ইরানের ১৪ দফা প্রস্তাবে সাড়া দিয়েছেন ট্রাম্প

প্রথম দফার আলোচনার পর ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দ্বিতীয় দফার বৈঠক এখনো আলোর মুখ দেখেনি। তবে দুই পক্ষের মধ্যে মধ্যস্থতা করে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে পাকিস্তান। ইসলামাবাদের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ১৪ দফা শান্তি পরিকল্পনা পেশ করেছে ইরান। দেশটির দাবি, শুধু সাময়িক যুদ্ধবিরতি নয়, বরং সংকট নিরসনে স্থায়ী সমাধানই তাদের মূল লক্ষ্য।

ইরানের বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজের তথ্যমতে, সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে ৯ দফার একটি শান্তি প্রস্তাব দিয়েছিল। তেহরান সেই প্রস্তাবের পাল্টা জবাবে এই ১৪ দফা পরিকল্পনা উপস্থাপন করে। পাকিস্তান সরকারের মধ্যস্থতায় এই কূটনৈতিক প্রক্রিয়াটি চলছে। ইরানের এই নতুন শান্তি পরিকল্পনায় বেশ কিছু কঠোর শর্ত জুড়ে দেয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে কোনো প্রকার সামরিক আগ্রাসন না চালানোর নিশ্চয়তা, ইরানের সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে সব মার্কিন বাহিনী প্রত্যাহার, তেহরানের ওপর নৌ-অবরোধ ও সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় প্রস্তাবে আছে।

পরিকল্পনাটি নিয়ে সাড়া দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক পোস্টে তিনি বলেন, ইরানের দেওয়া প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তবে এটি গ্রহণযোগ্য হবে কি না, তা নিশ্চিত নয়।

অপরদিকে, ওয়াশিংটনের সঙ্গে কূটনৈতিক পথেই হাঁটতে চায় তেহরান। তবে যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা করবে না সংঘাত বাড়াবে-এই সিদ্ধান্ত এখন তাদের হাতেই আছে বলে উল্লেখ করেছেন ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিভাবাদি। তিনি বলেন, চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধের স্থায়ী অবসানের লক্ষ্যে পাকিস্তানের কাছে একটি পরিকল্পনা জমা দিয়েছে ইরান। এখন বল যুক্তরাষ্ট্রের কোর্টে আছে। তারা কূটনীতির পথে হাঁটবে নাকি সংঘাত বজায় রাখবে, সেই সিদ্ধান্ত তাদেরই নিতে হবে।

এর আগে ফ্লোরিডায় ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দেন, ইরানের ওপর আবারও হামলা শুরু করতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। তিনি বলেন, ইরান ইস্যুতে আমরা খুব ভালো অবস্থায় আছি। তারা আমাদের সঙ্গে একটি চুক্তি করতে চায়। ইরান এখন পুরোপুরি দুর্বল হয়ে পড়েছে। তবে যদি তারা খারাপ আচরণ করে, তাহলে আবারও হামলা হতে পারে।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো হামলার জন্য তেহরান প্রস্তুত আছে বলে পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)। এক বিবৃতিতে তারা জানিয়েছে, শত্রুতা পুনরায় শুরু হওয়া সম্ভাব্য, কারণ কোনো চুক্তি বা সমঝোতার প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ নয় যুক্তরাষ্ট্র।