গ্রাহক পর্যায়

বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব দেওয়া শুরু

গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব জমা পড়তে শুরু করেছে। গতকাল মঙ্গলবার বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) কাছে একটি বিতরণ কোম্পানি দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব দিয়েছে। অন্য কোম্পানিগুলোও দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব তৈরি করছে বলে জানা গেছে।

বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ জানান, মঙ্গলবার নর্দান ইলেক্ট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি (নেসকো) প্রথম বিদ্যুতের খুচরা দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব দিয়েছে। তবে কোম্পানিটি নির্দিষ্ট কোনো অঙ্ক উল্লেখ না করে পাইকারি বা বাল্ক মূল্য বৃদ্ধির আনুপাতিক হারে দাম বাড়ানোর কথা বলেছে। চেয়ারম্যান জানান, পিডিবিও তাদের প্রস্তাবে খুচরা দাম বৃদ্ধির বিষয়টি উল্লেখ করেছে। তবে ঠিক কতটা বৃদ্ধি প্রস্তাব করা হয়েছে, তা হিসাব না করে বলা যাচ্ছে না।

খুচরা বা গ্রাহক পর্যায়ে দাম কতটা বাড়তে পারে এ বিষয়ে জানতে চাইলে চেয়ারম্যান বলেন, অনেক দিন বিইআরসি দাম বাড়ায়নি। ফলে এখন কতটা বাড়তে পারে, তা বলা যাচ্ছে না।

প্রসঙ্গত, আগে দেখা গেছে পাইকারি বিদ্যুতের দাম যতটা বাড়ে, গ্রাহক পর্যায়ে সর্বোচ্চ তার ৬০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়। পিডিবি বলছে, বর্তমানে বিদ্যুতের গড় উৎপাদন খরচ ১২ টাকা ৫০ পয়সা। এর বিপরীতে তারা পাইকারি বিদ্যুৎ বিক্রি করছে ৬ টাকা ৯৯ পয়সায়। উৎপাদন খরচ ও পাইকারি মূল্যের এই ব্যবধান ভর্তুকির মাধ্যমে সমন্বয় করা হয়।

নিয়ম অনুযায়ী, সাধারণত দেশের সব উৎপাদিত বিদ্যুৎ পিডিবি কিনে নেয়। এরপর পিডিবি তা বিতরণ কোম্পানিগুলোর কাছে বিক্রি করে, এবং সেগুলো গ্রাহকদের কাছে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে। সবগুলো বিতরণ কোম্পানিই সরকারি।

বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বিদ্যুতের দাম না বাড়িয়ে ভর্তুকি দেওয়ার ঘোষণা দেয়। নির্বাচনের ১২ দিন পর, ২৪ ফেব্রুয়ারি বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে দাম না বাড়ানোর ঘোষণা দেন। ওই বৈঠকে প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতও উপস্থিত ছিলেন। তবে এ ঘোষণার ৪২ দিনের মাথায় বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির জন্য একটি মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করা হয়।

গত ১৩ এপ্রিল অর্থমন্ত্রীকে আহ্বায়ক করে গঠিত এই কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী, বাণিজ্য মন্ত্রী, অর্থ বিভাগের সচিব, বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব এবং জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের সচিব।

মন্ত্রিসভা কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে পিডিবি বিদ্যুতের পাইকারি দাম ১ টাকা ২০ পয়সা থেকে দেড় টাকা পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব দেয়। প্রচলিত রীতি অনুযায়ী, পিডিবি প্রস্তাব তৈরি করে বিদ্যুৎ বিভাগের কাছে পাঠায়, এবং বিভাগ অনুমোদন দিলে তা বিইআরসির কাছে পাঠানো হয়।

মঙ্গলবার পিডিবির সদস্য (অর্থ) অঞ্জনা খান মজলিশ দেশ রূপান্তরকে বলেন, দাম বৃদ্ধির প্রস্তাবের বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না।

পিডিবির বাল্ক বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির সঙ্গে সমন্বয় করে গ্রাহক পর্যায়ে দাম বাড়ানো হয়। সবশেষ ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে আওয়ামী লীগ সরকার বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি করে। তখন বিইআরসিকে পাশ কাটিয়ে সরকারের নির্বাহী আদেশে কয়েক দফায় দাম বাড়ানো হয়। সর্বশেষ সাড়ে ৮ শতাংশ বাড়িয়ে বিদ্যুতের দাম সø্যাবভেদে ইউনিটপ্রতি ৪ টাকা ৬৩ পয়সা থেকে ১৪ টাকা ৬১ পয়সা নির্ধারণ করা হয়।

খুচরা দাম বৃদ্ধির প্রস্তাবের বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকার একাংশের বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানি ডেসকোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শামীম আহমেদ জানান, ‘আমরা প্রস্তাব তৈরি করছি। খুব শিগগিরই আমাদের প্রস্তাব বিইআরসির কাছে পাঠাব।’

একই বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জের একাংশ নিয়ে গঠিত ডিপিডিসির নির্বাহী পরিচালক (অর্থ) হায়দার আলী বলেন, ‘এখনো বিইআরসি তাদের কাছে প্রস্তাব চায়নি। প্রস্তাব চাইলেই তারা পাঠিয়ে দেবে।