জীবন অনেকটা রোলারকোস্টারের মতো: বাবর আজম

ক্রিকেটে ফর্ম হারানোটা নতুন কিছু নয়, কিন্তু বাবর আজমের ক্ষেত্রে সেটি যখন ঘটে, তখন চারপাশ থেকে ধেয়ে আসে সমালোচনার ঝড়। বিশেষ করে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে তার আধুনিক ঘরানার ব্যাটিং বা স্ট্রাইকরেট নিয়ে প্রশ্ন তুলে তাকে এক প্রকার বাতিলের খাতায় ফেলে দিয়েছিলেন অনেকেই। গত মৌসুমে পেশোয়ার জালমির ইতিহাসের সবচেয়ে বাজে পারফরম্যান্স এবং সাম্প্রতিক টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে তার অনুজ্জ্বল উপস্থিতি সেই সমালোচনার আগুনে ঘি ঢেলেছিল।

কিন্তু বাবর বিশ্বাস করেন ভাগ্যে। শিরোপা জয়ের পর ট্রফি পাশে নিয়ে তিনি শান্ত কণ্ঠে বলেন, "আমি মনেপ্রাণে বিশ্বাস করি, ভাগ্যে যা লেখা আছে তা আপনি পাবেনই। এটা সময় নিতে পারে কিংবা খুব দ্রুতও আসতে পারে, কিন্তু একজনের সবসময় সর্বশক্তিমানের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকা উচিত।"

নিজের খারাপ সময় নিয়ে বাবর আজম লুকোচুরি করেননি। তিনি স্বীকার করেছেন, তিনি নিজেও নিজের ব্যাটিং নিয়ে তৃপ্ত ছিলেন না। তবে সেই আঁধার কাটিয়ে ওঠার মন্ত্রটা ছিল আত্মোপলব্ধি। বাবরের ভাষায়, "আমি নিজের প্রত্যাশা অনুযায়ী খেলতে পারছিলাম না, কিন্তু একজন ব্যাটারের জন্য মাঝেমধ্যে ছন্দে ফেরার লড়াই করাটা স্বাভাবিক। আপনাকে কয়েক ধাপ পেছনে ফিরে তাকাতে হবে এবং কোথায় ভুল হচ্ছে তা মূল্যায়ন করে সংশোধন করতে হবে।"

এই কঠিন সময়ে যখন সোশ্যাল মিডিয়া ট্রল আর বিশেষজ্ঞ মতামতে সয়লাব, তখন বাবর আশ্রয় খুঁজেছেন কাছের মানুষদের কাছে। তিনি বলেন, "এমন সময়ে সমর্থনের প্রয়োজন হয়, এবং আমার পরিবার ও ঘনিষ্ঠ বন্ধুরা আমাকে অনুপ্রাণিত রেখেছিল। জীবন অনেকটা রোলারকোস্টারের মতো, এবং পরিস্থিতি সবসময় একরকম থাকে না। আপনি আপনার ভালো ও খারাপ অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেন। এভাবেই জীবন চলে।"

সমালোচকরা যখন তাকে শুধু 'ওয়ানডে ব্যাটার' তকমা দিতে ব্যস্ত, বাবর তখন পিএসএল ২০২৬-এ ব্যাট হাতে দিয়েছেন তার যোগ্য জবাব। ১২ ইনিংসে ৫৪৪ রান (টুর্নামেন্টের যৌথ সর্বোচ্চ) করে তিনি প্রমাণ করেছেন, তিনি ফুরিয়ে যাননি। স্ট্রাইকরেট নিয়ে ওঠা প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন ১৪৫.৯০ স্ট্রাইকরেটে ব্যাট করে।

তিন ফরম্যাটে খেলা চালিয়ে যাওয়া নিয়ে প্রশ্নের পিঠে বাবর আত্মবিশ্বাসের সাথে বলেন, "আপনারা কী জিজ্ঞাসা করার চেষ্টা করছেন তা আমি জানি... আমার ফোকাস এখন তিন ফরম্যাটেই।" তিনি আরও যোগ করেন, "আমি মনে করি একজন ব্যাটারের সব ধরনের ক্রিকেট খেলা উচিত এবং নিজেকে শুধু সাদা বলের ক্রিকেটে সীমাবদ্ধ রাখা উচিত নয়। লাল বলের ক্রিকেট আপনাকে দীর্ঘ সময় ব্যাটিং করার শিল্প শেখায় এবং আপনার মধ্যে ধৈর্য তৈরি করে। এটি আপনাকে বুঝতে সাহায্য করে যে কীভাবে বড় রান করা যায়। আর লাল বলের খেলা থেকে প্রাপ্ত সমস্ত শিক্ষা আপনাকে সাদা বলের ক্রিকেটে সাহায্য করে।"