলকুচির সড়কে সিএনজি শ্রমিকরা

আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবসে যখন নানা আনুষ্ঠানিকতা চলছে, তখন সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে জীবিকার তাগিদে সড়কে সিএনজিচালিত অটোরিকশা নিয়ে বেরিয়েছেন শত শত শ্রমিক। তাদের কাছে মে দিবস মানেই কাজের দিন।

বেলকুচি-কড্ডা রুটের সিএনজি চালক রফিকুল ইসলাম বলেন, মে দিবস কী, তা শুনেছি। কিন্তু আমাদের ছুটি নাই। গাড়ির মালিককে দৈনিক ৫০০ টাকা জমা দিতে হয়। একদিন গাড়ি না চালালে নিজের খাওয়া আর মালিকের জমা—দুইটাই মাইর যায়। সংসার চালাব কী দিয়ে?

বেলকুচি বাসস্ট্যান্ডের আরেক চালক মাসুদ শেখ জানান, ঈদ-পার্বণেও আমাদের ছুটি নাই, আর মে দিবস তো দূরের কথা। আজকের দিনেও যাত্রী টানতেছি। সরকারি চাকরিজীবীরা ছুটি পায়, আমাদের কপালে শুধুই চাকা ঘোরানো। 

সিএনজি শ্রমিক সমিতির সদস্য জিয়ারুল ইসলাম জিয়া বলেন, আমরা দিন আনি দিন খাই। শ্রমিকদের অধিকারের কথা শুধু মাইকে শোনা যায়। বাস্তবে দৈনিক জমার চাপ, সড়কে চাঁদাবাজি নিয়েই আমাদের মে দিবস কাটে। এই দিনে আমরা সরকারের কাছে দৈনিক জমা কমানো ও শ্রমিকদের জন্য বেতনসহ ছুটির দাবি জানাই।

বেলকুচি উপজেলায় প্রায় ১ হাজার সিএনজিচালিত অটোরিকশা চলাচল করে। এর সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে ২ হাজারের বেশি শ্রমিক জড়িত। এদের অধিকাংশই মহাজনের কাছ থেকে দৈনিক চুক্তিতে গাড়ি ভাড়া নিয়ে চালান। দৈনিক ৫০০-৬০০ টাকা জমা দেওয়ার পর যা থাকে, তা দিয়েই তাদের সংসার চলে। ফলে একদিন কাজ বন্ধ রাখা মানেই পরিবার নিয়ে উপোস থাকা।

আজ সকালে উপজেলা চত্বরে শ্রমিক সংগঠনগুলো র‍্যালি করলেও বেলকুচি-এনায়েতপুর, বেলকুচি-কড্ডা, বেলকুচি-সিরাজগঞ্জ রুটে সিএনজি চলাচল ছিল স্বাভাবিক। যাত্রী পরিবহনের পাশাপাশি ঈদ পরবর্তী ঘরমুখো মানুষের চাপও সামলাচ্ছেন এই শ্রমিকরা।