৫শ বছরের পুরোনো পালগিরি মসজিদ রক্ষায় স্মারকলিপি

চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার ঐতিহাসিক প্রায় ৫০০ বছরের পুরোনো পালগিরি মসজিদ রক্ষার দাবিতে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেছে চাঁদপুর ইতিহাস-ঐতিহ্য রক্ষা কমিটি। 

রবিবার বিকেলে চাঁদপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. এরশাদ উদ্দিনের কাছে এ স্মারকলিপি হস্তান্তর করেন সংগঠনটির আহ্বায়ক আলম পলাশ, সদস্য সচিব কাদের পলাশ, সদস্য আল ইমরান শোভন ও ইব্রাহিম রনিসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, কচুয়া উপজেলার গৌহাট ইউনিয়নে অবস্থিত পালগিরি মসজিদটি জেলার অন্যতম প্রাচীন ও গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় স্থাপনা। প্রায় পাঁচ শতাব্দী পুরোনো এই মসজিদটি স্থানীয় ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ধর্মীয় ঐতিহ্যের এক মূল্যবান নিদর্শন হিসেবে পরিচিত। জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন প্রকাশনাতেও এর ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে।

কিন্তু যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বর্তমানে মসজিদটির কাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো, মসজিদের সামনে স্থানীয় কিছু ব্যক্তি নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছেন, যা ঐতিহাসিক স্থাপনাটির সৌন্দর্য ও প্রাচীন স্থাপত্যশৈলীর ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এতে ধীরে ধীরে বিলীন হয়ে যেতে পারে এই ঐতিহ্যবাহী নিদর্শন—এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

সংগঠনের আহ্বায়ক আলম পলাশ জানান, পালগিরি মসজিদ শুধু একটি ধর্মীয় উপাসনালয় নয়, এটি চাঁদপুরের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এ ধরনের স্থাপনা ধ্বংস হয়ে গেলে তা দেশের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে দাঁড়াবে। তাই অবিলম্বে মসজিদটিকে সংরক্ষিত ঐতিহাসিক স্থাপনা হিসেবে ঘোষণা করে প্রয়োজনীয় সংস্কার, সংরক্ষণ ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

এ বিষয়ে কচুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান রাসেল জানান, বিষয়টি জানার পর সংশ্লিষ্ট স্থানে চলমান নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সংগঠনের সদস্য সচিব কাদের পলাশ বলেন, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে দেশের গুরুত্বপূর্ণ এই প্রত্নসম্পদ হারিয়ে যেতে পারে। তিনি সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।