বিশ্বজুড়ে পালিত মে দিবসের সমাবেশগুলো এবার শুধু শ্রমিক অধিকার আন্দোলনে সীমাবদ্ধ থাকেনি, অনেক জায়গায় তা রাজনৈতিক বিক্ষোভে রূপ নিয়েছে। ইউরোপ ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশে আয়োজিত কর্মসূচিতে মজুরি বৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও সামাজিক সুরক্ষার দাবির পাশাপাশি যুদ্ধবিরোধী স্লোগান, ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতি এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলবিরোধী বক্তব্য উঠে এসেছে।
শুক্রবার প্যারিস, মাদ্রিদ, ইস্তাম্বুল, মিউনিখ, লন্ডন, ম্যানিলা ও সিউলসহ বিভিন্ন শহরে হাজারো মানুষ রাস্তায় নামেন। বিক্ষোভকারীদের অনেকে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক সংকটের জন্য মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি এবং পুঁজিবাদী ব্যবস্থাকে দায়ী করেন।
ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে শ্রমিক নেতারা মজুরি বৃদ্ধি ও সামাজিক সুরক্ষার দাবি তুললেও বিক্ষোভে ফিলিস্তিনি পতাকা ও যুদ্ধবিরোধী স্লোগান ছিল চোখে পড়ার মতো। একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হলে টিয়ার গ্যাস ও গ্রেনেড ছোড়া হয়।
স্পেনের মাদ্রিদে হাজার হাজার মানুষ “পুঁজিবাদের যুদ্ধের খেসারত দিতে হবে” লেখা ব্যানার নিয়ে মিছিল করেন। সেখানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কড়া সমালোচনা করা হয়।
জার্মানির মিউনিখে উগ্র বামপন্থি বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে।
তুরস্কের ইস্তাম্বুলে ঐতিহাসিক তাকসিম স্কয়ারে যাওয়ার চেষ্টা করলে বামপন্থি দলগুলোর কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়।
ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় মার্কিন দূতাবাসের সামনে বিক্ষোভকারীরা জ্বালানি ও নিত্যপণ্যের দাম কমানোর পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ বন্ধের দাবি জানান। সেখানে ট্রাম্প, নেতানিয়াহু এবং ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়রকে তিন মাথাওয়ালা দানব হিসেবে দেখিয়ে কুশপুত্তলিকা প্রদর্শন করা হয়।
দক্ষিণ কোরিয়ার সিউলে হাজার হাজার শ্রমিকের সমাবেশে কোরিয়া কনফেডারেশন অব ট্রেড ইউনিয়নসের চেয়ারম্যান ইয়াং কিয়ং-সু বলেন, ইরান ও ফিলিস্তিনের জনগণের সঙ্গে সংহতি জানাতে হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৬ সালের মে দিবস দেখিয়ে দিল শ্রমিক অধিকার আন্দোলনের রাজপথ এখন আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতি ও আদর্শিক সংঘাতেরও বড় মঞ্চে পরিণত হয়েছে।