ভ্রমণের জন্য পরিবেশ এবং আবহাওয়া দুটোই আমাদের অনুকূলে ছিল। আমাদের পাঁচ বন্ধুর এবারের ভ্রমণ স্পট ছিল মিরসরাইয়ের মহামায়ায়। যেহেতু মহামায়ায় যাচ্ছি তাই বন্ধু মুন্নার বাড়িতে আতিথেয়তা নিলাম। কবির, নাহিদ, আবেদ, মুন্না এবং আমি। আমরা পাঁচ বন্ধু মিলে চট্টগ্রামের একেখান থেকে একদিন আগে সন্ধ্যায় রওনা দিলাম মিরসরাইয়ের দিকে। কারণ বন্ধু মুন্নার বাড়িতেও দাওয়াত। যাইহোক আমরা একেখান থেকে জনপ্রতি ১০০ টাকা করে বাসে উঠলাম। নামলাম মিরসরাইয়ের নিজামপুর কলেজের সামনে। বলে রাখা ভালো, মহামায়ার সামনে নামলেও ভাড়া একই নেবে বাসে।
আমরা আপাতত মুন্নার বাড়িতে যাচ্ছি। মিরসরাইয়ের পদুয়া বাজারে নামলাম। সেখান থেকে সিএনজি নিয়ে বন্ধুর বাড়িতে এসে পৌঁছালাম। সেখানে রাত থেকে পরের দিন সকালে ঘুম থেকে উঠেই আমরা গেলাম মহামায়া লেকে। আমরা মিরসরাইয়ের ঠাকুরদিঘির পাড়ের ঠিক উল্টো পাশে এলাম। তারপর জনপ্রতি ১৫ টাকা দিয়ে সিএনজিতে করে চলে এলাম মহামায়া ইকো পার্কের গেটে। আপনি চাইলে হেঁটে যেতে পারেন। এবার গেট থেকে টিকিট কাটার পালা। জনপ্রতি টিকিট পড়বে ৩০ টাকা। এই লেকে এসেই মায়ায় পড়ে গিয়েছি। চারদিকের সবুজের সমারোহ মুগ্ধ করেছে। আশপাশে মাঝারি উচ্চতার পাহাড়ের দেখা মিলবে। মাঝখান দিয়ে চলে গেছে মহামায়া লেকে যাওয়ার রাস্তাটি। এই রাস্তা ধরে ১০ মিনিট হাঁটলেই পৌঁছে যাবেন কাক্সিক্ষত মহামায়া লেকে। এই লেকে আছে কায়াকিং করার সুবিধা। আমরা পাঁচ বন্ধু মিলে কায়াকিং করলাম। আমার জীবনের সেরা মুহূর্ত গুলোর একটি হয়ে রয়ে গেল।
লেকের চারপাশের পরিবেশ ছিল অসম্ভব সুন্দর। হালকা সবুজাভ স্বচ্ছ পানি, পানির ওপর চারদিকের সবুজ পাহাড়ের প্রতিচ্ছবি, অসাধারণ প্রতিটি দৃশ্য। আপনি চাইলে তাঁবুতে রাতে ক্যাম্পিং করে থাকতে পারেন এখানে। এক্ষেত্রে অবশ্যই অনুমতি নিতে হবে কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে। লেকের পাড়ের নির্মল আর বিশুদ্ধ বাতাস আপনার শরীর ও মনকে মুহূর্তেই সতেজ করে তুলবে।
চারপাশ ঘুরে বেড়ানোর সময় দেখা মিলল প্রকৃতির নানান দৃশ্য আর বিভিন্ন প্রাণী। বেশ কিছু ছবি আর ভিডিও করে ফেরার পথ ধরলাম। ফিরে এলাম বন্ধুর বাড়িতে। ফ্রেশ হয়ে খাওয়া-দাওয়া করে বন্ধুর বাড়ির সবাইকে বিদায় দিয়ে পাঁচ বন্ধু মিলে রওনা দিলাম মিরসরাইয়ের পথে। ফেরার সময় মনে হলো, বন্ধুর বাড়ির সবাইকে বিশেষ করে মুন্নার বাবা-মাকে। এমন আতিথেয়তা জীবনে ভোলার মতো নয়। একই সঙ্গে মহামায়ার মায়া তো আছেই।
যাত্রা খরচ
মহামায়া ইকো পার্কে প্রবেশের জন্য জনপ্রতি ৩০ টাকা দিতে হয়। লেকে কায়াকিং করার সুবিধা আছে। একটা কায়াকে দুজন এবং তিনজন বসতে পারবেন। প্রতি ঘণ্টার কায়াকিং ভাড়া ৩০০ টাকা, ৩০ মিনিটের জন্য ভাড়া ২০০ টাকা। শিক্ষার্থী হলে ডিসকাউন্ট পাবেন সে ক্ষেত্রে এক ঘণ্টার জন্য দিতে হবে ২০০ টাকা এবং ৩০ মিনিটের জন্য ১৫০ টাকা। কায়াকিং করা যায় সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫:৩০ পর্যন্ত যেকোনো সময়। এছাড়াও লেকে ঘুরে বেড়ানোর জন্য ইঞ্জিন বোট আছে। ৮ থেকে ১০ জন নিয়ে ঘুরে বেড়াতে সক্ষম নৌকা এক ঘণ্টা ঘুরিয়ে দেখাবে আশপাশে ঝরনাসহ ভাড়া ৫০০ থেকে ১০০০ টাকা। ১৫-২০ জন নিয়ে ঘুরে বেড়াতে সক্ষম ইঞ্জিন নৌকা ভাড়া করতে এক ঘণ্টার জন্য লাগবে ১২০০-১৫০০ টাকা।
খাওয়া-দাওয়া
পার্কে খাওয়া-দাওয়ার ব্যবস্থা নেই। নিজ থেকে খাবার নিয়ে যেতে হবে। ঠাকুরদিঘি বাজারে ছোট হোটেল আছে দেশি খাবার খেতে পারবেন। মিরসরাই ও সীতাকুন্ড বাজারে গেলে মোটামুটি মানের আরও কিছু খাওয়ার হোটেল পাবেন সেখান থেকে খেয়ে নিতে পারবেন।
থাকবেন কোথায়
মিরসরাইয়ে থাকার মতো তেমন ভালো কোনো আবাসিক হোটেল নেই। থাকতে চাইলে মিরসরাইয়ের কাছে সীতাকু-ে কিছু সাধারণ মানের হোটেল আছে সেখানে থাকতে পারবেন। তবে আরও ভালো কোথাও থাকতে চাইলে আপনাকে চট্টগ্রাম শহরে চলে যাওয়াই উত্তম। মিরসরাই থেকে চট্টগ্রাম যেতে দেড় ঘণ্টার মতো লাগবে। চট্টগ্রামের একেখান-অংলকার এলাকায় ভালো মানের থাকার মতো হোটেল পাবেন। অথবা চট্টগ্রামের নিউমার্কেটের স্টেশন রোড এলাকায় বিভিন্ন মানের হোটেল আছে, পছন্দ মতো কোনো এক হোটেলে রাত্রিযাপন করতে পারেন।
যেভাবে যাবেন
আপনি যে জায়গা থেকেই যাবেন না কেন, আপনাকে মিরসরাইয়ের ঠাকুরদিঘি বাজারে যেতে হবে। সেখান থেকে দুই কিলোমিটার পূর্ব দিকে অবস্থিত মহামায়া লেক। ঠাকুরদিঘি থেকে জনপ্রতি ২০-২৫ টাকা সিএনজি ভাড়ায় চলে যেতে পারবেন মহামায়া ইকোপার্কের মেইন গেটে।