বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) কেমিকৌশল বিভাগের প্রাক্তন শিক্ষক প্রফেসর ড. এম. সাবদের আলী সম্প্রতি 'ফুয়েল অ্যান্ড ফ্লুইড ল্যাবরেটরি' এর জন্য প্রায় ১ কোটি টাকা অনুদান করেছেন। এই অনন্য অনুদানের মাধ্যমে এই ল্যাবরেটরিকে পুনর্গঠন করে দুটি পৃথক ও বিশেষায়িত ল্যাবরেটরিতে রূপান্তর করা হয়েছে—যা বিভাগের প্রযুক্তিগত সক্ষমতাকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে।
ল্যাবরেটরিতে তরল, কঠিন এবং গ্যাসীয় জ্বালানির দহন ক্ষমতা (Calorific Value), সান্দ্রতা (Viscosity), এবং প্রজ্বলন বিন্দু (Flash and Fire Point) সম্পর্কিত পরীক্ষাগুলো অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে সম্পন্ন করা হয়।
এই আধুনিকায়নের ফলে এখন অনেক জটিল থার্মো-কেমিক্যাল রিঅ্যাকশন এবং ফুয়েল সিন্থেসিসের মতো কাজগুলো আরও নির্ভুলভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে। বিশেষ করে সাস্টেইনেবল এনার্জি বা বিকল্প জ্বালানি যেমন—বায়ো-ফুয়েল বা হাইড্রোজেন ফুয়েল সেলের গবেষণায় ল্যাবরেটরিটিতে এখন অটোমেটিক কার্ল ফিশার (KF) টাইট্রেটর, গ্যাসোলিনের জন্য অক্সিডেশন স্ট্যাবিলিটি অ্যানালাইজার, হাই-টেম্পারেচার ক্যালসিনেশন ফার্নেস, ASTM D86 ডিস্টিলেশন অ্যাপারেটাস, অটোমেটিক বোম্ব ক্যালোরিমিটার, কপার স্ট্রিপ করোশন অ্যানালাইজার এবং প্রিসিশন-কন্ট্রোলড ওয়াটার বাথের মতো অত্যাধুনিক ও উচ্চতর তাপীয় বিশ্লেষণধর্মী যন্ত্রপাতি যুক্ত হয়েছে।
রিয়েল-টাইম ডেটা লগার এবং সফটওয়্যার ইন্টিগ্রেটেড সেন্সরের মাধ্যমে এখন কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই জ্বালানির দহনের গতিপ্রকৃতি ও নির্গত গ্যাসের মাত্রা পরিমাপ করা যায়, যা আগে অত্যন্ত সময়সাপেক্ষ ছিল। এছাড়া উন্নত ভেন্টিলেশন এবং সেফটি ইন্টারলকের মতো নিরাপত্তা ব্যবস্থা স্থাপনের মাধ্যমে ল্যাবটির সামগ্রিক পরিবেশকে সরাসরি শিল্প-কারখানার মানদণ্ডে উন্নীত করা হয়েছে, যেখানে আগামী মাসগুলোতে আরও উন্নত প্রযুক্তি সংযোজনের পরিকল্পনা রয়েছে।
অধ্যাপক ড. এম. সবদের আলী বুয়েট অঙ্গনে একজন অত্যন্ত শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্ব। তিনি পূর্বে বুয়েটের ছাত্র কল্যাণ অধিদপ্তরের পরিচালক (ডিএসডব্লিউ) এবং আহসানুল্লাহ হলের প্রভোস্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে কোনো অবসরপ্রাপ্ত বা কর্মরত শিক্ষকের পক্ষে নিজ প্রতিষ্ঠানকে ব্যক্তিগতভাবে এত বড় অঙ্কের অর্থ দান করা এক অত্যন্ত বিরল ঘটনা। বুয়েটে প্রাক্তনী ও শিক্ষক-নেতৃত্বাধীন endowment সংস্কৃতি গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এই পদক্ষেপটি একটি মাইলফলক হিসেবে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছে।