ঢাবির হলে ‘গেস্টরুমের আমলনামা’ ব্যানার টানাল ছাত্রদল

গেস্টরুম ও গণরুম সংস্কৃতির বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরির অংশ হিসেবে মেসেঞ্জারের বিভিন্ন স্ক্রিনশট দিয়ে ‘গেস্টরুমের আমলনামা’ শিরোনামে একটি ব্যানার টানিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল শাখা ছাত্রদল।

ব্যানারে ইসলামী ছাত্রশিবির ও হল সংসদের নেতাসহ মোট ছয়জনকে গেস্টরুমের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে এবং তাদের কয়েকটি মেসেজের স্ক্রিনশটও দেখানো হয়েছে।

রবিবার (৩ মে) রাতে হলটির অতিথি কক্ষে এ ব্যানার টাঙানো হয়।

ছাত্রদলের হল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা বলছেন, হলের নবীন শিক্ষার্থীদের সচেতন করতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিগত সরকারের আমলে ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের হাতে গণরুম-গেস্টরুম নির্যাতনের কয়েকটি কথোপকথনের স্ক্রিনশট প্রকাশ করে কয়েকজন শিক্ষার্থী। পরবর্তীতে সেগুলো ব্যবহার করে ব্যানার টানান তারা।

কর্মসূচির বিষয়ে হল শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামসুল হক আনান বলেন, শিবির ছাত্রলীগের মধ্যে ‘গুপ্ত’ থেকে গেস্টরুম নেওয়া ও শিক্ষার্থীদের ওপর নির্যাতনের কাজ করত। এগুলো তাদের নিজেদের ‘বিশুদ্ধ ছাত্রলীগ’ প্রমাণ করার অন্যতম একটি পন্থা ছিল।

৫ই আগস্ট পরবর্তী সময়ে দেখা যায় যে, তাদের অধিকাংশই শিবির রূপে আত্মপ্রকাশ করে। তাদের এই ভণ্ডামি আমরা প্রমাণসহ গেস্টরুমে টাঙিয়ে দেয়, যেখানে দেখা যায় যে তারা কিভাবে শিক্ষার্থীদের ওপরে এই নির্যাতনগুলো করে নিজেরা ছাত্রলীগের সকল সুযোগ সুবিধা ভোগ করেছে, বলেন তিনি।

এ ঘটনায় মোট ৬ জনকে অভিযুক্ত করেছেন তারা। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন হল সংসদের সাংস্কৃতিক সম্পাদক মোহাম্মদ ইসমাইল সাদিক তাহছিন, কার্যনির্বাহী সদস্য তাসনিম রুবাইয়াত, আরাফ মাহমুদ, মো. হাসান আল বান্না, মুস্তাকিম রহমান এবং মাহমুদুল হাসান। মাহমুদুল হাসানকে জহুরুল হক হল ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি হিসেবে দাবি করেছে ছাত্রদল।

এ বিষয়ে হল ছাত্রদলের আহ্বায়ক হাসিবুর রহমান আসিফ বলেন, অতীতে ছাত্রলীগের পরিচয়ের আড়ালে থেকে কিছু ব্যক্তি গেস্টরুম নির্যাতনের সঙ্গে যুক্ত ছিল, যারা বর্তমানে একটি বিশেষ ছাত্রসংগঠনের পরিচয়ে সক্রিয় রয়েছে। এ ধরনের ব্যক্তিদের বিষয়ে নবীনদের সতর্ক করতেই পূর্ববর্তী ঘটনার তথ্য ও বিবরণ উপস্থাপন করা হয়েছে।