প্যারিসে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর অস্বাভাবিক মৃত্যু, তদন্তে ফরাসি পুলিশ

উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন নিয়ে ফ্রান্সে পাড়ি জমানো ২৪ বছর বয়সী বাংলাদেশি শিক্ষার্থী মহাদেব ঘোষের অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে প্যারিসে। তার এই মৃত্যু ঘিরে তদন্ত শুরু করেছে ফরাসি পুলিশ। ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের পাশাপাশি উদ্বেগও দেখা দিয়েছে।

নিহত মহাদেব ঘোষ ফ্রান্সের স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্যারিস বিজনেস স্কুলের এমবিএ প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, রবিবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হোস্টেল কক্ষ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে এটি অস্বাভাবিক মৃত্যু হিসেবে বিবেচনা করে আইনগত প্রক্রিয়া শুরু করে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। মৃত্যুর বিষয়টি প্রথমে নিশ্চিত করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টুডেন্ট কো-অর্ডিনেটর এমিলি। তিনি টেলিফোনে বিষয়টি জানান ফ্রান্স প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির পরিচিত ব্যক্তি আশরাফ ইসলামকে। পরে বিষয়টি দ্রুত কমিউনিটির মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে।

আশরাফ ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, মহাদেব ঘোষের মরদেহ প্যারিসের এইলদ ফ্রন্স এলাকার ৯২ ডিপার্টমেন্টের একটি হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য। সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, আগামী ১১ মে’র দিকে ফরেনসিক রিপোর্ট পাওয়া যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, কী কারণে ওই শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে ফরাসি পুলিশ বিস্তারিত তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। তদন্তের অংশ হিসেবে তার ব্যক্তিগত যোগাযোগ, স্বাস্থ্যগত অবস্থা এবং সাম্প্রতিক কার্যক্রমও খতিয়ে দেখা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মহাদেব ঘোষ ঝিনাইদহ জেলার কাটালাগাড়ি বাজার এলাকার বাসিন্দা। তিনি অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা শ্যামল কুমার ঘোষ ও সাগরদীপা ঘোষ রায় দম্পতির ছেলে। পরিবারের বড় আশা নিয়ে উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্যে তিনি ফ্রান্সে পাড়ি জমিয়েছিলেন।

প্রবাসে এক তরুণ বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর এমন আকস্মিক ও অস্বাভাবিক মৃত্যুতে পরিবার, স্বজন ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তার সহপাঠী ও পরিচিতজনদের মধ্যেও শোক ও বিস্ময় কাজ করছে।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ফরেনসিক রিপোর্ট প্রকাশের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে এবং সে অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের একাধিক রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনা জনমনে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে প্রবাসে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, মানসিক স্বাস্থ্য ও সার্বিক সহায়তা ব্যবস্থার বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। এসব ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।