এবারের বিধানসভা নির্বাচনে হেরে হঠাৎ লাপাত্তা তৃণমূল প্রার্থী ও চলচ্চিত্র পরিচালক রাজ চক্রবর্তী। ভোট গণনা শেষে হওয়ার আগেই কেন্দ্র ছেড়ে বেরিয়ে গিয়েছিলেন ব্যারাকপুরের। রাজনৈতিক চরম উত্তেজনার দিনে এই দৃশ্যই যেন অনেক কিছু বলে দিল—ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণার আগেই পরাজয়ের ইঙ্গিত স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল তখনই।
গণনাকেন্দ্রের বাইরে এদিন পরিস্থিতি ছিল উত্তপ্ত। বিরোধী শিবিরের একাংশ ‘চোর’ স্লোগান দিতে শুরু করে, রাজের দিকে ছোড়া হয় কাদা মাটিও। দলীয় কর্মী-সমর্থকরা দ্রুত তাকে ঘিরে নিরাপত্তা বলয় তৈরি করলেও সাদা পাঞ্জাবিতে কাদার ছাপ পড়ে যায়। যদিও কোনো মন্তব্য না করেই সেখান থেকে বেরিয়ে যান তিনি—নীরবতাই যেন তার একমাত্র প্রতিক্রিয়া হয়ে ওঠে।
এই ঘটনার কিছুক্ষণের মধ্যেই রাজ্যের রাজনীতির আগামীর ছবিটা স্পষ্ট হয়ে যেতে শুরু করে। এরই মাঝে আরেকটি বিষয় ঘিরে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। আচমকাই খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না রাজ চক্রবর্তীর অফিশিয়াল ফেসবুক পেজ। এটি কি প্রযুক্তিগত ত্রুটি, নাকি ইচ্ছাকৃতভাবে সোশ্যাল মিডিয়া থেকে সরে দাঁড়ালেন তিনি—তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। যদিও এই বিষয়ে তার বা তার টিমের তরফে কোনও স্পষ্ট ব্যাখ্যা এখনও মেলেনি।
এবার ব্যারাকপুর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে দ্বিতীয়বারের জন্য লড়াইয়ে নেমেছিলেন রাজ। প্রচারের শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী ছিলেন। নিজের ছবির সাফল্যের অনুষঙ্গে ইঙ্গিত করে বলেছিলেন—৪ মে ‘প্রলয় ৩’ হবে। সেই বক্তব্য নিয়েই জোর প্রচারও চালিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু ভোটের ফল প্রকাশের দিন সেই ‘প্রলয়’ যেন উল্টো দিকেই ধাক্কা দিল তাঁর রাজনৈতিক জীবনে।
রাজের ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি, তিনি কেবল জনপ্রিয় মুখই নন, দক্ষ সংগঠক হিসেবেও পরিচিত। প্রচারে সেই ছাপও ছিল স্পষ্ট—কখনও সাধারণ মানুষের সঙ্গে সেলফি, কখনও সহজভাবে মিশে যাওয়ার চেষ্টা। ভোটের দিন বুথে না গিয়ে তাঁকে ক্যারাম খেলতেও দেখা গিয়েছিল, যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে কম আলোচনা হয়নি। তবে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন, বুথ পরিদর্শনে দিয়ে তিনি সাধারণ মানুষের মধ্যে কোনও প্রকার বিঘ্ন ঘটাতে চান না।