মালয়েশিয়ায় হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়ার ১৮ দিন পর ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার গোবরাডাঙ্গা নিজ গ্রামে ফিরেছে নিহতের লাশ। প্রবাসী যুবকের নাম নজরুল ইসলাম (৩২)।
শনিবার (২ মে) সকালে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জের গোবরডাঙ্গা গ্রামে লাশ এসে পৌঁছায়। এঘটনায় গ্রাম জুড়ে চলছে শোকের মাতম। গত ১৪ এপ্রিল দিবাগত রাতে মালয়েশিয়ায় ওই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
শনিবার (২ এপ্রিল) সকাল ১০ টায় পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়েছে। এর আগে শুক্রবার দিবাগত রাতে মালয়েশিয়ান এয়ারলাইন্সের একটি বিমানে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লাশ পৌঁছে। এরপর আইনি প্রক্রিয়া শেষে রাত ৪ টার দিকে নিহতের স্বজনদের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়।
নিহতের স্বজনরা জানায়, মালয়েশিয়ায় ব্যবসায়িক বিরোধের জেরে নজরুল ইসলামকে (৩২) কুপিয়ে হত্যার পর মরদেহ পুড়িয়ে দেয় দুর্বৃত্তরা। একই ঘটনায় কোহিনুর বেগম নামে আরেক বাংলাদেশিকেও হত্যা করা হয়।
নিহত নজরুলের বাড়ি ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার গোবরডাঙ্গা গ্রামে। নিহত নজরুল ইসলাম ওই গ্রামের মোতালেব হোসেনের ছেলে।
২০১৮ সালে উন্নত জীবনের আশায় মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমিয়েছিলেন তিনি। এই হত্যাকাণ্ডের খবরে ও লাশ গ্রামে পৌঁছানোর পরে গ্রামজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। নিহতের পরিবারে চলছে শোকের মাতম।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মালয়েশিয়ায় একটি সমন্বিত খামার গড়ে তুলেছিলেন নজরুল ইসলাম। সেখানে গরু, ছাগল, হাঁস-মুরগির পাশাপাশি বিভিন্ন পোষা প্রাণী লালন-পালন করতেন তিনি। তার এই ব্যবসায়িক সাফল্যে ঈর্ষান্বিত হয়ে স্থানীয় অংশীদাররা তাকে হত্যার পরিকল্পনা করে।
নজরুল ইসলামের ভাই জহির উদ্দিন জানান, ব্যবসায়িক অংশীদারদের সঙ্গে নজরুলের বিরোধ চলছিল এবং তাকে এর আগেও কয়েকবার হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল। সবকিছু গুছিয়ে খুব শিগগির স্থায়ীভাবে দেশে ফেরার কথা ছিল নজরুলের। কিন্তু তার আগেই আমার ভাইকে হত্যা করা হয়েছে।
কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি জেল্লাল হোসেন জানান, ঘটনাটি বিদেশে হওয়ায় আমাদের কাছে সরাসরি কোনো তথ্য নেই। নিহত নজরুলের বাবা মোতালেব হোসেন ছেলের হত্যাকারীদের বাংলাদেশ সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছেন বলে শুনেছি।