পটুয়াখালীর কুয়াকাটা পৌর শহরের তুলাতলী এলাকার জননী গলদা চিংড়ি হ্যাচারি থেকে প্রতি বছর উৎপাদন করা হয় প্রায় দেড় কোটি চিংড়ির রেনু পোনা। চলতি মৌসুমের শুরুতেই ৫০ লাখ রেনু পোনা উৎপাদন করেছে হ্যাচারিটি। কিন্তু বিক্রির উপযোগী এসব পোনা ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় বিক্রি করতে পারছেন না মালিকরা। এতে লোকসানের শঙ্কা আর অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে সংশ্লিষ্টদের।
শুধু এই হ্যাচারিই নয়, উপজেলার চারটি হ্যাচারিসহ দেশের অধিকাংশ হ্যারচারির চিত্র একই। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, ভারত থেকে অবৈধভাবে আসা ভেজাল রেনু পোনা কম দামে বিক্রি হচ্ছে বাগেরহাটের ফকির হাট, বটলতলা ও কুড়িয়া ব্রিজ সহ সীমান্তবর্তী এলাকায়। একইসঙ্গে নদ-নদী ও সাগর থেকে নির্বিচারে রেনু আহরণে তৈরি হয়েছে অসম প্রতিযোগিতা। দুই দিকের চাপে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে সম্ভাবনাময় দেশের চিংড়ি হ্যাচারি শিল্প। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে বন্ধ হয়ে যেতে পারে শত শত হ্যাচারি। টিকে থাকার লড়াইয়ে ধুঁকছে দীর্ঘদিনের সম্ভাবনাময় এই শিল্প। অবৈধ রেনু পোনার অনুপ্রবেশ ও শিকার বন্ধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে হ্যাচারি বন্ধ করতে বাধ্য হবেন মালিকেরা।
প্রতিটি হ্যাচারিতে ৩০ থেকে ৫০ জনের বেশি শ্রমিক কাজ করেন। হ্যাচারিগুলো বন্ধ হয়ে গেলে শুধু ব্যবসায়ী নয়, জীবিকা হারানোর শঙ্কায় পড়বেন শত শত শ্রমিক।
এছাড়াও হ্যাচারি থেকে রেনু পোনা বিক্রির উদ্দেশ্যে কোথাও যাওয়ার সময় পথের মধ্যে পড়তে হয় চাঁদাবাজদের কবলে। চিংড়ি হ্যাচারি মালিকরা এসব থেকে পরিত্রান পাওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আকুল আবেদন জানিয়েছেন।
পটুয়াখালীর কলাপাড়া সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, চিংড়ি হ্যাচারি ব্যবসায়ীদের সংকট নিরসনে বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।
তবে অবৈধ রেনু পোনা প্রবেশ ও নির্বিচার আহরণ বন্ধে দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে হারিয়ে যেতে পারে সম্ভাবনাময় এ চিংড়ি হ্যাচারি শিল্প।